logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

  ২৯ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৫৭
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২০, ১৬:১৫

ফ্রিজে ২৮ দিন বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস!

ফ্রিজে ২৮ দিন বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস!
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাস বিশ্বে ২ লাখ ১১ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। বাংলাদেশের মতোই বিশ্বের বেশ কিছু প্রান্তে এই মুহূর্তে চলছে লকডাউন।

আর সেই লকডাউনের কারণেই আর্থিক ভরাডুবিও নানান দেশে প্রকট হচ্ছে। কিন্তু এই মরণ ভাইরাস কি আমাদের ছেড়ে যাবে? একদমই না! আপাতত ভ্যাকসিন বাজারে না আসা পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব আর মাস্ককেই আমাদের আপন করে নিতে হবে।

আর এমনই ভয়ের মাঝে সাধারণ মানুষের মনে আরও কৌতূহল জাগছে, আর কার দ্বারা করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে? জামা, জুতো থেকে শুরু করে খবরের কাগজ, টেবিল-চেয়ার, দরজা-আলমারির হাতল- এসব রকমারি জিনিস থেকে কী করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা কতটা? আর আপনার ফ্রিজ? আপনার ফ্রিজের অন্দরে করোনাভাইরাস জীবন্ত অবস্থায় কতক্ষণ লুকিয়ে থাকতে পারে জানেন?

ফ্রিজের ভেতরে কতক্ষণ জীবন্ত থাকতে পারে করোনাভাইরাস?

চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি হু (ওয়াল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন)-এর তরফে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে, -২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে অন্যান্য করোনাভাইরাসগুলো কমপক্ষে দুই বছরের জন্য বেঁচে থাকতে পারে।

অন্য আরও বেশ কিছু সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, SARS-CoV এবং MERS-CoV এর মতো ভাইরাসগুলো তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং আলো ইত্যাদির ভিত্তিতে নানা তলে বেশ কিছু দিনের জন্য বসবাস করতে পারে।

রিপোর্টগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফ্রিজের তাপমাত্রা অর্থাৎ ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে MERS-CoV কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা অর্থাৎ তিন দিনের জন্য সক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে।

সমীক্ষা কী বলছে?

কিছু দিন আগেই সংবাদমাধ্যম এনবিসি বে এরা-র তরফে একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় অর্থাৎ ফ্রিজের ভেতরের যে তাপমাত্রা সেখানে কমপক্ষে ২৮ দিনের জন্য টিকে থাকতে পারে SARS-CoV ভাইরাস।

আর এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, ২০১০ সালের আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবাইলজি-র একটি গবেষণার ভিত্তিতে। তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার হেরফেরে সার্স করোনাভাইরাস যা কোভিড-১৯ ভাইরাসের (SARS-CoV-2) সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিকভাবে জড়িত, তার উপর রিসার্চ চালিয়ে দেখা হয়েছে আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবাইলোজির তরফে।

সেখানে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, কম আর্দ্রতার এবং ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (৪.৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) কম তাপমাত্রায় করোনাভাইরাস আরও সতেজ হয়ে ওঠে। ঠিক যে তাপমাত্রা থাকে ফ্রিজের ভিতরে।

আর এক বিখ্যাত ভাইরোলজিস্টের চাঞ্চল্যকর দাবি!

এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যম এনবিসি বে এরা-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিখ্যাত ভাইরোলজিস্ট এবং গবেষণা বিজ্ঞানী ডক্টর ওয়ার্নার গ্রিনে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। ডক্টর গ্রিনের দাবি, ‘করোনাভাইরাসের প্রকৃতি কিছুটা স্যাঁতস্যাঁতে ধরনের।

নানা তলে বেশ কিছু সময়ের জন্য বেঁচে থাকতে পারে এই ভাইরাস।’ ২০১০ সালের আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবাইলজি-র করা ওই গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না ডক্টর গ্রিনে। তবে তিনিও ওই গবেষণায় উঠে আসা তথ্যের সঙ্গেই কিছুটা একমত।  

প্রতিকারের উপায়

  • প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে, বাজার বা মাসকাবারি জিনিসপত্র ভালো করে জীবাণুমুক্ত করেই ফ্রিজে ঢোকাতে হবে। এ ছাড়াও আপনার ফ্রিজে যাতে কোনও মতে করোনাভাইরাস ঢুকে আসন গেড়ে না বসে, তার বেশ কিছু উপায় বাতলে দিলেন ডক্টর গ্রিনে।
  • একটি বালতিতে অ্যালকোহল যুক্ত কোনও স্যানিটাইজারের সাহায্যে জীবাণুমুক্ত করার তরল তৈরি করতে হবে। গ্রিনের কথায়, ‘করোনাভাইরাস সম্পূর্ণরূপে দ্রবীভূত করতে প্রয়োজন অ্যালকোহল বা সাবান এবং জল।’
  • ডক্টর গ্রিনে বাড়িতেই জল এবং ব্লিচের সংমিশ্রণে জীবাণুনাশক তৈরি করে নিতে বলছেন ডক্টর গ্রিনে। তার আরও বক্তব্য, ৪ লিটার জলের সঙ্গে ১/৩ কাপ ব্লিচ মিশিয়ে মিশ্রণটি তৈরি করে নিন। এই উপায় না পেলে গরম জলে কিছুটা সাবান ফেলে দেওয়ার কথাও বলছেন গ্রিনে।
  • এবার এই মিশ্রণে একটি শুকনো তোয়ালে ভালো করে ভিজিয়ে নিতে হবে।
  • এবার ফ্রিজে যে খাবারের বাক্স বা প্যাকেটগুলো রাখবেন খুব ভালো করে সেগুলিকে ওই তোয়ালে দিয়ে বেশ ভালো করে কয়েকবার পরিষ্কার করতে হবে।
  • তার আরও বক্তব্য, ‘যে ভাবে টেবিল বা অন্য কোনও তল জীবাণুমুক্ত করা হয়, সেই ভাবেই জীবাণুমুক্ত করতে হবে এই খাবারের প্যাকেটগুলোর তল।’
  • এখানেই শেষ নয়। প্রতিনিয়ত নিয়ম করে ফ্রিজের কন্টেইনারগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে যেতে হবে এই পদ্ধতিতেই। প্রতিবার জীবাণুমুক্ত করার পর ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে হাত। ধুয়ে ফেলতে হবে বাজারের থলিও।

এজে

RTVPLUS