ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রজতজয়ন্তী মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৩ পিএম

প্রিয় প্রাঙ্গণ কুমিল্লার মুরাদনগরের প্রত্যন্ত গ্রাম রামচন্দ্রপুরের অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজ ক্যাম্পাস। স্মৃতি কারো কাছে ২৯ বছর আগের। কারোর আবার ২০ কিংবা ১০ কিংবা তারও কম। ১৯৯৫ সালে শিক্ষার আলো জ্বালাতে নিজ শ্বশুর বাড়ি এলাকায় গিয়ে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পপি গাইডের রচয়িতা অধ্যক্ষ মো. আবদুল মজিদ। যে প্রতিষ্ঠান ঘরে ঘরে আলো জ্বালিয়ে আলোকিত করেছে বাংলাদেশকে। সেই প্রতিষ্ঠান হাটি হাটি পা পা করে শৈশব, কৈশর পেরিয়ে এখন যৌবনের উত্তাল তরঙ্গে আন্দোলিত হচ্ছে। ২৮ পেরিয়ে ২৯ বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজের।

২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় রজতজয়ন্তী। অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজ সেই সময়টা পেরিয়ে এসেছে আরও চার বছর আগে। করোনা মহামারি, জাতীয় নির্বাচন ইত্যাদি নানা কারণে উৎসবটা আর হয়ে উঠেনি। অবশেষে আসছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আগামীকাল শনিবার অর্থাৎ ২০ এপ্রিল অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে হাজার হাজার মজিদিয়ানের। পুরনো সেই দিনের কথা বলতে এক হচ্ছে সখি-সখারা।

রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রথম ব্যাচের (১৯৯৭-পরীক্ষার্থী) শিক্ষার্থী ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (প্রশাসন) ও উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। তিনি বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এমন আয়োজন অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীসহ পুরো মুরাদনগর উপজেলাতেই এই অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা যে কলেজকে ভালোবাসে, রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রথম ব্যাচের (১৯৯৭-পরীক্ষার্থী) শিক্ষার্থী ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (প্রশাসন) ও উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। তিনি বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এমন আয়োজন অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীসহ পুরো মুরাদনগর উপজেলাতেই এই অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা যে কলেজকে ভালোবাসে, বিশেষ করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল মজিদকে ভালোবাসে এই অনুষ্ঠান তারই বহিঃপ্রকাশ। অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এটি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হবে।

প্রাক্তনদের কথা...

২০০২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ঢাকা মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, ২৯ বছর পর হলেও রজতজয়ন্তী উদযাপন করতে পারার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার নয়। ভালো লাগার অন্যতম কারণ সবার সঙ্গে সবার দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার সুযোগ। গ্র্যান্ড মিলনমেলায় রূপ নেবে রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান। ৫ হাজারের বেশি প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সমাগম ঘটবে। এতে আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। এক সপ্তাহ ধরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি সুন্দর ও সফলভাবে রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ঢাকা মেট্রোপলিটনের সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকটি গল্পেরই আলাদা একটা সত্ত্বা রয়েছে। ২৯ বছরে মজিদ কলেজ এমন শতশত গল্প রচনা করেছে। সব গল্প মিলেই রজতজয়ন্তীতে একটি গল্পসমগ্র হবে। রূপক অর্থে যার সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মজিদ। আমরা প্রত্যেকে গল্পের একেকটা চরিত্র।

২০০৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী সিলেটের সিনিয়র মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সগির আহমেদ টুটুল বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর অনেকের সাথে দেখা হবে। বিষয়টি ভাবতেই গাঁ শিউরে উঠছে। মুহূর্তটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আশা করছি রজতজয়ন্তী উৎসবের মাধ্যমে নতুন কিছু স্মৃতি নিয়ে যেতে পারবো, যেগুলো সারাজীবন বয়ে বেড়ানো যাবে।

২০০৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজধানীর মুগদা থানার সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, কত শত স্মৃতি আবদুল মজিদ কলেজকে ঘিরে। নদীতে গোসল করা, লঞ্চ ঘাটে ঘন্টার পর ঘণ্টা চুটিয়ে আড্ডা দেয়া, আশুলিয়ায় বসে বিকেলের হিমেল হাওয়ায় সিক্ত হওয়া, মাওলার দোকানে একসাথে সিনেমা দেখা আরও কত কি! সবকিছু যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে। রজতজয়ন্তী সেই স্মৃতিগুলো ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

২০১০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ঢাকার ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজ একটি আবেগের নাম। অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মজিদ ভালোবাসার আশ্রয়স্থল। আবেগ আর ভালোবাসার সম্মিলন ঘটাতেই আমাদের রজতজয়ন্তী উৎসবের আয়োজন। এর মাধ্যম নতুন আর পুরাতনের বন্ধন অঁটুট হবে। আমরা স্মৃতির ভেলায় চড়ে ফিরে যাবো এইচএসসির সেই দুটি বছরে।

কারা থাকছেন অতিথি হিসেবে?

প্রথম ব্যাচের ছাত্র মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সভাপতিত্বে রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল মজিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব (সচিব) মো. জয়নাল আবেদীন, ঢাকা মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: নিজামুল করিম, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও হোমনা উপজেলা চেয়ারম্যান, অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল মজিদের সহধর্মীনি রেহানা বেগম, মুরাদনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ড. আহসানুল আলম সরকার কিশোর, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন ও কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন মুরাদনগরের সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো: শফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল হাকিম খান।

যা যা থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে?

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শুরুটা হবে বর্ণাঢ্য র‍্যালি দিয়ে। সকাল সোয়া নয়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে কলেজ ক্যাম্পাসে এই র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ১০টা ৪০ মিনিটে অতিথিদের উত্তরীয় পরিধান ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হবে। তারপরই সমবেত জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন অতিথিরা। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল মজিদ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণার পর কলেজের যেসব শিক্ষার্থী এরইমাঝে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করা হবে। পৌনে ১২টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য রাখবেন এবং কলেজের সার্বিক বিষয়ে একটি উপস্থাপনা করবেন। তারপরই রজতজয়ন্তী উপলক্ষে যে স্যুভেনির প্রকাশ করা হচ্ছে তার মোড়ক উন্মোচন করবেন অতিথিরা।

এবার বক্তব্যের পর্ব শুরু। শুরুতেই প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখবেন কয়েকজন। বেলা ১২ টায় বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্য দেবেন। তারপর অনুষ্ঠানের উদ্বোধক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল মজিদ ও প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার বক্তব্য রাখবেন। পরে অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান শেষে দুপুর ১টায় অনুষ্ঠানের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। মধ্যাহ্নভোজন ও নামাজের বিরতির আগে অতিথিদের সঙ্গে ব্যাচ ভিত্তিক ফটোসেশনে অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে রজতজয়ন্তী উদযাপনের প্রথম পর্ব।

মধ্যাহ্নভোজন শেষে বেলা আড়াইটায় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণায় মুখর হয়ে উঠবে অনুষ্ঠান স্থল। স্মৃতিচারণ শেষে শিক্ষকদের সাথে ব্যাচ ভিত্তিক ফটো সেশনে অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল সাড়ে চারটায় র‌্যাফেল ড্র ও পুরষ্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব।

সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হবে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। এর মধ্য দিয়েই পর্দা নামবে রজতজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের। ভাঙবে কোলাহল। ক্রমেই নেমে আসবে নীরবতা। যে নীরবতা ভাঙতে অপেক্ষা করতে আরও ২১ বছর। ৫০ বছর পূর্তিতে হয়তবা কলেজ প্রাঙ্গণে বসবে সুবর্ণজয়ন্তীর বিশাল মহাযজ্ঞ। তখন শোক প্রস্তাবের তালিকাটা অনেক দীর্ঘ হবে। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া অনেকেই সেদিন সাদা চুল আর সাদা দাঁড়ি নিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে বেড়াবে কলেজ ক্যাম্পাসে। এইতো আর ক’দিন! ২০৪৫...

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বছরের প্রথম দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
এ বছর ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রথম ধাপে শৈত্যপ্রবাহের পর সারাদেশে শীতের প্রকোপ কমলেও আগামীকাল বছরের শুরু থেকে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। ঘন কুয়াশা থাকতে পারে দুপুর পর্যন্ত। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আরটিভি/একে/এআর
বছরের প্রথম দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিক্রমে গেজেট প্রকাশ করা হবে। বেতন কাঠামো হবে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী। এতে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বাসা এবং উৎসব ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যবসা করার জন্য বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রোগে আক্রান্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে, যা ফেরত দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, গ্রুপিং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মধ্যেও আছে। কখনো শুনেছেন তারা মারামারি করেছে। আমরা মুসলমানরা একদল আরেক দলকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। আপনারা (ইমাম-মুয়াজ্জিনরা) যখন মিথ্যা বিবৃতি দেন তখন আমাদের মন ভেঙে যায়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি বিদেশে বিনষ্ট হচ্ছে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশ সংস্কারের কাজ করছে। সংস্কার শেষ হলে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব এবং আমরা বিদায় নেব। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য। প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। অধিকার সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আরটিভি/এফএ
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টির গুরুত্ব
শিশুরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমাজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও অনেক শিশু পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের সম্ভাব্য শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। পুষ্টিহীনতা একটি অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ, যা ধীরে ধীরে শিশুর বিকাশ ও জাতীয় উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সুষম পুষ্টি একটি শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য নয়, বরং সমগ্র জাতির অগ্রগতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক বিকাশের উপর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশে এখনও অনেক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। সুষম পুষ্টি শুধু একটি শিশুর সুস্থতার জন্য নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম পুষ্টি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ সুষম পুষ্টি বলতে শরীরের সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যথাযথ মাত্রায় গ্রহণকে বোঝায়। এর মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, মিনারেল এবং পানি অন্তর্ভুক্ত। শৈশবকালীন সুষম পুষ্টি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। যে শিশুরা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না, তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে ১. শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া: পুষ্টির অভাবে শিশুদের উচ্চতা এবং ওজন গড় মানের চেয়ে কম হতে পারে। ২. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব: অপুষ্ট শিশু সহজেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়। ৩. মস্তিষ্কের বিকাশের ঘাটতি: পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া শিশুদের শেখার ক্ষমতা এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ৪. দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা: পুষ্টিহীনতার কারণে ডায়বেটিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতার বর্তমান চিত্র বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতা একটি গুরুতর সমস্যা। ইউনিসেফের মতে, দেশের প্রায় ৩৬% শিশু অপুষ্টির শিকার। অনেক শিশুর মধ্যেই ভিটামিন এ, আয়রন, এবং জিঙ্কের অভাব রয়েছে। এই অভাবের কারণে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ছে। পুষ্টিহীনতার পেছনের মূল কারণগুলো হলো ১. ক্রয়ক্ষমতার অভাব: অনেক পরিবার তাদের শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত এবং পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করতে পারে না। ২. অজ্ঞতা: পুষ্টির বিষয়ে সচেতনতার অভাবে অনেক অভিভাবক সঠিক খাবার নির্বাচন করতে পারে না। ৩. পরিবেশগত সমস্যা: নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাবে শিশুদের মধ্যে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, যা পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। ৪. খাদ্য বৈচিত্র্যের অভাব: অনেক শিশুর খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকে। