• ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

শিক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১২ | আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:১৭
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের এমন ব্যবহার কাম্য নয়। বললেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

আজ (মঙ্গলবার) ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

western শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনও শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে পারবেন না। সরকার এ আইন করেছে। তদন্ত করে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাহিদ জানান, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওই ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক মো. ইউসুফকে প্রধান করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মাউশির ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের উপ-পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন এবং ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার বেনজীর আহমেদকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের আলাদা কমিটি গঠন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্কুল থেকে ওই ছাত্রীকে টিসি দেবার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস।

অপরদিকে, শিক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনার বিচারের দাবিতে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবকরা। পরীক্ষা বর্জন করেছে ওই ছাত্রীর সহপাঠিরা।

উল্লেখ্য, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল বাবাকে ঢেকে অপমান করায় নবম শ্রেণির অরিত্রি অধিকারী নামে এক শিক্ষার্থী সোমবার রাজধানীর শান্তিনগরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

নিহতের বাবার নাম দিলীপ অধিকারী। তার বাসা রাজধানীর শান্তিনগরে। নিহত ছাত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ‘ক’ শাখার ছাত্রী। তার  রোল নম্বর ১২।

পারিবারিক ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, স্কুলে সাথে মোবাইল রাখার কারণে শিক্ষক পরীক্ষা দিতে দেবে না বলে অরিত্রিকে জানায়। পরে তার বাবা ও মাকে সাথে নিয়ে প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করে অরিত্রি অধিকারী। সেখানে অরিত্রির বাবা-মাকে অপমান করেন প্রিন্সিপালসহ পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য।

এমনকি তারা মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতেও বলেন। অপমান সইতে না পেরে বাবা দিলীপ অধিকারী কান্না করেন। এ সময় অরিত্রি দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে দিলীপ অধিকারী ও স্ত্রী বাড়ি গিয়ে দেখেন অরিত্রি তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছে।

অরিত্রিকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন তারা। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে দায়িত্বরত ডাক্তার অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন।

অরিত্রির গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। সে পরিবারের দুই বোনের মধ্যে বড়।

আরও পড়ুন : 

জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়