logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

ভোটের হাওয়া: লক্ষ্মীপুর ৩ ও ৪ আসন

আ. লীগের হাতিয়ার উন্নয়ন, প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি

পলাশ সাহা, লক্ষ্মীপুর, আরটিভি অনলাইন
|  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৭ | আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:০৪
লক্ষ্মীপুর-৩ ও ৪ আসনেও লেগেছে, সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। জেলার-৩ নম্বর আসনে একাধিক প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় বড় দু’দল। অন্যদিকে, ৪ আসনে, সরকারের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে বিজয়ের লক্ষে এগিয়ে যেতে চায় আওয়ামী লীগ। আর বিএনপির লক্ষ্য হারানো আসন পুনরুদ্ধার। 

জানা গেছে, বিএনপি’র দুর্গ হিসেবে খ্যাত মেঘনা উপকূলীয় এলাকা লক্ষ্মীপুরে আঘাত হানতে চলেছে আওয়ামী লীগ। সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মাঠে রয়েছে আওয়ামীলীগ। এদিকে আসন ফিরে পেতে তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি।  অন্যান্য দলগুলোর রয়েছে নানা অভিযোগ তবুও দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনাই শেষ কথা বলে জানান তারা। 

একটি পৌরসভা, একটি উপজেলা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসন। সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান সরকারের বেসামরিক  বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহ্জাহান কামাল এমপি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার, সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : অপপ্রচার বন্ধে অনলাইন নীতিমালা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
-------------------------------------------------------

এ আসনে ২০১৪ সালে সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন শাহ্জাহান কামাল। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে এসে মন্ত্রীত্ব পান তিনি। এ পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ৪শ’ থেকে ৫শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে জানিয়ে মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছেন বলে দাবি তার। 

এদিকে মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অন্যরা। জেলা সভাপতি পিংকু বলছেন, গত ৯ বছরে যে উন্নয়ন কাজ হয়েছে এবং দলকে তারা  যেভাবে সু-সংগঠিত করেছেন তাতে নির্বাচনে জয়ী হবে আওয়ামী লীগ। 

এই আসনে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এম.এ সাত্তার। তিনি এলাকায় সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। 

এদিকে আসন পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও দুইবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সাহাবুদ্দিন সাবু এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ্যানী বলেন, এ মুহূর্তে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। জনগণের সঙ্গে আরও বেশী সম্পৃক্ততা রয়েছে জানিয়ে বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে জানান। যখনই নির্বাচন হবে তখনই সবার সামনে তা লক্ষণীয় থাকবে। এ সরকারের আমলের বিগত নির্বাচনগুলোতো সুষ্ঠু ভোট হয়নি অভিযোগ করে বিএনপি’র এ নেতা আরও বলেন, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম। দেশনেত্রীকে মুক্ত করার জন্য দলীয় কোন গ্রুপিং নেই দাবী করে বড় দল হিসেবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে বলে জানান এ্যানী।

এ্যানীকে ছাড় দিতে নারাজ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের পর ভোটে যাবে বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। জামায়াত ছাড়া নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে কোন প্রভাব পড়বে না বলে জানান সাবু। এ আসনে জাতীয় পার্টি ও জেএসডি প্রার্থীসহ অন্যান্য দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নিচ্ছেন প্রস্তুতি। তবে তার প্রচারণা খুব একটা গতি পাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর-৪, কমলনগর-রামগতি

এদিকে, মেঘনা পারের জনপদ রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। বিএনপির দুর্গ হিসাবে খ্যাত এই আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া দলটি। তবে বর্তমানের ন্যায় আগামীতেও হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এছাড়াও বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছে। তবে বড় সবকয়টি দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন একাধিক নেতা। 

রামগতি-কমলনগর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন গঠিত। নদী ভাঙন আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই প্রতিদিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তারা। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সবকয়টি দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন। 

ক্ষমতায় থাকলেও রামগতি ও কমলনগরে সাংগঠনিকভাবে পাকাপোক্ত নয় আওয়ামীলীগ। দীর্ঘদিন ধরে রামগতি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন হচ্ছে না। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ২৩ এপ্রিল উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি হয়েছিল। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিরা সব রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। যারা সক্রিয় রয়েছেন তাঁরাও বিভক্ত ব্যক্তিগত কার্যালয় কেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এজন্য সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। 

তবে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় না থাকলেও রয়েছে কমলনগরে। সেখানেই তাঁরা মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে থাকেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। তারপরেও সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভোটারদের নিকট তুলে ধরছেন। আর আগামী নির্বাচনে বিজয়ের জন্য সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকেই বিজয়ের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চান তারা।

বর্তমান সংসদ সদস্য মো. অবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এলাকায় প্রায় এক হাজার ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। এর মধ্যে কিছু কাজ চলমান রয়েছে। রামগতি ও কমলনগর মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়ণ প্রকল্প, স্বাস্থসহ অবকাঠামোর উন্নয়নের সুফল এখানকার জনগণ ভোগ করছে। এতে করে আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। এছাড়াও আগামী নির্বচনে মনোনয়ন পেলে শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দিতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। 

বর্তমানে এখানে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই দাবি করে বলেন, বর্তমানে দল সংগঠিত ও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি শক্তিশালী। 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক ও রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুজ্জাহের সাজু বলেন, ‘ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আমাদের সরকারের জনসমর্থন বেড়েছে। এখানে আমরা সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত। আগামী নির্বাচনে এই আসনটি থেকে বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীক জয়লাভ করবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন। 

প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না পুলিশের হয়রানি ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার কারণে বলে দাবি করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা ও পুলিশি হয়রানির কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড করতে পারেননি সেভাবে। চাপের মুখেও বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজান এলাকায় এসে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। 

বিএনপি নেতা গোলাম কাদের বলেন, এ আসনটি পূর্বের ন্যায় এখনো বিএনপির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া যাকে মনোনয়ন দিবেন সবাই এক হয়ে তাকে নির্বাচিত করবেন। 

একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও এলাকায় আসা-যাওয়া বাড়িয়েছেন। ফলে দলটির অনুসারীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠছে। 

তিনি বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে জেএসডি। কারণ এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন না করে উল্টো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, লুট ও সন্ত্রাস করার কারণে জনগণ আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

আরও পড়ুন :

এসজে

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়