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য কী কী করা যেতে পারে বাংলাদেশে শিশুদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে ১. পুষ্টি শিক্ষা প্রদান: অভিভাবক এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি চালানো জরুরি। ২. স্কুল পর্যায়ে খাবার সরবরাহ: প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ চালু করা যেতে পারে, যা শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। ৩. জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি: গর্ভবতী মা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সরবরাহ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন। ৪. দারিদ্র্য হ্রাস: দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানো প্রয়োজন। ৫. নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা: পরিচ্ছন্ন পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ শিশুদের পুষ্টি শোষণ ও স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মৌলিক প্রয়োজন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতি নয়, বরং একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। পুষ্টিহীনতার সমস্যা মোকাবিলায় সরকার, পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে আমরা শিশুদের জন্য একটি সুস্থ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা একটি মেধাবী ও সমৃদ্ধিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হব, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এটি শুধু তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। পুষ্টিহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সরকার, পরিবার, এবং সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি স্বাস্থ্যকর এবং মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে পারব, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। আরটিভি/একে/এআর startTime=0; function calculateUserTimeSpent(){const endTime=performance.now(); const timeSpentInMinutes=(endTime - startTime) / 1000 / 60; let timeSpentInSeconds=1; timeSpentInSeconds=Math.max(0, Math.floor(timeSpentInMinutes * 60)); return timeSpentInSeconds;}function startTrackingTime(){startTime=performance.now();}async function getUserIP(){try{const response=await fetch("https://api.ipify.org?format=json"); const data=await response.json(); return data.ip;}catch (error){console.error("Error getting user IP:", error); return "127.0.0.1";}}function sendPixelTrackerOnUnload(){const userTimeSpent=calculateUserTimeSpent(); getUserIP().then((userIp)=>{const campaign_uid='c131cb9c-6d27-466d-8a05-d495274a84cc'; const publisher_uuid = '35fd5036-a36f-44b8-9def-a6bcbafa01e2' ; const client_uuid='dcc5856c-f95b-4435-8b27-04116fbe2d95'; const apiUrl=`https://pr.reachableads.com/api/pixel_tracker/?campaign_uid=${campaign_uid}&publisher_uuid=${publisher_uuid}&client_uuid=${client_uuid}&user_ip=${userIp}&user_time_spent=${userTimeSpent}&url=${window.location.href}`; const image=new Image(); image.src=apiUrl; console.log("Pixel Tracker API request sent.");});}window.addEventListener("load", startTrackingTime); setTimeout(function (){sendPixelTrackerOnUnload();}, 1000); window.addEventListener("beforeunload", sendPixelTrackerOnUnload); document.addEventListener("visibilitychange", handleVisibilityChange); function handleVisibilityChange(){if (document.visibilityState==="hidden"){sendPixelTrackerOnUnload();}}
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টির গুরুত্ব
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু
শুরু হচ্ছে যাচ্ছে সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন ‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে সম্প্রচার শুরু করছে চ্যানেলটি। এদিন বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ফেসবুক পেজে জানানো হয় খবরটি। ‘বিটিভি নিউজ’র লোগো প্রকাশ করে ওই পোস্টে বলা হয়, নতুন প্রত্যয়ে সংবাদভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে যাত্রা শুরু করবে ‘বিটিভি নিউজ’।  বাংলাভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন ‘বিটিভি’। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু হয় চ্যানেলটির। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশন ও ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে (পি.ও নং-১১৫) বাংলাদেশ টেলিভিশন নামে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয় এটি।  দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার সুবিধার মাধ্যমে বিটিভির অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছে। বর্তমানে বিটিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারিত হয়। এবার শুধু সংবাদের জন্য বিশেষায়িত চ্যানেল হিসেবে যাত্রা শুরু করছে বিটিভি নিউজ।  আরটিভি/এইচএসকে/এআর  
