Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

আওয়ামী লীগই লবিস্ট নিয়োগের নামে জনগণের অর্থ ব্যয় করেছে : মোশাররফ

আওয়ামী লীগই লবিস্ট নিয়োগের নামে জনগণের অর্থ ব্যয় করেছে : মোশাররফ
ফাইল ছবি

বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের নামে জনগণের অর্থ ব্যয় করেছে অভিযোগ করে তার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষে সজীব ওয়াজেদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম লবিস্ট ‘অ্যালক্যাডে এন্ড ফো’কে নিয়োগে দেন ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর, যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে। ২০০৫,২০০৬,২০০৭ সালে এই লবিস্ট ফার্মকে চুক্তি স্বাক্ষরকারী হিসেবে তিনি(সজীব ওয়াজেদ) মাসে ৩০ হাজার ডলার হিসেবে সাড়ে ১২ লাখ ডলার অর্থাৎ ১০ কোটি টাকার বেশি দিয়েছেন।

তিনি বলেন,‘দেশবাসীর দুর্ভাগ্য যে, তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার, গুম, খুন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে অবৈধ সরকার যে অপরাধ করেছে তা ধামাচাপা দেয়ার লক্ষ্যে লবিস্ট নিয়োগের জন্য দেশবাসীরই ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করছে। জনগণের এই অর্থ ব্যয় করে সরকার ও সরকারি দল লবিস্ট নিয়োগের নামে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে এবং তার উৎস কি? এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত করে তার রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির দুইটি লবিস্ট ফার্ম ‘অ্যালক্যাডে এন্ড ফো’ এবং ‘ফ্রিডল্যান্ড’ এর সাথে আওয়ামী লীগের সজীব ওয়াজেদ এর চুক্তির তথ্য প্রমাণও তুলে ধরেন খন্দকার মোশাররফ।

‘বহুবছর ধরে নিয়মিত চুক্তিতে কাজ করা লবিস্ট প্রতিষ্ঠান বিজিআর ছাড়াও গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন ও সফর বিনিময়ের লক্ষ্যে মাত্র ১ মাসের জন্য ৪০ হাজার ডলার ফিতে নিয়োগ করা হয়েছিলো আরেকটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠান ফ্রিডল্যান্ডারকে। এই ব্যাপারে কেঁচো খুড়তে গেলে আরো বড় বড় সাপ বেরিয়ে আসবে বলেও জানান মোশাররফ।’

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি ৮টি লবিস্ট ফার্মের সাথে চুক্তি করেছে এবং তার একটি ফার্মকেই দিয়েছে ১০ লাখ। অন্য ৭টি ফার্ম সম্পর্কে তার বক্তব্য হলো –সব তথ্য আছে।কিন্তু কিছুই দিতে পারেননি তিনি। সত্য তো এই যে, বিএনপি কোনো লবিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত কখনো নেয়নি, লবিস্ট নিয়োগ করার প্রয়োজনও বোধ করেনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছে তা বানোয়াট।

তিনি বলেন, লবিস্টগণ যেসব কথা বলবেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ তা নিজেরাই বলে থাকেন এবং তাও গোপনে না-প্রকাশ্যে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিবের যেসব পত্রের কপি সাংবাদিকদের মাঝে বিলি করেছেন তাতেও কোথাও এমন কোনো বক্তব্য নেই যা তিনি এবং দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে বলেননি, মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়নি কিংবা আন্তর্জাতিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। এসব বক্তব্যের কোনটাই জনগণের কিংবা দেশের স্বার্থ দেশের স্বার্থ বিরোধী নয়ই বরং জনগণ ও দেশের পক্ষে বিএনপির নৈতিক অবস্থান ও দায়িত্বের প্রকাশ। এসব বক্তব্য জনগণের কাঁধে অন্যায় ভাবে চেপে বসা সরকারের বিরুদ্ধে হতে পারে এবং সেটাই অনিবার্য, স্বাভাবিক ও অব্যাহত রাখার যোগ্য।

‘‘ আমরা চাই যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইনকোয়ারি করুক। তাদেরটাও ইনকোয়ারি করুক। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমরা বাংলাদেশ থেকে লবিস্ট নিয়োগ করেনি। তার জন্য বাংলাদেশ থেকে অর্থ কোথাও যায়নি।”

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এমএন

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS