• ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

নোবিপ্রবি ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

নোবিপ্রবি সংবাদদাতা
|  ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১০:০০
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে হৃদয় নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

whirpool
মঙ্গলবার  শহরের মাইজদী এলাকা থেকে ওই  যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

হৃদয় নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মী-নারায়ণপুর মহল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং তিন নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী শহরের হাউজিং সোসাইটি এলাকায় একটি মেসে থাকেন। তিনি গ্রেপ্তার হৃদয়ের বোনকে প্রাইভেট পড়াতেন। গেল দুই মার্চ প্রাইভেট পড়িয়ে মেসে ফেরার পথে জেলা শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় ওই ছাত্রীর পথরোধ করেন হৃদয়। তাকে মোটরসাইকেল উঠতে বলেন। কিন্তু হৃদয়ের কথা না শুনে ছাত্রী হাঁটা শুরু করেন। তখন হৃদয় তার হাত ধরে টানাটানি করেন ও শ্নীলতাহানির চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হৃদয়ের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই ছাত্রী। তখন হৃদয় লোহার রড দিয়ে ছাত্রীটির মাথার পেছনের অংশে কয়েকবার আঘাত করেন। এতে অচেতন হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এরপর দীর্ঘদিন নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ও চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে শিক্ষকদের ঘটনাটি জানান ওই ছাত্রী। পরে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ বিকেলেই হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করেন, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হৃদয় তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। তাতে ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশে মাথার পেছনে আঘাত করে।

তিনি আরও বলেন, মাথায় আঘাতের কারণে তিনি একমাস স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি হৃদয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নোবিপ্রবির রেজিস্টার অধ্যাপক মো. মমিনুল হক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, যৌন হয়রানির শিকার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার ও বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছে। এজন্য কর্তৃপক্ষ তাকে সহযোগিতা করেছে। ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে পার পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। অপরাধীকে তার শাস্তি পেতেই হবে।

সহকারী প্রকটর ইমরুল কায়েস আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়ে জরুরি সভার আহ্বান করে। সভায় প্রচলিত আইনে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি যেন হয় এই দাবি জানান তারা।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়