logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

ডাকসু নির্বাচন: পাঁচ শীর্ষ নেতাকে ঘিরে মাঠ গোছাচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন
|  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩২ | আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও পাঁচ শীর্ষ নেতাকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠ গোছাচ্ছে ক্যাম্পাসে এক সময়ের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা বামপন্থী সংগঠনটি। এজন্য সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটির হাইকমাণ্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এই সংগঠনটি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ডাকসু নির্বাচনেও পূর্ণ প্যানেলে জয় পায়। ওই নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়নের মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ভিপি ও ডা. মাহবুব জামান জিএস নির্বাচিত হন। এরপরে আরও ৬টি নির্বাচনে ভিপি-জিএস পদে জয় না পেলেও দলের প্রার্থীদের ধারবাহিকতা ছিল। 

১৯৮৯ সালের নির্বাচনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্যানেলে দলের আরেক শীর্ষ নেতা নাসির উদ দৌজা এজিএস হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর একটি নির্বাচন হলেও তাতে সুবিধা করতে পারেনি সংগঠনটি। তবে এবারের বিষয়টি একেবারেই আলাদা। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর এবারের নির্বাচনে জয় পেতে বেশ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছে দলটি। নির্বাচনকে সামনে রেখে গড়ছে জোট, গোছাচ্ছে প্রার্থী। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গণসংযোগও করছে। 

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থী এখনই চূড়ান্ত না হলেও সম্ভব্য পাঁচ শীর্ষ নেতাকে ঘিরে এগোচ্ছে দলটি। এরা হলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিব মোহাম্মদ আশিক, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আরেক নেত্রী কাজী মালিহা। 

এদের মধ্যে লিটন নন্দী, ২০১৫ সালে পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন। দুর্বৃত্তদের হামলায় ভেঙে গিয়েছিল তার হাত। পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টে ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কারাবরণও করেছেন। বিভিন্ন সময় তিনি ক্ষমতাসীনদের হামলারও শিকার হয়ে পরিচিতি পেয়েছেন। ফলে আগামী ডাকসু নির্বাচনে বাগেরহাটের এই সন্তানকে প্রার্থী করার কথা ভাবছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।  

আইইআর থেকে স্নাতক শেষ করা ২৮ বছর বয়সী এই নেতা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ভন্যান্স স্টাডিজে স্নাতকোত্তর করছেন। দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হবার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ হল কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির বাইরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন দীর্ঘ সময়।  

দলটির আরেক নেতা ফয়েজ উল্লাহ বর্তমানে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছেন। ফেনীর এই ছাত্রনেতা ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। কার্জন হল কেন্দ্রীক বিজ্ঞান বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের মাঝেও তার জনপ্রিয়তা বেশ। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি হবার আগে তিনি সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফজলুল হক মুসলিম হলের নেতা ছিলেন। ফলে তাকে ঘিরে জয়ের কথা ভাবছে নেতাকর্মীরা। 

ফয়েজ উল্লাহ বলেন, দলের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগের বিষয়টি বিবেচনা করছি। চলতি সপ্তাহেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে। দল যদি মনে করে, তবেই প্রার্থী হবো। এ বিষয়ে দলের বৈঠকে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাস পড়াশোনা করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। তিনি ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে এর আগে তিনি সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ সম্পাদক ও জগন্নাথ হল কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝেও তার ব্যপক পরিচিতি রয়েছে। 

সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিব মোহম্মদ আশিকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের এই শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন ঢাকা সিটি কলেজ ও মনিপুর স্কুলে। ফলে ঢাকার স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার যোগাযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন হাইকমান্ড। 

সুন্দরবন রক্ষাসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়ে আলোচিত হয়েছেন আশিক। কলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের মাঝেও তার পরিচিতি রয়েছে বেশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক হবার আগে কলা অনুষদের সাধারণ সম্পাদক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলেন হাসিব মোহম্মদ আশিক জানান, স্কুল জীবন থেকেই ছাত্র ইউনিয়ন করি। ক্যাম্পাসের শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয় আছি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই। আগামী ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। তবে দলের ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।  

ইংরেজী বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী কাজী মালিহা ছাত্র ইউনিয়ন করেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই। রংপুরে বেড়ে ওঠা মালিহা ছাত্রস্বার্থে গড়ে ওঠা সমসাময়িক সকল আন্দোলনেই ছিলেন সক্রিয়। কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক এ শিক্ষার্থীর আঞ্চলিক ভোটেও আছে দারুণ প্রভাব। পাশাপাশি নারীদের ভোটও কাটতে পারবেন বলে মনে করছন ছাত্র ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা।

দলের প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী আরটিভি অনলাইনকে জানান, দলের প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারা প্রার্থী হবেন, সেটা নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ভিপি পদেই নির্বাচন করতে চাই। এ বিষয়ে দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে দলের যেসব নেতা জনপ্রিয় তাদেরকেই আমরা প্রার্থী করবো। সেক্ষেত্রে পূর্ণ প্যানেলে জয় পেতে সমমনা ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদেরও সাথে নেব আমরা।  
     
এসজে/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়