কার হক বেশি? আত্মীয় না প্রতিবেশি

প্রকাশ | ১২ জুলাই ২০১৯, ১২:৫৩ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯, ১৩:৫৪

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
ফাইল ছবি

আত্মীয়-স্বজন প্রতিটি মানুষের কাছেই প্রতিবেশির চেয়ে বেশি আপন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আত্মীয়-স্বজন কখনোই প্রতিবেশির চেয়ে বেশি উপকারে আসে না।

কারণ আত্মীয়-স্বজন সবসময় ধারে-কাছে থাকে না। প্রতিবেশিরাই বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে একে অপরের কাছে প্রথমে এগিয়ে আসে। প্রতিবেশির যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সামাজিক শান্তি নিশ্চিত হয়।

বিপদের সময় প্রথমে প্রতিবেশিরাই এগিয়ে আসে।  শুধু তাই নয়, সামাজিক কাজ-কর্ম, বিয়ে-শাদীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনের চেয়ে প্রতিবেশিরাই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদেরকে কুরআন-হাদিসে  অভিশপ্ত বলা হয়েছ। আবার প্রতিবেশির সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারে কুরআনে পাকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘কাছের প্রতিবেশি, দূর প্রতিবেশি এবং সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার কর।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৬)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হক বা অধিকার হিসেবে প্রতিবেশিকে ৩ ভাগে বিভক্ত করেছেন-

> যারা আত্মীয় নয় আবার মুসলিমও নয়।

> যারা আত্মীয় নয়, তবে মুসলিম।

> যারা আত্মীয় এবং মুসলিম।

প্রতিবেশি অমুসলিম হলেও তারা একে অন্যের সহযোগী।

আবার প্রতিবেশি মুসলিম হলে এমনিতেই তার দু’টি হক প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়া ঈমানের পরপন্থী কাজ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশিকে কষ্ট না দেয়।’ (মিশকাত)

শুধু এ হাদিসই নয়, তিনবার শপথ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি ঈমানদার নয়। সাহাবে কেরাম প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কে সেই ব্যক্তি? জবাবে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যার প্রতিবেশি তার অনিষ্ট বা ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না।’ (মিশকাত)

সুতরাং কুরআনের নির্দেশ এবং হাদিসের নির্দেশনা থেকে বুঝা যায়, প্রতিবেশির হক বা অধিকারের প্রতি সেভাবেই লক্ষ্য রাখা উচিত যেভাবে প্রতিবেশিদের একজন অপর জনের বিপদ-আপদে সাহায্যের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রতিবেশির সঙ্গে সদ্ব্যহার করার পাশাপাশি তাদের সামনে-পেছনে মঙ্গল কামনা করা, তাদের কাউকে কোনো ব্যাপারে কষ্ট না দেয়া। সব সময় একে অপরের উপকারের মানসিকতা পোষণ করা।

হাদিসে আছে, ওই ব্যক্তি ঈমানদার নয় যে তৃপ্তিসহকারে খাবার গ্রহণ করে অথচ তার প্রতিবেশি তার পাশেই অভুক্ত, খাদ্যাভাবে পড়ে থাকে।

আল্লাহ তা্আলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক প্রতিবেশির অধিকার আদায়ের তাওফিক দান করুন।

এমকে