Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮

নদী দখল প্রতিরোধে পবা ও সাদাকাহ ফাউন্ডেশনের ৭ দফা সুপারিশ

নদী দখল প্রতিরোধে পবা ও সাদাকাহ ফাউন্ডেশনের ৭ দফা সুপারিশ
ওয়েবিনারে নদী দখল প্রতিরোধে পবা ও সাদাকাহ ফাউন্ডেশনের ৭ দফা সুপারিশ

নদী দখল প্রতিরোধে ৭ দফা সুপারিশ দিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবা ও সাদাকাহ ফাউন্ডেশন ইউএসএ। শুক্রবার ‘নদী দখলমুক্ত করণ প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এ সুপারিশ তুলে ধরেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান।

৭ দফা সুপারিশে বলা হয় , অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে, খাদ্য উৎপাদন টিকিয়ে রাখার জন্য নদীর নাব্য রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে, নদীর জায়গায় কোনো স্থাপনা গড়ে তোলা যাবে না, কঠোর আইনের মাধ্যমে নদীর পানি প্রবাহ সুনিশ্চিত করতে হবে, সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথের উন্নয়নে জোর দিতে হবে; যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, স্বল্প উচ্চতার ব্রিজ চিহ্নিত করে এগুলোর উচ্চতা বাড়াতে হবে, নদীতে টানেল করে তার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে এবং নদীর সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। পাশাপাশি সীমানা চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান আরো বলেন, আমাদের অর্থনীতি, ইকোসিস্টেম, ডেভেলপমেন্ট পুরোটাই নদীর উপর নির্ভরশীল। সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। বর্ষা, বন্যা এগুলোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা অনুধাবন করি না। এসব বিষয়াদি না বুঝলে, না জানলে আমরা বাঁচতে পারব না। তাই অবিলম্বে নদীর সীমানা চিহ্নিত করে, সেগুলো দখলমুক্ত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন পবা চেয়ারম্যান।

প্রধান অতিথি হিসেবে নদী কমিশনের সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান ডক্টর মুজিবর রহমান হাওলাদার বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি অনেক অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে চলে এই নদী দখল। নদী কমিশন ২০১৮-১৯ সালে সারা দেশের দখল হওয়া নদীর এলাকা ও দখলদার চিহ্নিত করে দিয়েছে। এখন ধারাবাহিকভাবে সেসব দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে। এবিষয়ে কারো সাথে কোন আপোষ করা যাবে না।

ডক্টর মুজিবর রহমান হাওলাদার আরো বলেন, নদী হচ্ছে দেশের উন্নয়নের প্রাণশক্তি, নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তাই সংশোধিত নদী কমিশন আইন ২০২০ এর খসড়া বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে পবার সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুস

সোবহান বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও নদী দখল বন্ধে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত জরুরি। কারণ সরকারদলীয় কিছু অসাধু লোকের কারণে এ ধরনের সংকট চলে আসছে বছরের পর পর। তাই নদীর প্রবাহ রোধ করে নদী দখলের মতো ঘৃণ্য কাজ বন্ধের বিষয়ে রাজনৈতিকভাবেও জনগণকে সচেতন করা এখন সময়ের দাবি।

সাদাকাহ ফাউন্ডেশন ইউএসএর প্রধান নির্বাহী মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নদী ও জলাশয় দখল, তাই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নদী ও জলাশয়কে দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নইলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ ভয়াবহ সংকটে পড়ে যাবে, যা থেকে সৃষ্ট দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই কষ্টসাধ্য হবে। প্রয়োজনে পরিবেশ রক্ষায় দেশের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করবো আমরা।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসেন বলেন, নদী দখল বন্ধ করতে না পারলে নতুন প্রজন্মকে একসময় নদীর শুধু গল্পই শোনাতে হবে। আর কঠিন বিপর্যয়ে পড়বে দেশ।

সাংবাদিক সিকদার নজরুল ইসলাম বলেছেন, উন্নয়নের প্রয়োজনে খাল নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো ব্রিজ, কালভার্ট সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে অবশ্যই দেখতে হবে পরিবেশ রক্ষা করতে, নদী রক্ষা করতে বিকল্প কিছু করা যেত কিনা। মূলকথা হলে নদীর দখল বন্ধ করতে সোচ্চার হতে হবে সবাইকে।

ওয়েবিনারে এম এম বাদশাহ’র সঞ্চালনায় কিনোট উপস্থাপন করেন মোহসীন কবির।

পি

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS