DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

সারাদেশে শেষ সময়ের প্রচারণায় প্রার্থীরা

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৪০ | আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:০৯
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। আগামীকাল শুক্রবার সকাল থেকেই প্রচার-প্রচারণা বন্ধ। তার আগে সারাদেশে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। মিছিল আর স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শহরের রাজপথ থেকে গ্রামীণ মেঠোপথ।

প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভোটারের মন জয় করতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থী ও কর্মীরা। দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি। সূর্য উঠার আগেই ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়ছেন ভোট চেয়ে। চলছে মাইকিং।

সাদা-কালো পোস্টারে সয়লাব চারপাশ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রধান দুই জোট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ মোট ৩৯টি দলের প্রার্থীরা নেতাকর্মী, সমর্থকদের নিয়ে দিনরাত এক করে মানুষের কাছে ছুটছেন।

সারাদেশে ৩০০ আসনে মোট ১ হাজার ৮৪৮ জন প্রার্থীর কেউ বসে নেই ঘরে। জমজমাট প্রচারে সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা শহরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

বিভাগীয় শহরগুলো যেমন সরগরম, তেমনি ৬৪ জেলার প্রতিটি গ্রামও জেগে উঠেছে ভোটের ডাকে। ৩০ ডিসেম্বর জয়ই এখন সব প্রার্থীর একমাত্র লক্ষ্য।

সারাদেশ থেকে আরটিভি অনলাইনের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:-

কিশোরগঞ্জ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ৬ টি আসনের মধ্যে এবার তিনটি আসনে তিন রাষ্ট্রপতির পুত্র  মনোনয়ন পেয়েছেন। কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনে প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের পুত্র নাজমুল হাসান পাপন, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বতর্মান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের পুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক মনোনয়ন পেয়েছেন। পাপন ও তৌফিক প্রচারণার মাঠে রয়েছেন। তবে অসুস্থ্যতার কারণে মাঠে না থাকলেও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সিলেট: এ বিভাগের চার জেলার মোট ১৯ আসনে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছে সব দল। বিশেষ করে সিলেট নগরী নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনের ভোটের মাঠ বিশেষ নজর কেড়েছে। সম্প্রীতির এই নগরে পাশাপাশি প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের আলোচিত প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বড়দিনের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে তাদের কেট কাটার দৃশ্য দেশবাসীকে অভিভূত করেছে। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে তাদের পোস্টার-ব্যানার। এ অবস্থায় সিলেটে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম বলেন, দু-একটি অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ থাকলেও সব মিলে উৎসবমুখর পরিবেশেই প্রচার চলছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, সিলেটে তাদের সব প্রার্থীই মাঠে আছেন। কোনও হামলা, সংঘর্ষ হয়নি। তবে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তার।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সামনে সিলেট-৩ আসনের সব প্রার্থীর পোস্টার শোভা পাচ্ছে। এমনভাবে সিলেট বিভাগের প্রত্যেক আসনেই আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক দলের প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারের মাঠে সমানতালে রয়েছেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা, মামলা-হামলা বাদ দিলে এখানে প্রচারে পিছিয়ে নেই বিএনপি।

চট্টগ্রাম: বাধা উপেক্ষা করেই চট্টগ্রাম মহানগরীর ছয়টি আসনে গণসংযোগে সরব আছেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এবং তাদের নেতাকর্মীরা। আর দিনরাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। 

বন্দর-পতেঙ্গা আসনে ধানের শীষ প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল পর্যন্ত তার এলাকার ১০টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই গণসংযোগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সল্টগোলা ক্রসিং ও ইপিজেড এলাকায় ভোট চাইবেন তিনি। একইভাবে ডবলমুরিং-পাহাড়তলী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান। কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন কারাগারে থাকলেও তার পক্ষে বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ও পেশাজীবী নেতারা প্রতিদিন গণসংযোগ করছেন। নোমান-খসরু দুজন গিয়েও শাহাদাতের পক্ষে কোতোয়ালিতে ভোট চেয়েছেন। বোয়ালখালী-বাকলিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানও গণসংযোগ দিয়ে সরব আছেন ভোটের মাঠে। একাধিকবার হামলার অভিযোগ করলেও মাঠ ছাড়েননি হাটহাজারী আসনে বিএনপি জোটের কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। সীতাকুণ্ডেও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী ইসহাক চৌধুরী। আমীর খসরু বলেছেন, তারা জয় নিয়েই ঘরে ফিরবেন।

