ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ক্ষমা চাইলেন ইশরাক (ভিডিও)

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২২ পিএম
ফাইল ছবি

প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তার একটি বক্তব্যর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, কয়েকদিন আগে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দলীয় একটি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আমি একপর্যায়ে আমার আবেগকে ধরে রাখতে পারিনি। সেখানে সদ্য বহিষ্কৃত একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আমি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত অশালীন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছি। যারা আমার বক্তব্যগুলো নিয়মিত দেখেন আমাকে পছন্দ করেন, অনেক মুরব্বিরা রয়েছেন, নতুন প্রজন্মের অনেক ভাইবোনেরা রয়েছেন। আমি সবার কাছে মূলত ক্ষমা প্রার্থী যে, আমার ভুল হয়ে গেছে। আগামীতে আমি চেষ্টা করবো এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

রোববার (১২ ডিসেম্বর) রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক বলেন, আমি নিজেও খুব লজ্জিত ছিলাম, মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আমার পিতৃতুল্য ও অভিভাবক বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরও সিনিয়র নেতারা। তাদের মধ্যে ডাকসুর সাবেক ভিপি ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামসহ দর্শক সারিতেও অনেক মুরব্বিরা ছিলেন।

ইশরাক বলেন, আমি এটা কোনো অজুহাত হিসেবে বলতে চাচ্ছি না। জাস্ট প্রেক্ষাপটটা বলতে চাচ্ছি। আমি ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সেই ব্যক্তির (ডা. মুরাদ হাসান) একটা ভিডিও আমি শুনছিলাম, সেখানে আমাদের কারাবন্দি নেত্রী খালেদা জিয়া, আমরা একটি স্পর্শকাতর অবস্থায় বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছি। সেই মুহূর্তে এ কথাগুলো আমাদেরকে খুবই আঘাত হানে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। এটি কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা নতুন প্রজন্ম যারা রাজনীতিতে আসছি, আমরা এটি বারবার বলে আসছি যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত। একে অপরের প্রতি সহনশীল এবং শ্রদ্ধা নিয়ে কথা বলা উচিত।

তিনি বলেন, ওই দিন আমার বক্তব্য শেষ করার পর আমি নিজেই বিব্রতবোধ করছিলাম, যে এতগুলো মুরব্বি এবং টিভি ক্যামেরার সামনে আমি এই শব্দ ব্যবহার করেছি। তখন আমি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি। আমি বাসায় ফেরার পরে আমার মা আমাকে বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর ভুল হয়েছে। আমরা ভাইবোনরা যখন বড় হয়েছি, তখন আমার মা আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছেন কখনও অশালীন শব্দ না ব্যবহার করার জন্য পরিস্থিতি যাই হোক। পরবর্তীতে আমি আমাদের দলীয় মহাসচিবসহ অন্য নেতাদের সাথে সরাসরি দেখা করে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি এবং আজকে এই ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকশ্রোতা যারা রয়েছেন, বিশেষ করে যাদের আমার প্রতি একটা প্রত্যাশা রয়েছে যে একটি সুস্থ ধারার রাজনীতি হয়তোবা আমরা সূচনা করতে পারি। তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আপনারা আমাকে এই একটি ভুলের জন্য ক্ষমা করে দেবেন এবং এটিকে দিয়ে আমার সার্বিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন না করার জন্য আমি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। আগামীতে আপনাদের আশা ভঙ্গ হবে না সে ধরনের কাজই আমি করে যাবো ইনশাল্লাহ।

ইশরাক বলেন, গণমাধ্যম যে এই রকম মেরুদণ্ডহীন হয়ে গেছে এটা দুঃখজনক, লজ্জাজনক এবং শঙ্কার কারণ। আমরা দেখেছি যে বিভিন্ন সত্য নিউজ ঘটনা যেগুলো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সেগুলো অতি বিলম্বে এখানে ছাপানো হয়েছে, অথবা কোনো কোনো নিউজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অতএব গণমাধ্যম যে নিয়ন্ত্রিত, সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো কালো আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সেটি স্পষ্ট। এর বাইরেও আপনারা দেখেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য বিদেশি সহযোগী সংস্থা বিবৃতি দিয়েছে, যে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায়।

ইশরাক আরও বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে দাঁড়িয়েছি। আমাদের আন্দোলন বৃথা যেতে দেব না। গণতন্ত্র রক্ষা এবং পুনরুদ্ধারে যতগুলো আন্দোলন হয়েছে আজঅব্দি। মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে কারও রক্ত বৃথা যেতে দেব না। ইনশাল্লাহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবো এবং একটি সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে সব জনপ্রতিনিধিদের যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছেন, তাদেরকে জনগণের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবো ইনশাল্লাহ।

