logo
  • ঢাকা সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬

সন্তানের শিক্ষা খরচ চালাতে ধুকছে সাভারের শ্রমিক পরিবারগুলো

সাভার প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৩:৩৮ | আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৭
ঢাকার সাভার উপজেলার কলেজগুলোতে ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন আদায়ে নৈরাজ্য চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফি এর চেয়ে এলাকায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ গুণ ভর্তি ফি আদায় করা হয়েছে। বেতনও আদায় করা হচ্ছে আকাশ ছোয়া। শ্রমিক অধ্যুষিত এই এলাকায় দরিদ্র অভিভাবকরা যাকে বলছেন 'অমানবিক'। কোনো কোনো অভিভাবকের আয়ের সত্তর শতাংশই সন্তানের শিক্ষা খরচে ব্যায় করতে হচ্ছে। ছাত্র ইউনিয়নের গবেষণা টিমের পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   

ছাত্র ইউনিয়ন বলছে, প্রতিবছরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা করে থাকে। চলতি জুলাই মাসে সেই ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে স্নাতক ভর্তির প্রক্রিয়া। তবে কেউই নীতিমালা মানছেন না। একাদশ নীতিমালায় বলা হয়েছে, নীতিমালায় একাদশ শ্রেণিতে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি মফস্বল, পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১ হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২ হাজার টাকা, ঢাকা ছাড়া অন্য সব মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকার বেশি আদায় করা যাবে না। একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন ফি নেওয়া যাবে। তবে কোনোভাবেই পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। তবে সাভারের কলেজগুলো কোনো নীতিমালাই মানছে না। উপজেলা হলেও এখানে এক হাজার টাকার বদলে তিন হাজার থেকে দশ হাজার টাকা ভর্তি ফি আদায় করা হচ্ছে। 

স্থানীয় ছাত্র ইউনিয়নের গবেষণা টিম পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, প্রায় সব কলেজেই আকাশ ছোয়া বেতন ফি আদায় করা হচ্ছে। শ্রমিক অধ্যুষিত এই শিল্প এলাকায় খুবই সংকটে জীবন যাপন করে তারা। তবে সন্তানের শিক্ষার খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক পরিবারের সন্তানের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। ছাত্র ইউনিয়ন বলছে, শিক্ষা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও সাভারের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি বানিজ্যিকীকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যত ব্যবসাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা পাওয়ার স্বপ্ন, দু:স্বপ্ন হয়ে উঠেছে।

ছাত্র ইউনিয়নের গবেষণা টিম বলছে, সাভার কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি ৫,৫০০ টাকা, মাসিক বেতন ৫৫০ টাকা,  গাজীরচর এএম হাইস্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি ফি ৫,০০০ মাসিক বেতন ৫০০,  বেপজা পাবলিক কলেজ ভর্তি ফি ১০,০০০, মাসিক বেতন – ১৬০০, এইআরই স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি ফি ৮,০০০ মাসিক বেতন  ১০০০, সাভার মডেল কলেজে ভর্তি ফি ৯,০০০ মাসিক বেতন ৯৫০, সাভার ল্যাবরেটরি কলেজে ভর্তি ফি  ১০,২০০ মাসিক বেতন ১,০০০ লিজেন্ড কলেজ  ভর্তি ফি ৭৭০০ মাসিক বেতন ৯০০, ম্যাস্ট্রো ক্রাউন কলেজে ভর্তি ফি ৫,০০০ মাসিক বেতন ৮০০, কানাডিয়ান কলেজে ভর্তি ফি ৪,০০০ মাসিক বেতন ৫০০, সিএফএম কলেজে ভর্তি ফি ৯,৮০০, মাসিক বেতন ৯০০ শিকদার কলেজে ভর্তি ফি ৫,০০০ মাসিক বেতন ৫০০, আশুলিয়া কলেজে ভর্তি ফি  ৩০০০ মাসিক বেতন ৩৫০, দোসাইদ একে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ফি  ৩০০০ মাসিক বেতন ৬০০, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ভর্তি ফি ৯,৫০০ মাসিক বেতন ৩০০ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে। যা ভর্তি নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং স্থানীয় অধিবাসীদের নাগালের বাইরে। 

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গবেষণা টিমের সমন্বয়ক বাবলু ইসলাম অর্ণব আরটিভি অনলাইনকে জানান, সাভার উপজেলার হাতেগোনা কয়েকটি কলেজের ছাড়া প্রায় সবকয়টি কলেজে শিক্ষার্থীদের অভিভাবককে অতিরিক্ত বেতন-ফি গুণতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতনের নামে ৩০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়াও কলেজের বিভিন্ন নামে-বেতনামে বাড়তি ফি গুণতে হচ্ছে। র্যাগ ফি, পিকনিক ফি, ক্লাস টেস্ট ফি, উন্নয়ন ফি, ক্রীড়া ফির নামে প্রায়ই অতিরিক্ত ফি আদায়ের মহোৎসবে মেতে উঠেছে কলেজগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরণের উদ্যোগ থাকার স্বত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা এমন নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের তৎপরতা না থাকায় দরিদ্র শ্রমিক পরিবারগুলোকে সন্তানদের শিক্ষা খরচ চালাতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। রাজধানীতে সরকারি সংস্থার তৎপরতা থাকলেও সাভার এলাকায় কোনো সংস্থার তৎপরতাই দেখা যায়নি বলে দাবি করেন এই ছাত্র নেতা।

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়