logo
  • ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

জমে উঠেছে রাজধানীর ইফতার বাজার

মিথুন চৌধুরী
|  ১০ মে ২০১৯, ১৭:০৬ | আপডেট : ১০ মে ২০১৯, ১৮:২৯
পবিত্র রমজান মাসের প্রথমদিন থেকেই জমে উঠেছে রাজধানীর ইফতার বাজার। মৌসুমী বিক্রেতারা শামিয়ানার টাঙিয়ে অস্থায়ী দোকানে হরেকরকম ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন। রাজধানীর চকবাজারের মতো কারওয়ান বাজারেও রয়েছে এমন অর্ধশত অস্থায়ী দোকান।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সব দোকানেই ক্রেতাদের প্রচুর ভিড়। ইফতারি কিনতে সেখানে ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা। বাতাসে মুখরোচক খাবারের ঘ্রাণ। যারা কারওয়ান থেকে বের হচ্ছেন, তাদের প্রায় সবার হাতেই ব্যাগভর্তি ইফতারি।

কারওয়ান বাজারে মুরগি ও খাসির রোস্ট, শাহি জিলাপি, কাচ্চি, তেহারি, মোরগ পোলাও, হালিম, লাচ্ছি, দই, ছোলা, মুড়ি, সমুচা, সিঙ্গারা, নিমকি, খেজুর, বেগুনি, আলুর চপসহ ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি ফল আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, তরমুজ, লিচু, পেঁপে, আনারস, বাঙ্গি, শসা, শরবত, হালিম ইত্যাদি।

পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুরচপ প্রতি পিস পাঁচ টাকা, ছোলা ১৫০ টাকা কেজি, হালিম বাটিপ্রতি ১০০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জিলাপি ১২০-১৫০ টাকা, বুরিন্দা ১৫০ টাকা, কাবাব ২০-৪০ টাকা, ডিম চপ ২০-৩০ টাকা। এছাড়া ১০০-২০০ টাকায় মিলছে বাহারি সব ইফতার।

কারওয়ান বাজারে ইফতার বিক্রির অস্থায়ী দোকান দিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, আমি এখানে ৮-১০ বছর ধরে ইফতার বিক্রি করি। আলুর চপ, বেগুনি, বুরিন্দা, জিলাপি, হালিমসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রি এখানেই তৈরি করে বিক্রি করছি।

ইফতার কিনতে আসা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের দোকানে ৬ জন লোক কাজ করে। সব মিলিয়ে ৮ থেকে ৯ জন ইফতার করে। ৪০০-৫০০ টাকার ইফতার কিনতে হয়। প্রতিদিন এখান থেকেই ইফতার কিনি। বড় বড় দোকানের চেয়ে এখানকার ইফতারই ভালো।

ইফতারি কিনতে আসা আরেক ব্যক্তি সারোয়ার হোসেন বলেন, বাজারের বেশির ভাগ বিক্রেতাই গ্লাভস কিংবা মাথায় ক্যাপ ব্যবহার করছেন না। এছাড়া প্রায় সব দোকানে ইফতারি খোলা অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে। ধুলাবালি না ছড়াতে খাবার ঢেকে রাখা উচিত।

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের কর্মী শামিমা সুলতানা বলেন, সারা দিন রোজা রেখে বাসায় গিয়ে ইফতার বানানো সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে দোকানই ভরসা। অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় দোকান থেকে ইফতার কিনে নিয়ে যাই।

খেজুরের দোকান ঘুরে দেখা যায়, সৌদি আরবের প্রতিকেজি ‘আজওয়া’খেজুর ১ হাজার ৮০০ টাকা, মেকজেল খেজুরের দাম কেজিতে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়া ইরানের কামরাঙ্গা মরিয়ম ১ হাজার টাকা, সাধারণ মরিয়ম ৯শ টাকা, দাবাস ২৪০ টাকা, ফরিদা ৩০০ টাকা, বড়ই ২২০ টাকা, নাগাল ২০০ টাকা, তিউনিসিয়ার প্যাকেটজাত খেজুর ৪৬০ টাকা ও বাংলা খেজুর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শুধু কারওয়ান বাজারই নয় রাজধানীর ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, পুরান ঢাকা, মগবাজার, মৌচাক, খিলগাঁও, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের পর থেকেই ফুটপাতগুলোতে ইফতার তৈরি হচ্ছে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরাসহ বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ, মিষ্টি ও খাদ্যদ্রব্যের দোকানের সামনে শামিয়ানা টাঙিয়ে বসেছে বাহারি এসব ইফতারের দোকান। এসব দোকানে পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক সব শ্রেণির মানুষ ইফতার কিনতে ফুটপাতে ভিড় করছেন।

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়