• ঢাকা শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬

খালেদা প্রার্থী হতে না পারলে সম্ভাবনা দুই পুত্রবধূর, নাকি কপাল খুলবে অন্যদের

জি এম সজল, বগুড়া
|  ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৬ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:৫২
বিএনপি নির্বাচনে এলেও দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই মামলার দণ্ড নিয়ে কারাগারে আটক থাকায় তার জন্য দলীয়ভাবে সংরক্ষিত বগুড়ার দুই আসনে কে বা কারা প্রার্থী হচ্ছেন এমন প্রশ্ন এখন ওই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই নন, জেলায় ওই দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও বিষয়টি জানার জন্য উৎসুক হয়ে পড়েছেন। কেননা আইনি জটিলতায় খালেদা জিয়া কিংবা অন্য কোনও কারণে তার পরিবারের সদস্যদের কেউ যদি নির্বাচনে অংশ না নেন তাহলে বগুড়ার স্থানীয় নেতাদের বেছে নেওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প থাকবে না।

western তখন প্রার্থিতার দৌড়ে যাতে পিছিয়ে পড়তে না হয় সেই ভাবনা থেকেই স্থানীয় নেতাদের এখন থেকেই পুরো পরিস্থিতির ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া-৭ আসনভুক্ত গাবতলী উপজেলায়। যে কারণে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সবগুলা নির্বাচনে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পরবর্তীতে তিনি পাশের বগুড়া-৬ (সদর) আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০১ সালে নির্বাচনে তিনি বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের দণ্ড নিয়ে চলতি বছরের  আট ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া।

এরপর গেল ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালত তাকে নতুন করে সাত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া পাঁচ বছরের সাজা উচ্চ আদালত বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান বলেন, ম্যাডামের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ এখনও রয়ে গেছে। আমরা আশা করছি বরাবরের মতো তিনিই বগুড়ার দুটি আসনে নির্বাচন করবেন।

খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেক্ষেত্রে কে বা কারা নির্বাচন করতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের পার্লামেন্টারি বোর্ড নির্ধারণ করবেন।

তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামও। তিনি বলেন, আমরা নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি।

শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যেভাবে নির্দেশ দিবেন আমরা সেভাবেই কাজ করব।

বগুড়া এবং ঢাকায় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দুটি মামলায় দণ্ডিত হলেও তারা খালেদা জিয়ার প্রার্থিতার ব্যাপারে এখনও আশাবাদী। তারা মনে করছেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামীতে রাজনীতিতে ইতিবাচক বেশকিছু বিষয় দৃশ্যমান হতে পারে। যার ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার প্রার্থিতার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে কোনও কারণে খালেদা জিয়া প্রার্থী হতে না পারলে দুটি বিকল্প ভেবে রাখা হয়েছে। এক  লন্ডনে নির্বাসিত তার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রার্থী করা অথবা বগুড়ায় দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতাকে দাঁড় করানো।

তবে ঢাকায় অবস্থানরত বগুড়া বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের এই মুহূর্তে দেশে আসা কিংবা তার প্রার্থিতার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পাসপোর্ট সমস্যার কারণেই ডা. জোবায়দা রহমান দেশে আসতে পারবেন না। একই কারণে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি তাকে দেখতে আসতে পারেননি। বরং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের দেশে এসে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া এমনকি তার প্রার্থী হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি না আসলে বা প্রার্থিতার ব্যাপারে সম্মত না হলে স্থানীয় নেতাদেরকেই বেছে নেওয়া হবে।

সেক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু (বগুড়া-৭ আসনে) এবং বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমানের (বগুড়া-৬ আসনে) প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই দুই শীর্ষ নেতার পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বগুড়া-৭ আসনের জন্য গাবতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিল্টন ও শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদলও আগ্রহী। প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে প্রার্থী হব। তবে জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়