• ঢাকা রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৬

রোজা সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব শেখায়

হাফেজ মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন
|  ৩১ মে ২০১৮, ১৯:৪২ | আপডেট : ৩১ মে ২০১৮, ২০:০৬
পবিত্র মাহে রমজানে বান্দা এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সংযমের প্রশিক্ষণ নেয়। রোজার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সহমর্মিতার চর্চা হয়।

তাই বলা যায়, পবিত্র রমজান সহমর্মিতার মাস। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ধৈর্য্য, সহনশীলতা, তাকওয়া অর্জনই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এ ছাড়াও রোজার বড় একটি উদ্দেশ্য আছে। আর তাহলো মানব জাতিকে সহানুভূতি-সহমর্মিতার অনুপম শিক্ষা প্রদান করা।

western ইসলামে সাম্য-মৈত্রীর যে নান্দনিক দর্শন রয়েছে, তা সিয়াম সাধনার মাধ্যমেই মূলত এর বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। পবিত্র রমজান যেমন বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর রহমত বা দয়াকে আকর্ষণ করে, ঠিক তেমনিভাবে এক বান্দার প্রতি অপর বান্দার, এক মানুষের প্রতি অপর মানুষের অন্তরে মমত্ব, সহানুভূতি, দয়া, ভালোবাসার উপলক্ষ সৃষ্টি করে। সংযম সাধনার এ মাসে ক্ষুধা ও পিপাসার প্রকৃত অনুভূতির মাধ্যমে বিত্তবান-সচ্ছল রোজাদারগণ, দরিদ্র ও অভাবী মানুষের না খেয়ে থাকার কষ্ট বুঝতে সক্ষম হয়।

এ উপলদ্ধির জন্যই বিত্তশালী ব্যক্তি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা নিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর স্বতঃস্ফুর্ত প্রেরণা বোধ করেন।


--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সকল নবী রাসুলের যুগেও রোজার বিধান ছিল
--------------------------------------------------------

আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। (সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ১৮৩)

উল্লেখিত আয়াতে মোত্তাকিদের কথা বলা হয়েছে। আর মোত্তাকির উদ্দেশ্য অনেক হতে পারে। তার মধ্যে একটি হল এই যে, যে ব্যক্তি সংযমের জীবনযাপন করে, লাগামহীন জীবনযাপন যার অভ্যাস নয়। সংযমের জীবনে অভ্যস্ত করার জন্যই আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর এক মাসের সিয়াম সাধনার ব্যবস্থা করেছেন।

পবিত্র রমজান মানুষের ঘুমন্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলে। অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়। নতুন উন্নত পোষাক পরিধান যাদের কাছে স্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়, রমজানে বিত্তবান কর্তৃক সেই দরিদ্র্য শ্রেণির মানুষের নতুন জামা-কাপড় প্রদান এক আনন্দের সুন্দর দৃশ্যের অবতারনা ঘটায়।

এখানেই ইসলামের নির্মল সৌন্দর্য ফুটে উঠে। যে সৌন্দর্য পবিত্র রমজানের সহমর্মিতার মোড়কে বিমূর্ত হয়ে আছে যুগ যুগ ধরে, শত-সহস্রকাল ধরে।

রমজান মাসের সহমর্মিতার এই শুভ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে আমরা যদি বছরব্যাপী অনুশীলন করি, তাহলে মানব সমাজে আর দেখা যাবে না কোনো রকম অসাম্য ও শ্রেণি বৈষম্য। দূর হয়ে যাবে ক্ষুধা, দূর হয়ে যাবে দারিদ্রতা ও অশান্তি হানাহানি। কারণ ইসলামের মহান শিক্ষা যদি কোনো জাতি, সমাজ, বা কোনো ব্যক্তির মাঝে থাকে, তাহলে প্রতিটি সমাজে শান্তির হাওয়া বইতে থাকবে। আর যদি তা অমান্য করে চলে তাহলে সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে অশান্তি থেকেই যাবে।

তাই আসুন! পবিত্র এই রমজান মাস থেকে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনের জীবন পরিচালনা করি। (আমিন)

আরও পড়ুন :

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়