খরচ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার প্রজ্ঞাপন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া (ভিডিও)

প্রকাশ | ০৭ আগস্ট ২০২০, ২০:৫১ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২০, ২১:১৭

আরটিভি নিউজ
সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে যথাযথ আবাসন সুবিধা নেই বলে দাবি করেছেন করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা, ছবি: আরটিভি

সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে যথাযথ আবাসন সুবিধা নেই বলে দাবি করেছেন করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাছাড়া ২৯ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপনে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়াবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য বিষয়গুলো পুনরায় বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। 

করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এতোদিন হোটেলে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে বাধ সেধেছে ২৯ জুলাই জারি করা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপন।

ঢাকার স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য হোটেল বাদ দিয়ে ঢাকা মহানগরের ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে আবাসন সুবিধার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি, ন্যাশনাল একাডেমি অব এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও জাতীয় স্থানীয় সরকার ইন্সটিটিউট। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, এসব জায়গায় থাকার যথাযথ পরিবেশ নেই।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ জানান, আমি ৬টি জায়গায় গতকাল থেকে কথা বলছি। ৬টির মধ্যে আমাদের দুটি স্পেস আছে আর বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান একেবারে না-ই। সেখানকার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘আমাদের কাছে কোনো খালি জায়গা নেই।’ দুটোর মধ্যে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বলছে আমাদের যে হোস্টেল খালি আছে এটি প্রায় পরিত্যক্ত। এখানে যে কমন বাথরুম আছে তা ব্যবহারযোগ্য না। এখন শিক্ষকরাও কেউ থাকে না। নামেই শুধু তাদের ২৫টি রুম আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মীরা সাতদিন কাজ করার পর ১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ দিন কাজ করার পর ১৫দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা। এছাড়া নিজ বাসাতে কোয়ারেন্টিন করতে বলা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

---------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: মহামারি রোগ গোপন করা অপরাধ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
---------------------------------------------------------------

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার ইকবাল আর্সলান জানান, চিকিৎসক বা চিকিৎসাকর্মীরা মানসিকভাবে খুবই অস্থিরতায় ভুগছেন। তাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য তারা যেহেতু বেশি সচেষ্ট থাকবেন, সে বিবেচনায় আমি মনে করি চিকিৎসাব্যবস্থা এতে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ আরও বলেন, ওরা বাসায় যাওয়া মানে হলো বাসার বাকি সদস্যদের ঝুঁকিতে ফেলানো। সব ডাক্তার যদি ইফেক্টেট হয়ে যায়, ডাক্তারের ফ্যামিলি যদি ইফেক্টেট হয়, তা হলে চিকিৎসা চালানো কোনোভাবে সম্ভব হবে না। বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি আরও চিন্তা-ভাবনা করে ধীরেসুস্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমরাও বলছি খরচ কমাতে হবে, ঝুঁকি কমাতে হবে। সংক্রমণ বাড়লে এতে তো চিকিৎসা খরচ আরও বেড়ে যাবে।

দেশে কোভিড চিকিৎসায় ৫ হাজার ৭২৬ জন চিকিৎসক, ১০ হাজার ৪ জন নার্স ও ৭ হাজার ৫১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়নের দাবি উঠেছে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে।
এনএম/পি