• ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

জাবির সবুজ প্রকৃতিতে প্রজাপতির মেলা

জাবি সংবাদদাতা
|  ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:০৮ | আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৩
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবম বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো প্রজাপতি মেলা-২০১৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে এ বছরও মেলায় ৫০ প্রজাতির প্রজাপতি ডানা মেলাচ্ছে। ‘প্লেন টাইগার’, ‘কমন ক্রো’, ‘প্লেম জুডি,  ‘ডিঙ্গি বুশব্রাউন’, ‘কমন ডাফার’, ‘এপফ্লাই’ ‘পিবু’সহ নানা প্রজাতির বিচরণে ছেয়ে গেছে জাবির ক্যাম্পাস।

‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এই স্লোগানকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে প্রজাপতি অবমুক্ত করে এবং বেলুন উড়িয়ে এই মেলার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী ভাষণে উপাচার্য বলেন, প্রজাপতির ডানা ছুঁতে কেউ ছুটেনি এমন মানুষ খুব কম আছে। প্রজাপতি শুধু মানুষকে আনন্দ দেয় তা নয় প্রজাপতি আমাদের অমূল্য সম্পদ। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতির অবদান অপরিসীম।প্রজাপতি একটা অসাধারণ পতঙ্গ। প্রজাপতির সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ এবং প্রজাপতির বাহারী রঙ আমাদের মন আনন্দে ভরিয়ে দেয়। আমরা  এ রকম একটি মনোমুগ্ধকর মেলার আয়োজন করতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।

মেলার উদ্বোধন শেষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে।দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা (শিশু-কিশোরদের জন্য), আলোকচিত্র  প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন, অরিগামি, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড্ডয়ন, বিতর্ক (প্রজাপতি ও জলবায়ু পরিবর্তন), প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

সাভার রেডিও কলোনি এলাকা থেকে মা-বাবার সঙ্গে এসেছে মর্নিং গ্লোরিং স্কুলের চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী আবরার রাইমি। কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে সে আরটিভি অনলাইনকে বলে, বিভিন্ন রকমের প্রজাপতি দেখে খুব ভালো লাগছে। আমি আবার আসব।

ইসলাম নগর এলাকা থেকে প্রজাপতি দেখতে আসা ফাহিম-ফারিয়া দম্পতি বলেন, প্রজাপতি দেখে খুব ভালো লাগছে। সত্যি এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে পেরে ছেলে-মেয়েরা আনন্দ পাচ্ছে।তাদের আনন্দে আমরা আনন্দিত।

মেলার  আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন জানান, দেশে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে।গাছ কাটা, লতাগুল্ম কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন তথা অতিবৃষ্টি, অতিরিক্ত গরম এসব কারণে প্রজাপতির সংখ্যা কমছে।তাই এ প্রজাপতি সংরক্ষণে মানুষকে সহমর্মীতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। আর প্রজাপতি সংরক্ষণ করতে পারলে আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতে পারব। তাই এ প্রজাপতি সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এ মেলার আয়োজন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে জাবিতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে দেশের একমাত্র প্রজাপতি মেলা। বছরজুড়ে অপেক্ষার পর এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রজাপতিপ্রেমীরা ছুটে আসছে মেলায়।

বিভিন্ন বয়সের হাজারও দর্শনার্থী ভিড় করেছে এ প্রজাপতি মেলায়। প্রজাপতির সৌন্দর্য যে কারও মনকে উৎফুল্ল করে তুলে। তাইতো ইট-পাথরে ঘেরা শহর থেকে একটুখানি হাফ ছেড়ে বাঁচতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকে আসতে শুরু করেছে প্রজাপতিপ্রেমীরা। তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সবুজের এ লীলাভূমি।

আরও পড়ুন :

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়