• ঢাকা সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬

দীঘিটি যেন বিষাদ নীলের এক টুকরো ভালোবাসা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
|  ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:০১ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১২
জলের কোনও রঙ নেই। তবু বিশাল আকাশটা টুপ করে জলের তলে ডুবে যায় বলেই বোধহয় তার নাম নীলদীঘি। সবুজ খামের ভিতর বিষাদ নীলের একটুকরো ভালবাসার চিরকুট যেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সবচেয়ে সুন্দর অংশ এটি। পাশেই আকাশমণির বন। ঝরা পাতার শব্দ, পাখির মিষ্টি ডাকে মুখরিত এ অংশটা ক্যাম্পাসের অন্যতম আড্ডার স্থল।

western বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝখানে প্রায় এক একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত বিশাল দীঘির উত্তর-দক্ষিণের বাঁধানো ঘাট দুটো তাই ব্যস্ত থাকে রোজ। কেউ বসে গিটারে সুর বাঁধে, কেউ বা ভালবাসার জাল বুনে। চড়ুইভাতি, জন্মোৎসব, আড্ডা, ফটোশুট কি না হয় এখানে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সামসুদ্দিন সৃজন এই দিঘীতে ডুবে মারা যান। তাই তার প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীরা উত্তরঘাটের নাম দেয় সৃজন ঘাট।

ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয় প্রকৃতির। গ্রীষ্মের সোনালি রোদ্দুর, শরতের নীলাভ আকাশ অথবা শ্রাবণের মেঘগুলো আকাশে জড়ো হতেই বদলে যায় দীঘির চেহারা। প্রকৃতি যেন সমস্ত সুধা ঢেলে দেয় এখানে।

দীঘির শীতল জলে শরীর জুড়াতে প্রায় এখানে গোসল করতে আসে শিক্ষার্থীসহ আশেপাশের মানুষজন। এ জল শুধু শোভা ছড়ায় না, হলের শিক্ষার্থীদের পানির প্রয়োজন মেটানোসহ ব্যবহৃত হয় নানাবিধ কাজে।

ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা মানুষগুলোর অন্যতম আকর্ষণ থাকে নীলদীঘি। দীঘির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যাম্পাসের পরিবেশকে করে তুলেছে আরও সতেজ ও নির্মল।

দিঘীর চারপাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৈরি করেছে মসৃণ সরু পথ। আছে বসার বেঞ্চ। সন্ধ্যা হতেই হরেক রঙের বাতির আলোয় আলোকিত হয়ে যায় দীঘির পাড়। চাইলেই প্রিয়জন অথবা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এখানে কাটানো যায় সুন্দর সময়।

রোজকার সব অনুভূতি কি গভীর ভালবাসায় জড়ায় এখানে। দিনরাত শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত থাকে নীলদীঘির পাড়। রোজকার কতশত গল্প জমে এখানে, কত স্বপ্নের সূচনা হয় এখান থেকেই। আছে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া গুচ্ছ কদমের ভালবাসি বলার গল্প, আছে হৃদয় ক্ষরণের গল্প, আছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা বন্ধুত্বের গল্প।

শুধু কি দিন? সন্ধ্যা হতেই ছাত্রদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে দীঘির প্রাঙ্গণ। চলে আড্ডা, গান, আলোচনা, বারবিকিউ পার্টি ও ভরা পূর্ণিমায় জোছনা বিলাস। ক্যাম্পাস জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া দীঘির মায়াজাল তাইতো পিছু টানে খুব। তবুও এ মায়াজাল ছিঁড়ে বছর বছর বিদায় নেয় পুরাতন ব্যাচ। নতুন ব্যাচ আসে। নতুন মায়ায় জড়ায়। কবিতা গানের আসর জমে, নতুন স্বপ্ন, নতুন সব গল্প। শুধু দৃশ্যপট একই। বছরের পর বছর জমা হওয়া সব টুকরো স্মৃতি গল্পের রাজসাক্ষী হয়ে থাকে নীলদীঘির পাড়।

আরও পড়ুন : 

জেবি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়