Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

চরের শিক্ষক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার

চরের শিক্ষক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার
ফাইল ছবি

জীবন কখন কিভাবে বদলে যায় বলা কঠিন। কিছু স্বপ্ন কখনো কখনো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। হয়তো এ কারণে জীবন সুন্দর তার মাঝে। গল্প যখন বাস্তবে রূপ নেয়, তখন হয়তো সেই ব্যক্তি সমাজের দৃশ্যমান চরিত্র হয়ে ওঠে।

এমনি একজন কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র দুঃখু মিয়া (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জটিল প্রোগ্রাম আর কোডিংয়ের মধ্যেই কেটেছে প্রায় ৬ বছর। পরিকল্পনা ছিল পাশ করে বেরিয়ে আকর্ষণীয় একটা চাকরি পেয়েই বিয়ে করবেন স্বপ্নের (নায়িকা) প্রেমিকাকে। অন্যদিকে দুই পরিবার তাদের সম্পর্কের বিষয়টিও জানলো। তবে তীরে এসে সবকিছু থেমে গেল। শেষ মুহূর্তে সম্পর্কের সমাপ্তি! তাদের আর বিয়ে করা হয়নি।

প্রিয় মানুষকে না পেয়ে তরুণ প্রকৌশলী দুঃখু মিয়া অদ্ভুত এক কাণ্ড করে বসলেন। কর্পোরেট সুবিধা কিংবা দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ছেড়ে চলে গেলেন যমুনার দুর্গম চরে।

শহরের জীবনকে বিদায় জানিয়ে চরে পা রেখেই দুঃখুর সিদ্ধান্ত, চরকে সাজাবেন নিজের স্বপ্নের গল্পের মতন করে। খেয়াল করলেন চরের কৃষকরা প্রচুর সবজি উৎপাদন করেন অথচ বিনিময়ে সামান্য অর্থ পান, মধ্যসত্বভোগীরা হাতিয়ে নেয় বেশির ভাগ। দুঃখু ঢাকা কারওয়ানবাজারের সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ তৈরি করে দিলেন। প্রায় ৬ মাসের মধ্যে কৃষকের আয় হয়ে ওঠে দ্বিগুণ। ওদের ভালবাসায় সিক্ত হয় দুঃখু।

হঠাৎ করে চরের সব তরুণদের নিয়ে একদিন বসলেন দুঃখু। তাদের হাতে-কলমে শেখালেন ইন্টারনেট। ঢাকা থেকে কম্পিউটার আর যন্ত্রাংশ নিয়ে চরে বসে পড়লেন এই কর্মযজ্ঞে। বছরে ঘুরতেই তৈরি হল শতাধিক উদ্যোক্তা। আউটসোর্সিং, ই-কমার্সসহ নানান পেশায় অনেকের তৈরি হলো ক্যারিয়ার। কৃষকরাও পেলো কৃষি পরামর্শ। এই চরে দুঃখুর পরিচয় হয়ে ওঠে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব।

চরের সহজ সরল মানুষগুলো দুঃখুকে একটা বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন। সেখান দুঃখু বিনামূল্যে চরের শিশুদের পড়াশোনা শেখায়। একই সঙ্গে তৈরি করেছেন নিজের হাঁস-মুরগি আর গরুর খামার। সেগুলো অনলাইনে বিক্রিও করেন। প্রযুক্তির নির্ভরতায় আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে গোটা চরাঞ্চল। মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় বিরানভূমি হয়ে ওঠে ‘ডিজিটাল চর’।

যেখানে মানুষের ভাতের প্রয়োজন সবার আগে। সেই একটুকরো চরকে ‘ডিজিটাল চরে’ রূপান্তরের গল্পটি ২০১৭ সালের। চরের মাস্টারের গল্প তখন সংবাদমাধ্যমেও উঠে আসে। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও তখন তৈরি হয় আগ্রহ। ডিজিটাল ইনোভেশন সামিট কিংবা সফটওয়ার এক্সপো গুলোতেও দুঃখু হয়ে ওঠেন আলাপের বিষয়।

স্বপ্ন যখন হাতে তখন ঈদকে সামনে রেখে ‘চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার’ ফিকশনটি কেবল ‘ওভার দ্য টপ’ (ওটিটি) প্লাটফর্মেই নয়, প্রচারিত হচ্ছে দেশের ৩টি বেসরকারি টেলিভিশনেও।

জিএম/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS