logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী আর নেই

Heroic freedom fighter Shawkat Ali is no more
সাবেক ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত, নবম জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী আর নেই। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

৮৪ বছর বয়সী সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

শওকত আলী শরীয়তপুর-২ আসন থেকে ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তান আমলে ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়েছিল, তাতে শওকত আলীকেও আসামি করা হয়। তিনি মুক্তিসংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা।

শওকত আলীর জন্ম ১৯৩৭ সালের ২৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দীঘিরপার গ্রামে। তার বাবার নাম মুন্সী মোবারক আলী ও মায়ের নাম মালেকা বেগম। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৫৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোরে কমিশন লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে খুন হওয়ার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। তবে অবসরের সময় তিনি কর্নেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অর্ডন্যান্স সার্ভিসেসের পরিচালক নিযুক্ত হন।

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের মে মাস থেকে ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৬ মাস স্বৈরাচারী শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে কারাবরণ করেন।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া ঐ সংসদে পিটিশন কমিটি, সরকারি হিসাব কমিটি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালে অষ্টম সংসদে তিনি পুনরায় সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নবম সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পি

RTVPLUS