
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে(ফেইসবুকে) প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে আইসিটি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
জামিনের আদেশের অনুলিপি গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার (৩০শে অক্টোবর) সকালে তিনি মুক্তি পান।
হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ২০ দিন আগেই মাইদুলের জামিনের আদেশ দিলেও তা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের কারাগারে না পৌঁছানোর কারণে এতদিন তিনি ছাড়া পাননি।
শিক্ষক মাইদুল ইসলামের আইনজীবী ভুলন লাল ভৌমিক বলেন, হাইকোর্টের জামিন আদেশ গতকাল এসে পৌঁছেছে। বেইল বন্ড জমা দিতে গতকাল সন্ধ্যা হয়ে যায়। তাই আজ সকালে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
কারাগার থেকে মুক্তির পর মাইদুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মুক্তি পেয়ে তিনি সাময়িকভাবে খুশি হলেও পরিপূর্ণ আনন্দিত নন। মত প্রকাশের জন্য এখনও অনেকে কারাগারে আছেন। রাষ্ট্র যেভাবে মুক্তবুদ্ধির চোয়ালে আঘাত হানছে তা কাম্য নয়।
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে গেল ২৩ জুলাই শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল ইসলাম।
এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় শিক্ষক মাইদুল ইসলামসহ চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আলী আর রাজীকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ।
তাদের চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়ে মানবন্ধন এবং উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপিও দেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হুমকির কারণে ক্যাম্পাস ছেড়ে যান শিক্ষক মাইদুল ইসলাম। তিনি নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে আবেদন করেছিলেন।
গত ছয় আগস্ট হাইকোর্ট থেকে শিক্ষক মাইদুল ইলাম আগাম জামিন নেন। এরপর ২৪ শে সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের ৮ সপ্তাহের জামিন শেষে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।শুনানি শেষে আদালত সেটা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী মাইদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর ৯ অক্টোবর শিক্ষক মাইদুলকে ছয় মাসের জামিন দেয় উচ্চ আদালত।
জেবি




