Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ :

  ১১ এপ্রিল ২০২১, ১৭:২৭
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৪১

স্বাস্থ্যকর জীবনে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন আজহারী

স্বাস্থ্যকর জীবনে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন আজহারী
স্বাস্থ্যকর জীবনে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন আজহারী

স্বাস্থ্যকর জীবন সবারই কাম্য। কিন্তু এই জীবন পাওয়া এতোটা সহজ নয়। সাধারণত মানুষজন ক্ষুধা লাগলে হালাল জাতীয় যেকোনো খাবারই খেয়ে থাকেন। নিয়ম মেনে খাবার না খাওয়ার জন্য অনেকের স্বাস্থ্য বেড়ে যায়। আবার অনেকের বেসামাল খাওয়ার অভ্যাসের জন্য ভয়ঙ্কর অসুখও হয়। পরবর্তীসময়ে দেখা যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে দৌড়াতে হচ্ছে আমাদের। প্রতিটি মানুষই সুস্থ থাকতে চায় এবং এবং সুস্বাস্থ্য চায়। সম্প্রতি ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘স্বাস্থ্যকর জীবনে ইসলামের ভূমিকা’ নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। আজ তাহলে সেই আলোচনা থেকে পাঠকদের জন্য ‘স্বাস্থ্যকর জীবনে ইসলামের ভূমিকা’ নিয়ে আজহারীর বক্তব্য তুলে ধরা হলো-

স্বাস্থ্যকর খাবারের বিষয়, হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর খাবার পদ্ধতি এবং খাওয়া শেষে মিষ্টি খাওয়া প্রসঙ্গ :

আয়াশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলূল্লাহ (সা.) মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। হালুয়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পছন্দ করতেন নবী (সা.)। তবে নবীজীর (সা.) জীবনকালে দেখা যায় যে, বেশিরভাগ সময়েই খাবারের কষ্টের মধ্যে ছিলেন, পর্যাপ্ত খাবার ছিল না। তাই যখন যে খাবার আসতো সেটাকেই আল্লাহ’র নামে গ্রহণ করতেন। এমনও হতো যে, ফজরের নামাজের পর তিনি (নবী) যখন বাসায় আসতেন, তখন স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতেন ঘরে কোনো খাবার আছে কিনা? যদি খাবার থাকতো তাহলে খেতেন আর যদি না থাকতো তাহলে নবীজী (সা.) বলতেন তাহলে আমি রোজা রাখলাম। এমনই খুব সাদাসিধে জীবন পরিচালনা করতেন তিনি।

নবীজীর (সা.) খাবারের ক্ষেত্রে দেখা যায় কিছু খাবার ছিল সর্বসাধারণের (Common), প্রায়ই খেতেন যা সবসময় পাওয়া যেত। আবার কিছু খাবার ছিল দুষ্প্রাপ্য, যা মাঝেমধ্যে খেয়েছেন আর কিছু কিছু খাবার ছিল প্রিয়। সাধারণত নবী (সা.) বেশি খেতেন খেজুর। হাদিসে পাওয়া যায় খেজুর, রুটি খেতেন; মোটামুটি যে সকল খাবার সচরাচর পাওয়া যায়, সাধ্যের মধ্যে ছিল।

রোজা : হাদিসে এমনও আছে যে, দিনের পর দিন নবী (সা.) এর ঘরের চুলায় রান্না হতো না, রোজা রাখতেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতেন। বিশেষ করে মাদানী সময়ের শুরুর দিকে আর্থিক অনটনের মধ্যে সময় কাটিয়েছেন। বদরের যুদ্ধ, ওহুদের যুদ্ধ- একটার পর একটা খারাপ সময় লেগে থাকতো, অনেক সংগ্রাম মোকাবিলা করতে হয়েছে। মূলত, সপ্তম (৭ম) হিজরিতে যখন খাইবারের যুদ্ধে নবী (সা.) যখন জয় করেন, সেখানে অভিযান প্রেরণের সময় খাইবার খেজুর ও সবুজ শাক-সবজির জন্য বিখ্যাত ছিল। একরের পর একর খেজুর বাগান ছিল। যুদ্ধে জয়ের পর ঐটার বাৎসরিক আয় থেকে মদিনার মুসলিমদের আর্থিক অভাব-দৈন্যটা কিছুটা কাটতে শুরু করল। কিন্তু মাদানী সময়ের প্রথম ছয় বছর কিন্তু খুব কষ্টের মধ্যে সময় কাটিয়েছেন।

এছাড়া মেষ, সাহাবীদের বকরী, উট ছিল। তখন এসবের দুধ মোটামুটি সচরাচর ছিল। বকরী-উট থাকায় এসবের গোশতও খেতেন নবী (সা.), তিনি গোশত খেতেও পছন্দ করতেন খুব। গোশতের ক্ষেত্রে নবী (সা.) খাসির বা বকরির সামনের দুই পায়ের গোশত (শিনা বা বাজু) পছন্দ করতেন। এমনও বর্ণনা পাওয়া যায় যে, খাসির পা দিয়ে যা বাংলাদেশে নেহারি বা পায়া হিসেবে পরিচিত, এটাও পছন্দ করতেন নবী (সা.)।

ছারিদ - বিশেষ খাবার : বিশেষ একটি খাবার আছে, আরবিতে এটাকে ‘ছারিদ’ বলা হয়। রুটি এবং গোশতের মিশ্রণ। রুটি এবং গোশতকে ট্রেতে রেখে কেটে কেটে খাওয়া। তৎকালীন আরবে এটা খুব ‘রিচ ফুড’ হিসেবে পরিচিত ছিল। নবী (সা.) একবার বলেছিলেন যে, আরবের খাবারের মধ্যে যেমন ‘ছারিদ’ সেরা তেমনি নারী জাতির মধ্যে আমার কুমারী স্ত্রী আয়শা (রা.) সেরা। এ থেকে এটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে খাবারের মধ্যে ‘ছারিদ’ সর্বসেরা। এটা তখন সচরাচর ছিল না। কালেভ্রদে খাওয়া হতো।

আবার কিছু দুষ্প্রাপ্য খাবার খেয়েছেন। যা জীবনে এক-দু’বার খেয়েছেন হয়তো। যেমন একটা হাদিসে পাওয়া যায় খরগোশের মাংস খেয়েছেন, আবার এক হাদিসে পাওয়া যায় মোরগের মাংস খেয়েছেন। আবার এক ধরনের একটা পাখি যার গলা অনেক উঁচু, আমাদের দেশের রাজহাঁসের মতো; এর মাংসও খেয়েছেন।

আম্বার - সি-ফুড : সামুদ্রিক খাবারের মধ্যে (সি-ফুড) একবার তিনি বড় প্রকৃতির একটি মাছের অংশ খেয়েছিলেন। হাদিসে এর নাম এসেছে ‘আম্বার’। সাহাবীরা একবার এক অভিযানে গিয়েছিল সেখানে খাবার শেষ হয়ে যাবার পরে সমুদ্র উপকূল অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখে বড় একটা মরা মাছ সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় তীরে এসে পড়ে আছে। যেহেতু খাবার ছিল না, ক্ষুধার্ত ছিলেন তখন ওই মাছটা খেলেন। এক মাসেও মাছটা খেয়ে শেষ করতে পারলেন না, এতোই বড় ছিল মাছটা। পরে কিছু খাবার সংরক্ষণ করে মদীনায়ও নিয়ে আসলেন। তখন তারা নবীকে (সা.) সফরের সব খুলে বলে মাছটি খাওয়া জায়েজ হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। নবী (সা.) বলেন, হ্যা, খাওয়া ঠিক হয়েছে। আল্লাহ তা’লা রিজিক হিসেবে তোমাদের নসিবে রেখেছিল। আর তোমাদের বাসায় যদি এই খাবারের কিছু অংশ থাকে তাহলে আমাকেও একটু দিয়ো। পরে সাহাবীরা আনলেন এবং সেখান থেকে নবী (সা.)-ও একটু খেলেন।

ঘি মাখানো রুটি : এছাড়াও তিনি ঘি মাখানো রুটি পছন্দ করতেন। একটা হাদিসে এসেছে তিনি বলতেছিলেন যে, আজকের এই দিনটাতে যদি গমের রুটি ঘি দিয়ে মাখিয়ে খাওয়া যেত! এক সাহাবী শুনে খুব আবেগআপ্লিত হলেন এবং বললেন আজকে আমি এটি ব্যবস্থা করব। তারপর নবী (সা.) সবাইকে নিয়ে এটা খেলেন।

খাবারের নিয়ম : নবী (সা.) কখনো একা খেতেন না। তিনি ডান হাতে খেতেন। বিসমিল্লাহ্‌ বলে খেতেন। সামনে যে অংশ সেখান থেকে খেতেন। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতেন। যাতে মুখের লালাটা মিশে এবং ভালোভাবে হজম হয়। জানা যায় তিনি তিন আঙুল ব্যবহার করতেন (বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী ও মধ্যমা)। খেজুর, রুটি ও গোশত ছিড়তে গেলে এই তিন আঙুলই প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশে আমরা তো শাক-সবজি, ডাল, মাছ ইত্যাদি মিশিয়ে খাই তাই আমাদের পাঁচ আঙুল দিয়ে খেতে হয়।

এসআর/

RTV Drama
RTVPLUS