
সীমান্ত জনপদ সিলেট-৫ আসনে জোটের প্রয়োজনে গেল দুবার জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এবার ছাড় দিতে নারাজ তারা। আর সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বাইরেও একাধিক প্রার্থী দলের টিকিট পেতে মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কোন্দলে নাজুক অবস্থায় বিএনপি।
সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ আট হাজার ৬১৬ জন। এ আসনে সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী না হওয়ায় গেলবার মহাজোটের আসন বণ্ঠনের সমীকরণে সাংসদ নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন। তবে এবার জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী।
সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন বলেন, জোটগত নির্বাচন হলে, সেক্ষেত্রে মননীয় চেয়ারম্যান আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছে জকিগঞ্জ কানাইঘাট থেকে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তি
-------------------------------------------------------
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, এই আসন আওয়ামী লীগের আসন। পুনর্বার এই আসনে আমার নেত্রী অন্তত কোনও ধরনের বিভ্রান্তিতে পরবেন না।
জোট গঠনের পর থেকেই সবকটি নির্বাচনে জামায়াতকে এ আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।কিন্তু এবার তারাও বেঁকে বসেছে।
কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, সব মামলা মোকদ্দমা যা কিছু আছে, আমার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সব করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এখানে অন্য কারও বিষয় প্রাধান্য পাবে না।
সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাপলু বলেন, দলের সাংগঠনিক পর্যায়ে আমি তাদের আস্থার মধ্যে আছি, তাই আমি আশাবাদী।
এদিকে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসনে টানা দুইবারসহ তিনবারের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তবে এবার কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার হোসেন ছাড়াও বেশ কয়েকজন এলাকায় জনসংযোগ করছেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, মনোনয়ন বোর্ড আছে। আমাদের নেত্রী আছেন। তারা নির্ধারণ করবে এখানে কে প্রার্থী হবে। সব মিলিয়ে আমি চেষ্টা করেছি এখানে আমার সাধ্যমত কাজ করার জন্য।
কানাডা আওয়ামী লীগ সভাপতি সারওয়ার হোসেন বলেন, নেত্রী যদি আমাকে দেন আমি কাজ করব, নেত্রী আবার যদি অন্য কাউকে দেন তাও আমি কাজ করে যাব।
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন দলের অনুগ্রহ কামনা করছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম বলেন, নির্বাচনের মনোনয়নের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী, আমি দীর্ঘ দুবছর যাবত সিলেট জেলার দায়িত্ব পালন করে আসছি।
সিলেট জেলা ছাত্রদল সাবেক আহ্বায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, আমাকে যদি এ দুই আসনের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেয়া হয়, তবে ইনশাল্লা এলাকার জনগণের সঙ্গে আছি থাকবো।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিন লাখ ৭১ হাজার ৯০৩ জন ভোটারের এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৪ বার এবং দুইবার করে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে আগামী নির্বাচনে সৎ ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে পেতে চান ভোটাররা।
আরও পড়ুন :
জেএম/জেবি




