smc
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭

স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি হবে ২০২১ সাল থেকে: দীলিপ আগরওলা

  এ এম সাজ্জাদ হোসেন

|  ১২ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৪ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ২১:২২
gold, juewlery, bank, taka
দীলিপ কুমার আগরওলা
চলতি বছরের শুরু থেকে বিশেষ করে করোনাকালের শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম দ্রুত উঠা নামা করে। তবে সম্প্রতি বিশ্ববাজারে কয়েক দফায় দাম কমেছে মূল্যবান এই ধাতুর। স্বর্ণের এই অস্বাভাবিক দাম উঠা নামায় দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। একই সাথে ব্যবসায় চরম মন্দা যাচ্ছে বলেও জানান অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী।  

করোনাকালে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি বাড়ে সাড়ে তিনশ থেকে চারশ ডলার। তবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার কমানোয় এবং মার্কিন নির্বাচনের আগে ডলার শক্তিশালী করার চেষ্টা করায় স্বর্ণের দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছে ডলারকে শক্তিশালী করতে। আর ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার কমিয়েছে। এছাড়া জুয়াড়িরা স্বর্ণ বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। এ সবকিছু মিলেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দীলিপ কুমার আগরওলা আরটিভি নিউজকে বলেন, স্বর্ণের বাজারে এমন দ্রুত দাম উঠা নামা আমার বিশ বছরের ব্যবসায়ীক জীবনে দেখিনি। এভাবে দাম উঠা নামা করায় ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। তিনটি কারণে এই দাম উঠা নাম করছে বলে মনে করেন তিনি।  

এক. নিরাপদ বিনিয়োগ। করোনার এই মহামারির সময় শেয়ারবাজার, আবাসন খাত সহ সব ধরনের সেক্টরের বিনিয়োগে ধস পড়ে। শুধুমাত্র স্বর্ণের বাজারই ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এই মহামারির মাঝে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, ২০১৯ থেকে চীন আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধ, তিন. মার্কিন নির্বাচন। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ডলারকে শক্তিশালী করতে।

স্বর্ণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ‍জুয়াড়িরা, দীলিপ কুমার আগরওলার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি শেয়ারবাজার জুয়ারিরা নিয়ন্ত্রণ করে, এ কথা বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে স্বর্ণের বাজার জুয়ারির হাতে এই বিষয়টিও বিশ্বাস করতে হবে। এই মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তবে কীভাবে জুয়াড়িরা নিয়ন্ত্রণ করছে সে বিষয়ে জানি না।

দেশে স্বর্ণের চাহিদা কত এবং এই চাহিদা কিভাবে পূরণ হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে দীলিপ আগরওলা বলেন, ১৯৪৭ সালের আইন অনুযায়ী স্বর্ণ ব্যবসা চলছিল। দেশ ভাগ এবং স্বাধীন বাংলাদেশেও এতদিন স্বর্ণ ব্যবসায় কোনও নীতিমালা ছিল না। তবে ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার একটি নীতিমালা করেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। এখন আর স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি বা চোরাকারবারী বলার আর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জুন মাসের ২১ ২২ ২৩ তারিখে স্বর্ণ কর মেলায় প্রায় ১৪ হাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রত্যেকের কাছে থাকা স্বর্ণের ওপর কর দিয়ে তা বৈধ করে নেয়। সরকারকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা কর দেয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। এরপর একই বছরের ডিসেম্বরে স্বর্ণ আমদানির জন্য আবেদন করা হলে, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যাংককে লাইসেন্স দেয়। কিন্তু তখন দেখা গেল একজন ব্যাগেজে করে স্বর্ণ এনে ভরি প্রতি টেক্স দেয় ২ হাজার টাকা, আর বৈধভাবে আমদানি করে ভরি প্রতি দিতে হয় ১৭ হাজার টাকা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সাথে আবার দেখা করে আমরা বললাম, আপনি নীতিমালা করে দিলেন কিন্তু আমরা বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি করতে পারছি না। এ্ররপর তিনি অর্থমন্ত্রীকে ব্যাগেজ ও আমদানি ট্যাক্স যেন সমান হয় তা করতে বলে দিলেন, এবং অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় তা ঘোষণা করেন।

এরপর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড দেশের ইতিহাসে প্রথম স্বর্ণ আমদানির ঘোষণা দেয়। পরে আরেকটি প্রতিষ্ঠানও স্বর্ণ আমদানি করে। আমরাই দেশের ইতিহাস প্রথম স্বর্ণ আমদানি করি। দুই প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৫ কেজি স্বর্ণ আমদানি করে। যদিও দেশে প্রতি বছর স্বর্ণের চাহিদা ১৫ থেকে ২০ টন।   

দীলিপ আগরওলা আরও জানান, তবে একবার আমদানি করেই আমাদের থামতে হয়। কারণ আমদানি স্বর্ণের মান যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংকের জটিলতা তৈরি হয়। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে, আমরা আশা করছি অক্টোবর মাস থেকেই আবার স্বর্ণ আমদানি শুরু হবে।

শুধু আমদানি নয় স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানির কথাও জানান দীলিপ আগরওলা। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। সেজন্য বন্ড সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকেই স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।  

দীলিপ আগরওলা বলেন, বাংলাদেশের স্বর্ণালঙ্কার বিশ্ব মানের। হাতে তৈরি স্বর্ণালঙ্কারে পারদর্শী একমাত্র বাঙালিরাই। বিশ্বব্যাপী তাদের সুনাম রয়েছে। যদি সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানির মাধ্যমে দেশ যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। তেমনি এটি একটি শিল্পে পরিণত হবে। এছাড়া এই খাতে যত বেশি শিক্ষিত যুবক আসবে ততই এই খাত সমৃদ্ধ হবে। সে জন্য স্বর্ণালঙ্কার তৈরি ও বিপণন বিষয়ে একটি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কর দরকার। আমরা সে বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।   

এসএস/এমকে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৯০২০৬ ৩০৫৫৯৯ ৫৬৮১
বিশ্ব ৪,০৩,৮২,৮৬২ ৩,০১,৬৯,০৫২ ১১,১৯,৭৪৮
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ
  • সাক্ষাৎকার এর পাঠক প্রিয়