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
অনেক কারণে হার্টের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হতে পারে, যা কার্ডিওমেগালি নামে পরিচিত। ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি (ডিসিএম) হার্টের (হৃৎপিণ্ড) মাংসপেশির রোগ। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের দেয়াল পাতলা হয়ে যায় ও এর বাঁ দিকের চেম্বার অস্বাভাবিক রকম বড় আকার ধারণ করে বা ফুলে যায়। ফলে হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। হৃদপিণ্ড এর নিজস্ব গতিতে পাম্প করতে না পারায় রোগীর শরীরে, বিশেষ করে পায়ে পানি আসে ও অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। কার্ডিওমেগালি বা হার্ট বড় হয়ে যাওয়া মোটেই কাজের কথা নয়। এতে বহু ধরনের শারীরিক অসুখবিসুখ হতে পারে। সাধারণত অন্য কিছু অসুখের কারণে, যেমন উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্টের আকার বড় হয়ে যায়। তখন আর হার্ট আগের মতো কাজ করতে পারে না। উপসর্গ: কোনো উপসর্গ না থাকায় রোগী বুঝতে পারেন না যে তার হৃৎপিণ্ডে ডিসিএম আছে। চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি হৃৎপিণ্ড অকার্যকর হওয়া থেকে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়তে পারেন। উপসর্গগুলোর মধ্যে শুরুর দিকে অতিমাত্রায় দুর্বলতা, স্বাভাবিক কাজকর্মে শ্বাসকষ্ট, পায়ের পাতায় ও গোড়ালিতে পানি আসে এবং বুকব্যথা ও বুক ধড়ফড় করতে থাকে। পরিবারে কারও এ রোগ হলে বাকি সবার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উত্তম। কারণ: ডিসিএমের কারণ হিসেবে কিছু সুনির্দিষ্ট সংক্রমণ, প্রেগন্যান্সির শেষের দিকের জটিলতা, ডায়াবেটিস, হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে আয়রন জমা হওয়া (হিমাক্রমাটোসিস), উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃৎপিণ্ডের আ্যরিদমিয়া ও ভালভ ঠিকভাবে বন্ধ না হওয়াকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া অতিমাত্রায় মদ্যপান, সিসা, কোবাল্ট, পারদজাতীয় টক্সিনের সংস্পর্শে আসা, ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে এ রোগ হতে পারে। যাদের ঝুঁকি বেশি রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ বা এর থেকে বেশি থাকে পরিবারের নিকটাত্মীয়ের, যেমন ভাইবোন, যদি কার্ডিওমেগালির ইতিহাস থাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ জন্মগতভাবে ক্ষতিগস্ত হার্ট হার্ট ভাল্বের অসুখ হার্টঅ্যাটাকের ইতিহাস মাড়ির প্রদাহ বা জিনজিভাইটিসে আক্রান্ত রোগীর যদি হার্ট ভাল্বের ত্রুটি থাকে। ডায়রিয়া ও বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত অল্প বয়সী শিশু-কিশোর। ডিসিএমে যা হয়: ডিসিএমের কারণে হৃৎপিণ্ডের চেম্বার, বিশেষ করে বাঁ দিকের ভেন্ট্রিকল বড় হয়ে যাওয়ায় ভালভ বন্ধ হওয়ার অ্যালাইনমেন্ট বদলে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহের কিছু অংশ ব্যাক ফ্লো করে ও হৃৎপিণ্ডকে আরও বড় হতে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ড বড় হতে হতে একসময় পাম্প করতে ব্যর্থ হয়ে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়ায় এটি তার পাম্প করার ছন্দ হারিয়ে ফেলে এবং এর ফলে অনিয়মিত হার্টবিট তথা অ্যারিদমিয়া দেখা দেয়। চিকিৎসা পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পাওয়া কঠিন। কিছু ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ ওষুধগুলোর মধ্যে আছে ডাই-ইউরেটিক, এনজিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ইনহেবিটর, এনজিওটেনসিন রিসিপ্টর ব্লকার, বিটা ব্লকার, ডিজক্সিন, অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, অ্যান্টি অ্যারিথমিক ইত্যাদি। সার্জিক্যাল পদ্ধতিতেও কিছু চিকিৎসা করতে হয়। হৃত্স্পন্দন কম থাকলে বা হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে কখনো কখনো পেসমেকার বসাতে হয়। আইসিডি নামের ছোট একটি ডিভাইসও বসানো লাগতে পারে। হার্ট ভাল্বের সার্জারিও অনেক সময় লাগে। করোনারি রক্তনালির অসুখ হলে বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হয় অনেক সময়। কিছু নিয়মকানুন মানলে কার্ডিওমেগালিসহ হার্টের অসুখ থেকে ভালো থাকা যায়। ধূমপান না করা অতিরিক্ত ওজন কমানো পাতে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়মিত ব্যায়াম করা অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন পরিহার করা অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানো মাড়ির অসুখের যথাসময়ে চিকিৎসা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে না করা বাতজ্বর থাকলে তার চিকিৎসা। সূত্র : অনলাইন আরটিভি/এফআই
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
আরও পড়ুন
অধ্যাপক ড. একে এম ওয়াহিদুজামানের মায়ের মৃত্যুতে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত 
বিচার বিভাগ ও দুদক শেখ হাসিনার দাসে পরিণত হয়েছিল: আসিফ নজরুল
ঢাকায় সম্প্রীতি সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তাব ধর্মীয় নেতাদের
আমার কোনো অপরাধ নেই, অথচ অভিনয় করতে দেবে না: মামুনুর রশীদ