• ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

নার্গিস-নিতু-রিশা : নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি

মির্জা রকিবুল হাসান রুমন
|  ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১১:৪৭ | আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:৪২
গেলো দেড় মাসে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বখাটেদের হাতে ২ নারীকে জীবন দিতে হয়েছে। প্রতিটি ঘটনাই দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করে। আলোচনা সমালোচায় প্রশ্নবিদ্ধ হয় আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা। সোমবার সিলেটে হামলার শিকার খাদিজা আক্তার নার্গিস এখন হাসপাতলে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

whirpool
খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে জখম করেছে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। সে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র।  গেলো ১৮ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরে নিতু মন্ডলকে কুপিয়ে হত্যা করে বখাটে মিলন মন্ডল । মিলন সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের স্নাতক পর্যায়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তবে রিশার হত্যাকারী ওবায়েদ ছিল দর্জি দোকানের কর্মচারি। তিনটি ঘটনায় হামলাকারীর দু’জনই শিক্ষিত যুবক।  

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আমাদের সমাজে ট্রানজিকশন পিরিয়ড চলছে। সাথে সামাজিক অবক্ষয়। যার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রতিটি সমাজেই একটা ট্রানজিকশন পিরিয়ড থাকে, অর্থাৎ সমাজের একটা স্তর থেকে আরেকটা স্তরে উত্তরণের সময়। আমাদের সমাজে সে উত্তরণের সময়টা চলছে। আমরা সনাতনী সমাজ ব্যবস্থা থেকে আধুনিকতার দিকে যাচ্ছি। এ সময়ে সমাজের মানুষদের মাঝে অনেক ধরনের পরিবর্তন আসে। তৈরি হয় নানা ধরনের প্রতিযোগিতা ও নতুন নতুন চাওয়া-পাওয়ার। সেই সাথে পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের নৈতিকতার।

তিনি বলেন, অনেক নতুন নতুন চিন্তা মানুষের মাঝে আসার ফলে তাদের মূল্যবোধেরও হচ্ছে অবক্ষয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের মিডিয়ারও একটা প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন নাটক সিনেমায় প্রেমে প্রত্যাখ্যান হয়ে নারীর ওপর যে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা দেখানো হয় এগুলোও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সমাজের মানুষের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে নৈতিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই বলে সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান মনে করেন। তিনি বলেন, আমাদের স্কুল-কলেজগুলোতে নৈতিক শিক্ষার কোর্স যদি চালু করা যায় তবে আশা করছি সময়ের সাথে সাথে এ নেতিবাচক বিষয়গুলো চলে যাবে।

আরএইচ/ এমকে/ এসজেড

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়