logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

ডাকসু নির্বাচন: ছাত্র ইউনিয়নের ভাবনায় ১০ নেত্রী

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন
|  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৩ | আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৪
আগামী ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন। সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত হয়েছে সংশোধিত গঠনতন্ত্র। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ক্রিয়াশীল দলগুলো ভেতরে ভেতরে গুছিয়ে নিচ্ছে দলকে। এরই মধ্যে দলের কৌশল নির্ধারণ করেছে অন‌্যতম প্রধান সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন। ডাকসু নির্বাচনে নিজেদের প্যানেল ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয় করতে দলের নারী নেত্রীদের সামনে রাখতে চান তারা। এজন্য অন্তত দশ নারী নেত্রীর কথা ভাবছে দলটি। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে জয় পেতে মাঠঘাট বেঁধেই নামতে চায় ছাত্র ইউনিয়ন। এরই মধ্যে দলের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে বেশ কিছু কৌশল নির্ধারণ করেছে বামপন্থী এ দলটি। বিশেষ করে হলে হলে নিজস্ব প্যানেলে প্রার্থী দিতে চায় তারা। তবে কোথাও কোথাও জয় ছিনিয়ে আনতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটকেও সাথে নেবে দল। বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোতে জয় পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই ছাত্র সংগঠনটি। 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিব মোহম্মদ আশিক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। যদিও ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নেই। হলে হলে এখনও ক্ষমতাসীনদের দখলদারিত্ব বিরাজমান। তবুও আমরা সাধ্য অনুযায়ী নির্বাচনে লড়বো। যেখানে এককভাবে সম্ভব, সেখানে এককভাবেই প্রার্থী দেয়া হবে। এককভাবে সম্ভব না হলে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর জোটের মাধ্যমে প্রার্থী দেয়া হবে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের অভ্যন্তরে নারী প্রার্থী হিসেবে অন্তত দশজন আছেন আলোচনায়। মাঠ পর্যায়ে ছাত্র ইউনিয়নের ত্যাগী, নিষ্ঠাবান এবং নেতৃত্বদানে সক্ষম এমন নারী নেত্রীদের বাছাই করে দলীয় সভায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করবেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এসব বিবেচনায় নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে আছেন ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ বিষয় সম্পাদক ঐশ্বর্য আহমেদ। তিনি ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মাঝে তার জনপ্রিয়তাও বেশ।  

ইংরেজী বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী কাজী মালিহাও আছেন আলোচনায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আরেক সদস্য সৈয়দা তসলিমা হোসেন নদীও আছেন আলোচনায়। এমবিএ'র শিক্ষার্থী অস্মিতা ফরিদও প্রার্থী হতে পারেন ডাকসুতে। তিনি এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আলোচনায় আছেন দলের আরেক নেত্রী মনিরা দিলশাদ ইলা। তিনি ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রার্থী হতে পারেন হল সংসদে। এছাড়া আলোচনায় আছেন নাট্যতত্ত্ব বিভাগের নিকিতা আযম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অর্ণি আনজুম, ভাস্কর্য বিভাগের সেমিতা ইব্রাহীম মিতিসহ আরও ৫ নেত্রী। 

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মনিরা দিলশাদ ইলা আরটিভি অনলাইনকে জানান, 'এবারের ডাকসু নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করবো। শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়ার আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছি সবসময়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গণসংযোগ করছি। আশা করছি, ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেলে নির্বাচন করতে পারবো।' আরেক নেতা কাজী মালিহা বলেন, 'শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা ভাবছি। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।'

এ ব্যাপারে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আপাতত হল সংসদের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য প্রস্তুতি চলছে। নিজেদের প্রার্থী ঠিক করে জোটের সঙ্গে আলোচনা করে প্যানেল করা হবে। দু''চার দিনের মধ্যে প্যানেল চ‚ড়ান্ত হবে। প্যানেলের নারী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য থাকবে। নারীদের মধ্যে কারা কারা প্রার্থী হচ্ছেন জানতে চাইলে বলেন, দীর্ঘ আটাশ বছর নির্বাচন বন্ধ ছিল। আমরা চেষ্টা করছি, এ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে। এ নির্বাচনে নারীদের অগ্রাধিকার দেবে ছাত্র ইউনিয়ন। 

এসজে  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়