logo
  • ঢাকা রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭

অদৃশ্য ভাইরাসে উচ্ছ্বাসহীন প্রাণের ক্যাম্পাস

Campus of life without waves in the invisible virus
অদৃশ্য ভাইরাসে উচ্ছ্বাসহীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)
জ্ঞানার্জন, রাজনীতি, বন্ধুত্ব আর প্রাণবন্ত আড্ডার কুঁড়েঘর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। শিক্ষার্থী শূন্য ক্যাম্পাসগুলো আজ উদ্যমহীন। অদৃশ্য করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

ক্লাস-পরীক্ষা, সভা-সেমিনার, আড্ডা-বন্ধুত্ব, খেলাধুলায় মুখর থাকতো যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, সেখানে এখন শুধুই নীরবতা। ফলে বিস্তৃত ক্যাম্পাসগুলো উদ্যমহীন হয়ে পড়ে রয়েছে। টিএসসির আড্ডা, চায়ের কাপে গল্প, উল্লাস এসব যেন এখন শুধুই স্মৃতি। স্মৃতির ক্যানভাসে আরও জমে থাকা ক্যাম্পাসের গল্প শুনবো দেশের ঢাবি, রাবি, চবি, হাবিপ্রবি ও ইবি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু হুরাইরা আতিক বলেছেন, কোভিড ১৯ নামক এক অতি ক্ষুদ্র ভাইরাস সারাবিশ্বকে স্তম্ভিত করে রেখেছে। এর ফলে অভিবাসীরা নিজ দেশে ফিরেছেন, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ফিরেছেন নিজ বাসায়। যেমন পাখিরা ফেরে নিজ আপনালয়ে। পাখিরা স্বাধীন হয়ে প্রকৃতির বুকে আনন্দ উল্লাসে কিচিরমিচির শব্দ করে দিদ্বিদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর শিক্ষা আবদ্ধ হয়ে পড়েছে ঘরের চার দেয়ালে। বিশ্ব মানবতা ফিরে পাক তার স্বাভাবিক গতি। বন্দিজীবন থেকে মানুষ মুক্তি পাক। আমরা ফিরে যেতে চাই স্বপ্নের ক্যাম্পাসে। আমাদের উল্লাসে মুখরিত হোক বিশ্ব। আজকের প্রভাতের আলো হোক জঞ্জাল মুক্ত। নিরাপদ বাতাস সারাবিশ্বে বহমান হোক।

অদৃশ্য ভাইরাসে জনমানবহীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফিয়া তাসনিম বলেন, রোজ টিভির হেডলাইনটা দেখি। এই বুঝি ক্যাম্পাস খোলার ঘোষণা দিলো সরকার। কিন্তু না, দিন যত যাচ্ছে প্রকৃতি ঘেরা ১৭৫ একরের দুঃখ তত বাড়ছে। দুঃখ কেন বলছি! ঝালচত্বরে ঝালমুড়ি, ডায়না চত্বরের আড্ডা, ক্লাসরুমের মুগ্ধতা সবই আজ স্বপ্ন। সূর্যাস্তে ক্যাম্পাসের শালিক পাখিগুলো হয়তো এখনও হলের ছাদে বসে গান গায়। কিন্তু হলের প্রাণ শিক্ষার্থীরা তা শুনতে পায় না। ফলে ক্যাম্পাস হয়তো সবুজের সমাহারে  সেজেছে। কিন্তু অদৃশ্য ভাইরাসে প্রকৃতি সাজলেও আমরা প্রাণখু্লে সাজতে ও হাসতে পারছি না। 

আরও পড়ুনঃ

ধর্ষণ বিরোধী শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

পোষা সাপে বিনোদন!

পাখির কলরবে মুখরিত পঞ্চগড়ের নাজিরপাড়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান নুর জানান, প্রতিদিন শাটল ট্রেনের হুইসেলে যে ক্যাম্পাসের ঘুম ভাঙে, করোনাকালে সাত মাস ধরে নিস্তব্ধ সে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ায় প্রাণহীন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইট-পাথরের ভবনগুলো। তারুণ্য যেখানে প্রতিনিয়ত উল্লাস করে সেখানে এখন শুধু ইট পাথরের নীরবতা। যে কাটা পাহাড়ের রাস্তায় ছিল প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের বিচরণ, সে রাস্তা এখন শিক্ষার্থীবিহীন খাঁ খাঁ করছে। শিক্ষার্থী ছাড়া হলগুলোর করিডোরে সৃষ্টি হয়েছে নিস্তব্ধতা। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াসিফ রিয়াদ জানালেন, করোনা আতঙ্কে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ছন্দপতন ঘটেছে সবার। ক্যাম্পাস বন্ধ রয়েছে অনেকদিন থেকেই। ঘরবন্দী হয়ে পড়ে আছে শিক্ষার্থীরা। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনে সময় দেয়া ব্যস্ত তরুণরা আজ যেন নিথর। আড্ডাবাজ শিক্ষার্থীরা এখন ঘরের কোনেই দিন যাপন করছে। 

এরকম অবস্থা দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। অদৃশ্য করোনাভাইরাসে স্বস্তির নিশ্বাস নেওয়া দুষ্কর। তবে সময়ের পরিক্রমায় মানুষ করোনাভাইরাসকে রুখে দিয়ে প্রাণ খুলে নিশ্বাস নেওয়া শুরু করেছে। অচিরেই শিক্ষার্থীরাও প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরে মন খুলে স্বস্তির নিশ্বাস নেবে, এটাই প্রত্যাশা। জিএম/পি
 

RTV Drama
RTVPLUS