logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

ঢাবিতে শিবির সন্দেহে নিজেদের কর্মীকে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ

ঢাবি সংবাদদাতা
|  ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ২১:০৪
শিবির সন্দেহে নিজেদের কর্মীকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। 
 
জানা যায়, গতকাল সোমবার রাত বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তানভীর আহমেদ মিরাজকে শিবির সন্দেহে আটক করে মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে তাকে মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরাজ মুহসীন হলের ৫৩৫ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তিনি মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সরকার জহির রায়হানের অনুসারী ছিল। রাত বারোটার দিকে মিরাজেরই কয়েকজন সহপাঠী ইতিহাস বিভাগের আবদুর রহমান আবির, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের আকাশ আহমেদ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আকাশ, এমআইএস বিভাগের সোয়াদ শিবির সন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। 
 
এ বিষয়ে মিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদকারী আবদুর রহমান আবির বলেন, প্রথম বর্ষ থেকে তাকে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ হতো। শিবিরের বিভিন্ন পেইজ ও পোস্টে তার লাইক ছিল।  জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দুর্ব্যবহার করে এবং পরে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে স্বীকার করেন। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর। এজন্য তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। 
 
তবে পুলিশের কাছে সোপর্দের আগে মিরাজ বলেন, আমি মন থেকে ছাত্রলীগ করি। দুই-তিন বছর আগে আমি বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু এখন আর করি না। পূর্বেকার বিএনপি-জামায়াতপন্থী পেজগুলোতে লাইক দেয়ার কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 
 
এদিকে, পুলিশে সোপর্দকৃত মিরাজের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে তাকে নিয়মিত ছাত্রলীগের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের পোস্ট শেয়ার করতে দেখা গেছে।
 
পুলিশে সোপর্দের বিষয়ে জানতে মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি। 
 
পুলিশে সোপর্দের বিষয়ে মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সরকার জহির রায়হান বলেন, তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং গত এক-দেড় বছর যুক্ত নাই বলে নিজেই স্বীকার গেছে। বর্তমানে তিনি ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে থাকার কারণে হয়তো প্রকাশ্যে কোনও কর্মকাণ্ড করে না। কিন্তু যারা একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকে তারা সেটা থেকে বের হতে পারে না।
 
পুলিশের কাছে সোপর্দের বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, আমরা এই বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।
 
এসএস
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়