এসএস/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মির্জা ফখরুল সরকারের বিরুদ্ধে সকাল-বিকাল বিষোদগার করেন- তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে সকালে একবার বিষোদগার করেন, বিকেলে একবার করেন, আবার মাঝেমধ্যে সন্ধ্যার পরও করেন। সরকারের বিরুদ্ধে নানা কথা বলেন। বিএনপির নেতারা সারাদেশে ঘুরে ঘুরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। এর চেয়ে বেশি রাজনৈতিক স্বাধীনতা তারা আর কী চান? উনারা কি অবাধে গাড়ি পোড়ানোর অধিকার চান, যেটা উনারা ১৩, ১৪, ১৫ সালে করেছেন। উনারা কি দিনের পর দিন হরতাল করে মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখতে চান, যেগুলো মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিন তিনি সিএমপির প্রযোজনায় নির্মিতব্য ‘দামপাড়া’ চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতা দেখিয়ে তার দণ্ড স্থগিত রেখে তাকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) তার মতো করেই, তার পরিবার এবং তার দলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। সরকার এবং সরকারের অধীনে থেকে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। ‘সুতরাং বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যহানি হলে বিএনপি এবং তার পরিবার কিংবা তার ডাক্তার যারা তাকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, তারাই দায়ী হবেন’, বলেন হাছান মাহমুদ। এ সময় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এমএন
মির্জা ফখরুল সরকারের বিরুদ্ধে সকাল-বিকাল বিষোদগার করেন- তথ্যমন্ত্রী
পঁচাত্তরের পর সাম্প্রদায়িকতা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে- নৌ প্রতিমন্ত্রী
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জাতির উপর সাম্প্রদায়িকতা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। এ সময় সংস্কৃতি চর্চাও বাধাগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানান তিনি। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বিশ্বভরা প্রাণ’ এর নিজেদের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আমাদের উপর হামলা ও বারবার আঘাত করেছে। যেই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে আমরা পরাজিত করেছিলাম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এটা আমাদের মীমাংসিত একটি বিষয় ছিল এবং এই মীমাংসা করতে আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। আমাদের লক্ষ লক্ষ মা- বোন তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছে। কিন্তু এ মীমাংসিত বিষয়টি নিয়ে আবার লড়াই করতে হচ্ছে আমদের। কারণ মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি যিনি আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর আমাদের উপর যে জিনিসটি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা। মীমাংসিত বিষয়টিকে আবার চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় এটা ধীরে ধীরে আমাদের সমাজে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের কারণে একাত্তরে মীমাংসিত বিষয়গুলো আবার আমাদের উপর চেপে বসেছে। তারা ধীরে ধীরে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। কারণ তারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল। নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশে আমরা কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং সংস্কৃতিকে সাহসের সঙ্গে উচ্চারণ করতে পারি। বীরত্বগাঁথা রচনা করা বীর মুক্তিযোদ্ধারাও পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে নিজেদের পরিচয় দেয়ার একটা ভীতিকর পরিবেশের মধ্যে ছিল। আজকে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা গর্ব করে বলতে পারে আমি মুক্তিযোদ্ধা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়েছেন। তারা রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত হচ্ছেন। রাষ্ট্র তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। যেটা পঁচাত্তর পরবর্তীতে ছিল না। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন খ্যাতিমান আবৃতি ও অভিনয় শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। সংগঠনের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা কবি ইমরোজ সোহেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী, সঙ্গীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, আবৃতি শিল্পী অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী, নাট্যজন টুটুল চৌধুরী, সংগঠনের সভাপতি জাহান বশির, সাধারণ সম্পাদক নিপা মোনালিসা। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। এমএন
পঁচাত্তরের পর সাম্প্রদায়িকতা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে- নৌ প্রতিমন্ত্রী
‘লুটের টাকা দেশের তহবিলে থাকলে হাত পাততে হতো না’
