logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

চালক আছে অ্যাম্বুলেন্স নেই

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
|  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১১
চালক অ্যাম্বুলেন্স
চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১২ সালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এ হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত অ্যাম্বুলেন্সটি তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় সেটি অকেজো হয়ে পড়ে।

দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি আর মেরামত না করে পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলা থেকে ধারে আনা হয় পুরোনো একটি অ্যাম্বুলেন্স। বছর খানেক আগে সেটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে গ্যারেজে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে কয়েকগুণ বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ২০ ডিসেম্বর ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দকৃত অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মধুপুর উপজেলার কাকরাইদ পৌঁছালে সেনাবাহিনীর একটি ট্যাঙ্কের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে আর তা মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল কম্পাউন্ডে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনের মাধ্যমে বাসাইল উপজেলা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধারে আনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর সেটিও বিকল হয়ে যায়। মেরামত করতে অনেক টাকা লাগে বলে ওই অ্যাম্বুলেন্সটিও মেরামত করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মজিবর রহমান জানান, ঘাটাইল থেকে রোগী নিয়ে ঢাকায় যেতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে খরচ হয় দুই হাজার ৯০০ টাকা। সেখানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নেয় ছয় হাজার টাকা। ময়মনসিংহ যেতে যেখানে লাগে এক হাজার ৬০০ টাকা, সেখানে তারা নেয় তিন হাজার টাকা। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে গরিব রোগীদের জন্য এত টাকা দেওয়া কষ্টকর।

ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরা জানান, আগে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে ময়মনসিংহ গিয়েছি এক হাজার ৬০০ টাকায়। এখন বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হয় তিন হাজার টাকায়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকায় বাইরের অ্যাম্বুলেন্স নিতে হয়। টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ভূঞাপুর, নাগরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়া হয়নি। মুমূর্ষু রোগীদের কথা চিন্তা করে হাসপাতালটিতে দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান খান বলেন, অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। তাদের বাইরে থেকে মোটা অঙ্কের টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। গত বছর অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা দেওয়া হলেও এখনও আমরা পাইনি।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ
  • স্বাস্থ্য এর পাঠক প্রিয়