খুলনা: খুলনা বিভাগে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা। তবে কিছু আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি। খুলনা বিভাগের অনেক আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা সমানতালে প্রচার চালাচ্ছেন।এর মধ্যে খুলনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। পরে ধানের শীষের গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল দিনভর গণসংযোগ করেন। তবে খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল তাকে অবরুদ্ধ করে তার নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছেন।

নড়াইলেও ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন দুই দলের প্রার্থীরা।নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওয়ানডে ক্রিকেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সকাল থেকে গণসংযোগ ও পথসভা করে ব্যস্ত সময় পার করেন। মাগুরা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী গতকাল গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার গতকাল শালিখার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। মাগুরা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জেলে থাকলেও তার পক্ষে এলাকায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

কুষ্টিয়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান রুমি গতকাল বুধবার কুমারখালী ও খোকসার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীও।

যশোর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সদরের হাশিমপুর এলাকায় প্রচার চালান। পরে তিনি যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশি ধরপাকড়ের কারণে সঠিকভাবে প্রচার চালাতে পারছেন না। গতকাল গণসংযোগ থেকে জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ সদরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

রাজশাহী: রাজশাহী শহরে জমে উঠেছে ভোটের উৎসব। নগরীর উপশহর মোড় এলাকায় রাস্তার উত্তরে মহাজোট প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা আর দক্ষিণে বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর নির্বাচনী কার্যালয়। দুটি কার্যালয়েই নেতাকর্মী-সমর্থকে ঠাসা। মাইকে বাজছে দু'জনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারের গান। পোস্টার-ব্যানারসহ পুরো শহরেই ভোটের আমেজ। মিনু কয়েকদিন ধরেই বড় বড় প্রচার মিছিল বের করছেন।তিনি বলেছেন, আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।

শেষ সময়ে এসে নওগাঁর সদর আসনে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলুর আশা, তারাই বিজয়ী হবেন। নাটোর-১ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী নিয়ে জটিলতার কারণে মাঠে ছিল না বিএনপি। ভোটের তিন দিন আগে মাঠে নেমেই প্রচার শুরু করেছেন দলটির প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরিন। আগে থেকেই মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুলসহ (নৌকা) এ আসনের মোট ছয় প্রার্থী।

বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে যে ছয়টিতে দলীয় প্রার্থী রয়েছে তার মধ্যে এখন পর্যন্ত বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনেই কেবল বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বাকি চারটি আসনের মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) এবং বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে একাধিক হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে।

সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের গণসংযোগে বাধা দেয়ার অভিযোগ করলেও তারা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, সেনা সদস্যরা মাঠে নামার পর পাবনার পাঁচটি আসনে ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে মাঠে প্রচার শুরু করেছেন। তবে পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হওয়া ছাড়া অন্য চার প্রার্থী গতকাল বুধবার নির্বিঘ্নে প্রচার চালিয়েছেন।

রংপুর: শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরগরম রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় রাত-দিন এক করে নিজ প্রতীকে ভোট চাইছেন প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত অবধি চলছে গণসংযোগ। রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনে মহাজোটের প্রার্থী মসিউর রহমান গতকাল বিকেলে ঢাকা থেকে এসে তার সংসদীয় আসনের হাজীরহাটে পথসভা করেন। প্রচারে পিছিয়ে থাকলেও শেষ চেষ্টা করছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের শাহ রহমত উল্লাহ। রংপুর বিভাগের অন্য সব আসনে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ভোট চাইছেন মহাজোট প্রার্থীরা।অন্যদিকে, নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে শেষ সময়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি প্রার্থীরা।

ময়মনসিংহ: ময়মসিংহের ১১টি নির্বাচনী এলাকায় শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচার চলছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণায় অংশ নিলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ময়মনসিংহ-৪ (সদর) ও ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) ছাড়া অন্য এলাকায় বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়