‘লুটের টাকা যদি দেশের তহবিলে থাকতো তাহলে বিদেশিদের কাছে হাত পাততে হতো না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত ১০ বছরে দেশ থকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশের শেয়ারবাজার ও ব্যাংকের টাকা লুট হয়েছে। এই পরিমাণ টাকা যদি দেশের তহবিলে থাকতো তাহলে বিদেশিদের কাছে আমাদের হাত পাততে হতো না। তিনি বলেন, কারা টাকা পাচার করেছে, লুট করেছে, এরসঙ্গে কারা জড়িত। এ বিষয়ে জানতে অর্থমন্ত্রী তদন্ত কমিটি গঠন করলেন। তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে অর্থমন্ত্রী বললেন- ‘এ রিপোর্ট তো প্রকাশ করতে পারব না’। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ লোকজন জড়িত আছে। এরা কারা জনগণ জানতে চায়। খালেদা জিয়ার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে তাকে যারা ভালোবাসেন তারা যে কী করবেন আমরা তা জানি না। আমরা দেশে বিশৃঙ্খলা চাই না বলে তাদের অনুরোধ করছি। সরকারকে বলি মানবিক হোন, দানবিক হবেন না। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। আরএ/টিআই
‘লুটের টাকা দেশের তহবিলে থাকলে হাত পাততে হতো না’
‘খালেদা জিয়া স্বেচ্ছায় ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা না’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়াকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য লোক পাঠালেও তিনি স্বেচ্ছায় ক্যান্টনমেন্টে থেকে যান। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জের ছাতকে শেখ রাসেল পৌর মিনি স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন পরবর্তী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। মোজাম্মেল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাইরে অবস্থান করছিলেন। জিয়াউর রহমান তাকে নিয়ে যেতে লোক পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছিলেন যুদ্ধকালে এলাকায় থাকা নিরাপদ নয়। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ক্যান্টনমেন্টে এসে অবস্থান নিয়েছিলেন। স্বেচ্ছায় যারা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান নিয়েছে, তারা কখনওই মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না। এর আগে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে খুনি মুশতাক ও জিয়া পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল। ইসলামের অপব্যবহার করা হয়। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতিতে চার বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের কাছে এতিমের টাকাও নিরাপদ নয়। সেই সাজায় জেল খাটছেন তিনি। কিন্তু তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।   মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, তারা ক্ষমতায় ছিল ২৯ বছর। কোনো উন্নতি করেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশ নিরাপদ। আমরা ক্ষমতায় আসার পর কী পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তা একটু চারিদিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন। সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ভবন করে দিয়েছে। উন্নয়নে জোয়ার বইছে। এই সরকার আরও ক্ষমতায় থাকলে আরও বেশি উন্নতি হবে।  তিনি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী হই তখন আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের ভাতা ছিল মাত্র তিন হাজার টাকা। সেটা এখন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আমরা সব বধ্যভূমিকে সংরক্ষণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ৫০ বছর পর কেউ দেখলে বোঝা যায় এটা মুক্তিযোদ্ধার কবর। রাজাকারের তালিকা করা হবে যেহেতু আপনারা অভিযোগ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজও করব। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব,  সুনামগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামীমা শাহরিয়ার, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, ছাতক পৌর আ.লীগের আহবায়ক আবদুল ওয়াহিদ মজনু, সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নূরুল মোমেন প্রমুখ। এনএইচ/ টিআই
‘খালেদা জিয়া স্বেচ্ছায় ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা না’
বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদেরের স্পষ্ট বার্তা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পষ্টভাবে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, সরকার পতন, আন্দোলন এসব মুখরোচক শব্দবৃষ্টি করে কোনো লাভ নেই। তাই অলি-গলি পথে না হেঁটে নির্বাচনমুখী হোন। ‘সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে ওয়ার্মআপ চলছে, মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যান আর আন্দোলনে চরম ব্যর্থতাই বিএনপির একমাত্র প্রাপ্তি। কোনো ওয়ার্মআপেই কাজ হবে না। নেতিবাচক ও হঠকারী রাজনীতির কারণে জনগণ বিএনপিকে চিনে ফেলেছে। তিনি বলেন, দেশবিরোধী সব অপশক্তির অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে বিএনপি, যারা নিজেরাই স্বাধীনতার চেতনা নস্যাতে জন্মলগ্ন থেকেই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি এ দেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন করে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। হরণ করেছিল কৃষক শ্রমিকের অধিকার। ভোট না দেওয়ার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, আগুন-সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীন চলাচলের অধিকার হরণ করেছিল। আরএ/টিআই
বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদেরের স্পষ্ট বার্তা
আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ, ৪ মামলায় ৭ শতাধিক আসামি
মির্জা ফখরুল সরকারের বিরুদ্ধে সকাল-বিকাল বিষোদগার করেন- তথ্যমন্ত্রী
‘লুটের টাকা দেশের তহবিলে থাকলে হাত পাততে হতো না’
বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদেরের স্পষ্ট বার্তা