• ঢাকা রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৬

তারাবির নামাজ নিয়ে বিতর্ক কেন?

হাফেজ মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন
|  ২৯ মে ২০১৮, ১৭:৫৪ | আপডেট : ২৯ মে ২০১৮, ১৮:০১
নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে তারারির নামাজ কখনো জামাআত পড়েছেন। আবার কখনো এমন হয়েছে যে, কয়েক রাকাআত জামাতের সাথে পড়ে হুজরায় চলে গেছেন আবার কখনো একাকী নামাজ পড়েছেন। (বুখারী শরীফ, হাদিস-২০১০ ও মুসলিম শরীফ, হাদিস-১১০৪)

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত তারবির জামাআত পড়াননি, বরং অধিকাংশ সময় তিনি একাকী তারাবির  নামাজ পড়তেন। তিনি নিজে কেন জামাতের নিয়ম করেননি তা উম্মতকে বলে গেছেন, জামাআতের সাথে নিয়মিত (তারাবীর) নামাজ পরলে এ নামাজটিও উম্মতের উপর ফরজ হয়ে যাওয়ার আশংকা ছিল। তাই তিনি এর জামাআত নিয়মিত চালু করেননি।

western তারাবির নামাজ বিশ রাকাআতের প্রচলন শুরু হয় হজরত উমর (রা.) সময় থেকে। ১৪ হিজরি রমজানের  কোন এক রাতে হজরত উমর (রা.) মসজিদে তাশরীফ নিয়ে যান এবং সেখানে দেখতে পান যে, মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জামাআত হচ্ছে। তিনি চিন্তা করলেন সকল নামাজিকে এক ইমামের পেছনে একত্র করে দেওয়া উচিত। তখন তিনি এই আদেশ জারি করেন এবং উবাই ইবনে কা’ব (রা.) কে ইমাম বানিয়ে দেন। (বুখারী শরীফ, হাদিস-২০১০)

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রোজার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
--------------------------------------------------------

হজরত উমর (রা.) এর জামাআতের সাথে বিশ রাকাআত তারারিহ চালু করা প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেন, উমর (রা.) জানতেন, নবীজী কেন চালু করেননি। তিনি দেখলেন, নবীজীর (ইন্তেকালের) পর এখন আর এই ভয় নেই। কারণ ওহীর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। (মুয়াত্তামালেকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ; আত্তামহীদ, ৮/১০৮-১০৯)

 হজরত উমর (রা.) বিশ রাকাআত তারাবীর জামাত চলু করে ভুল করেননি তা একটি হাদিস শুনলেই বুঝা যায়।সহীহ হাদিসে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন সুন্নতের পাশাপাশি খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে অনুসরন করার আদেশ করেছেন। ইরশাদ করেছেন, মনে রেখো! আমার পরে তোমাদের যারা জীবিত থাকবে তারা বহু মতানৈক্য দেখতে পাবে। তখন আমার সুন্নত ও আমার হেদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নতকে আকড়ে রাখবে। একে অবলম্বন করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে প্রাণপনে কামড়ে রাখবে এবং তোমরা (ধর্মীয় বিষয়ের) নবআবিস্কৃত বিষয়াদি থেকে খুব সর্তকতার সাথে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রতিটি নবআবিস্কৃত বিষয় বেদআত। আর প্রতিটি বেদআত হল গেমরাহী। (আবুদাউদ, হাদিস-৪৬০৭; তিরমিজি, হাদিস-২৬৭৬; মুসনাদে আহমদ, হাদিস-১৬৬৯২; ইবনে মাজাহ, হাদিস-৪২ ও ইবনে হিব্বান, হাদিস-০৫)

উল্লেখিত হাদিসে আছে, হেদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাগণের সুন্নতকে আকড়ে ধরতে বলেছেন।

সুতরাং উমর (রা.) একজন হেদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা এবং জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তদের একজন ছিলেন। মসজিদে নববীতে হজরত ইবনে কা’ব (রাঃ) এর ইমামতিতে প্রকাশ্যে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়া হত। তা সকল সাহাবায়ে কেরামগণই জানত। কিন্তু কেউ তো প্রতিবাদ করেননি। তখন হজরত উসমান (রা.), হজরত আলী (রা) ছিলেন। হজরত মুআবীয়া (রা.) সহ অনেক সাহাবীরা ছিলেন। কেউ নিষেধ করেননি।

আরও পড়ুন : 

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়