logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

ভোটের হাওয়া: রাজশাহী ১ ও ৬

জয় পেতে মরিয়া আ.লীগ, বিএনপি চায় হারানো আসন পুনরুদ্ধার (ভিডিও)

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী ১ ও ৬ নম্বর আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির পক্ষে মাঠে নেমেছেন একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। এই দুই আসনে বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নকে হাতিয়ার করে জয় পেতে চান আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আর বিএনপি চায় হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে।

সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল গোদাগাড়ী এবং তানোর নিয়ে গঠিত এখানকার ১ নম্বর সংসদীয় আসন। এ আসনে তিন লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ এবার ভোটার রয়েছেন।

স্বাধীনতার পর এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান হেনা। এরপর আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মহসিন, জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবর রহমান, জাতীয় পার্টির দুরুল হোদা একবার করে এমপি নির্বাচিত হলেও ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একটানা সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। এ আসনে ২০০৮ সাল থেকে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচন হন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী।

বর্তমান এমপি ছাড়াও এ আসনে এবার নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে শক্ত দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী ও একইসঙ্গে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মতিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন।

বর্তমান এমপি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যার পক্ষে রয়েছে তাকেই এবার মনোনয়ন দেয়া হবে। তার কথার উপর আমার আস্থা আছে।

মুণ্ডমালা পৌরসভার মেয়র ও তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী জানান, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। নৌকা মার্কা যদি আমি পাই তবে তৃণমূল থেকে শুরু করে দলমত নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মতিউর রহমান বলেন, এখানকার মানুষের মনে নানান প্রশ্ন রয়েছে, এখানকার উন্নয়ন নিয়ে, এখানকার জঙ্গি উত্থানের সময় তাদের কার্যকলাপ নিয়ে। এই আসনে প্রার্থী হতে চান আমি ছাড়াও আরও সাতজন। বর্তমান এমপিসহ তারা সবাই ভালো মানুষ, তবে মানুষের চাওয়া পাওয়ার মধ্যে তারতম্য রয়েছে। আমি এলাকার প্রতিটি জায়গায় গিয়েছি, তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি আমি তাদের ঘরের লোক। তৃণমূল এবার আমাকেই চাইছে।

এদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছাড়াও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব জহুরুল ইসলাম, বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান খান মার্কনী, আমেরিকা প্রবাসী সাহাদত হোসেন শাহিদ এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

জানা যায়, বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে বিভিন্ন মামলা থাকায় এলাকায় আসতে না পারলেও যোগাযোগ রাখছেন বিভিন্নভাবে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান খান মার্কনী জানান, এবার ধানের শীষকে মানুষ বিজয়ী করবে। দল তাকে ছাড়া যাকেই মনোনয়ন দিক তার জন্যই দলগতভাবে কাজ করবেন এই মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সীমান্তবর্তী এবং ঐতিহ্যবাহী এলাকা রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসন। এখানে রয়েছে বাঘা মসজিদ, সারদা পুলিশ একাডেমি, সারদা ক্যাডেট কলেজসহ দুটি উপজেলায় তিনটি পৌরসভা। এ অঞ্চলে এবার মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪ হাজার ১২ জন।

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির ক্ষমতার পালাবদল হলেও দীর্ঘ সময় বিএনপির দখলে ছিল এ আসনটি। এখানে এবার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য মনোনয়নে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। সব প্রার্থীরাই রয়েছেন বেশ তৎপর। আর বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায়। পাশাপাশি জাতীয় পার্টিরও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রয়েছেন সক্রীয়।

এখানে দুইবারের এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের

নেতা শাহরিয়ার আলম বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু ও চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি রায়হানুল হক রায়হান দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ চায় জয়।

পরপর দুইবারের এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতা শাহরিয়ার আলম আশা করছেন, যে উন্নয়ন আগে কখনো হয়নি তা তিনি ও তার সরকার ১০ বছরে করেছেন। তাই এবারো নৌকার বিজয় উপহার দলীয় সভানেত্রীকে তিনি দিতে পারবেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ যদি মনোনয়ন পান তার পক্ষেই তিনি কাজ করবেন বলে জানান শাহরিয়ার আলম।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, আমাকে মনোনয়ন দিলে বিজয় নিশ্চিত এই আসনটিতে।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি নূরুজ্জামান খান মানিক, চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বজলুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু। শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সাঈদ চাঁদ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় নুরুজ্জামান মানিক রয়েছেন শক্ত অবস্থায়।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ আসন দুইজন মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন রিন্টু ও আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন।

আরও পড়ুন :

জেবি/এসএস

RTV Drama
RTVPLUS