logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

'সিল্কে প্রণোদনা দিলে কর্মসংস্থান হবে ১০ লাখ' (ভিডিও)

সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ২৭ এপ্রিল ২০১৭, ১১:১২ | আপডেট : ০৪ মে ২০১৭, ১৮:৪৩
দেশের সিল্ক (রেশম) ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিল্ক ইম্পোর্টার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোশিয়েশন। আসছে বাজেটে সিল্কের বাজার সম্প্রসারণ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এর সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ বললেন, আসছে বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেলে হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি সম্ভব। এতে নতুন কর্মসংস্থান হবে ১০ লাখ মানুষের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিয়াম সারোয়ার জামিল।

bestelectronics
বাংলাদেশে এখন সিল্কের চাহিদা কেমন?

সিল্কের একটা ইতিহাস আছে।  প্রচুর পণ্য আছে। কিন্তু বাজারে সেভাবে দৃশ্যমান না। ঘরে বাইরে ইদানীং ব্যাপকভাবে পরিচিত না। বর্তমানে দেশে সিল্কের প্রধান কাঁচামাল গুটি পোকা তৈরি কমে গেছে। উৎপাদনও কম হচ্ছে। কিন্তু শুধু দেশেই সিল্কের চাহিদা ৩০০ টনের বেশি। এই সিল্ক রপ্তানি করলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

দেশীয় বিশেষত্ব কি?

দেশের সিংহভাগ সিল্ক চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে উৎপাদন হয়। সরকার যদি সেখানে এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে গুটি পোকা উৎপাদন শুরু করে, রোগমুক্ত ডিম ও উন্নত তুঁতপাতা চাষিদের সরবরাহ করে; উৎপাদন বাড়বে। পুরো বিশ্বেই বাংলাদেশি সিল্কের চাহিদা খুব বেশি। কারণ বাংলাদেশে উৎপাদন হয় দুর্লভ গোল্ডেন সিল্ক।

সরকারের কাছ থেকে কি ধরনের সহায়তা চান?

পাট সরকারি সহায়তা পাচ্ছে, পলিসি সাপোর্ট পাচ্ছে। এতে দ্রুত উন্নত হচ্ছে পাটের বাজার। সিল্কের ব্যাপারটা এমনই। পাট সরকারি পলিসি সাপোর্ট পেলে সিল্ক নয় কেন? সিল্ক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতরা পুরো পরিবার ধরে কাজ করেন। এর বাজার প্রসারিত হলে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়বে; অন্যদিকে, কর্মসংস্থানও হবে। এজন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। পৃষ্ঠপোষকতা বলতে পলিসি সাপোর্ট খুবই জরুরি। এর বাজার সম্প্রসারণে সরকারকে চাষিদের জন্য কারিগরি সহায়তা দিতে হবে। ক্রেতা চাহিদা বোঝে এমন ডিজাইনার লাগবে। সঙ্গে স্বল্প সুদের ঋণও লাগবে। দেশের উত্তরবঙ্গেই মূলত সিল্ক হয়। কিন্তু এ এলাকায় চাষিদের জন্য বন্ডেড সুবিধা নেই। বন্ডেড সুবিধা লাগবে। ক্রেতাদের বোঝাতে হবে বাংলাদেশে কেমন সিল্ক হয়। সরকার যদি ৩ বছর নিয়মিত সাপোর্ট দেয়, প্রণোদনা দেয়, তবে রপ্তানি হাজার কোটি ছাড়াবে। কর্মসংস্থান হবে ১০ লাখ'।

এখন সংকটগুলো কি ধরনের?

এখন আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মত সিল্ক রপ্তানি হয়। ওয়ার্পের সুতা পাচ্ছিনা। এক্সপার্ট নেই, ডিজাইন নেই। আমি কীভাবে ভ্যালু এডেড করবো। জুটকে যে সাপোর্ট দেয়া হয়েছে। সিল্ককে কেনো দেয়া হচ্ছে না? আমরাও চাচ্ছি না মিলিয়ন ডলারের টেকনোলজি। আমাদের যা আছে, তা দিয়েই প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। দেশের বিমানবন্দরে দেশিয় পণ্যের কোনো দোকান নেই। কিন্ত অন্যদেশের এয়ারপোর্টে কিন্তু ঠিকই আছে। বিদেশিদের তো বোঝাতে হবে বাংলাদেশে দুর্লভ গোল্ডেন সিল্ক পাওয়া যায়। সেটা জানানোর কোনো ব্যবস্থা সরকার করেনি। এজন্য সবাইকেই দুর্ভোগে পড়তে হবে।

রেশম বোর্ড কেমন সহায়তা দিচ্ছে?

রেশম বোর্ড নীতিমালা তৈরি করতেই ব্যস্ত। চাষিদের জন্য কি করতে হবে, এ নিয়ে তাদের তেমন উদ্যোগ নেই। বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো সংযোগ নেই।

আসছে বাজেটে প্রস্তাবনা কী?

সিল্কের কাঁচামালে শুল্ক এখন প্রায় ৬০ শতাংশ। কমিয়ে যদি ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা যায়। চরখার সুতা, ওয়েফট কুকোনেও শুল্ক কমানো জরুরি। এখন দশ লাখ মানুষ বসে আছে। আর্থিকভাবে তারা সহযোগিতা না পেয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। বিদেশি কাপড়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। উৎপাদন পর্যায়ে ২৫ শতাংশ আর্থিক সহায়তায় আর যদি ভ্যাট আরোপ করা না হয়। ২০০ কোটি টাকা দিলেই হবে। চাহিদা বাড়লে উৎপাদন বেশি হবে। দামও কমে আসবে আকর্ষনীয় ও ঐতিহ্যবাহী রেশন দ্রব্যের।

 

এসজে/ এমকে

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়