Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ওমিক্রনে পাঁচ দিনের আইসোলেশন যথেষ্ট

ওমিক্রন আইসোলেশন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ইতোমধ্যেই মানুষের দেহে প্রভাব বিস্তার ঘটিয়েছে। ভাইরাসের এই প্রভাব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

আগে করোনাভাইরাসে পজিটিভ হলে ১৫ কিংবা ১০ দিন আইসোলেশনে থাকতে হতো। কিন্তু এখন ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে মাত্র ৫ দিন আইসোলনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। তবে এখানে কিছু শর্তও মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

ওমিক্রন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে আগের ধরনগুলোর চেয়ে ওমিক্রন অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং এই ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর দ্রুততর সময়ে রোগীর ভেতর উপসর্গ দেখা দেয়।

করোনাভাইরাসের আগের ধরনগুলোর পাঁচ থেকে ছয়দিন পর রোগীর শরীরে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ডেল্টার ক্ষেত্রে ছিল চার দিন। কিন্তু ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীর উপসর্গ দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে ফুটে উঠছে।

স্পেনের লা রিওহা ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ভিসেন্তে সোরিয়ানো বলেন, ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীকে দুই দিনের মধ্যে রোগী শনাক্ত করা যায়।

ওমিক্রনের ক্ষেত্রে, আক্রান্ত রোগীর শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ার একদিন বা দুদিন আগেই সে অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে। এরপর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত সে অন্যের জন্য ঝুঁকি থাকবে।

ড সোরিয়ানো বলেন, আমাদের বিশ্বাস ওমিক্রন ভাইরাস মাত্র পাঁচদিনের জন্য সংক্রামক থাকে। কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তিন থেকে পাঁচ দিন সে অন্য যে কাউকে সংক্রামিত করতে পারে।

তিনি আরো জানান, ওমিক্রন ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সাত দিনের মত থাকে। ফলে শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর বড়জোর সাত দিন কোনো রোগী অন্যের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

এটি মেডিসিন, গণিত নয় সুতরাং দু্ই চার দিন কম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ড. ভিসেন্তে সোরিয়ানো।

এদিকে সিডিসি সর্বশেষ প্রকাশিত গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ওমিক্রন পজিটিভ ব্যক্তি পাঁচ দিন ঘরে একা থাকার পর অন্যের সঙ্গে মিশতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত মানতে হবে।

শর্তগুলো হচ্ছে

১. করোনা টেস্টে পজিটিভ হলে কমপক্ষে পাঁচ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। যেদিন শরীরে উপসর্গ দেখা দেবে, সেই দিনকে শূন্য ধরে ঐ পাঁচ দিন গণনা করতে হবে।

২. পাঁচ দিন পর শরীরে কোনো উপসর্গ না থাকে কিংবা উপসর্গ কমতে থাকে তাহলে বাড়ির বাইরে যাওয়া যেতে পারে। অন্যের সঙ্গে দেখা করার সময় আরো কমপক্ষে পাঁচ দিন মুখে মাস্ক পরতে হবে।

৩. উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর কমপক্ষে ১০ দিন ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। ষষ্ঠ এবং ১০ম দিনের মধ্যে যদি অন্যদের সঙ্গে কোনো ভ্রমণ করতেই হয়, তাহলে মুখে তিন চারটা মাস্ক পরতে হবে। শরীরে জ্বর থাকলে তা না যাওয়া পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকতে হবে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা আক্রান্ত কারো শরীরে কোনো উপসর্গ না থাকলেও তারা অন্যদের দেহে ভাইরাস সংক্রামিত করতে পারে। উপসর্গ-বিহীন রোগীদের কাছ থেকে সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি কারণ এরা সাধারণত আইসোলেশনে থাকে না বা সাবধানী হয় না।

আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি চারটি সংক্রমণের একটি হচ্ছে এমন রোগীর মাধ্যমে যাদের কোনো উপসর্গ নেই। ধারণা করা হচ্ছে ওমিক্রন ধরনের বেলায় এই ঘটনা বেশি করে ঘটছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ঘরের ভেতরও ফেস মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে অজান্তে কেউ অন্যের দ্বারা সংক্রামিত না হয়ে পড়ে।

এফএ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS