logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬

করোনাভাইরাস: মানসিক চাপ কীভাবে কাটানো যেতে পারে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২২ মার্চ ২০২০, ২০:৩৮ | আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ২১:৩২
করোনাভাইরাস: মানসিক চাপ কীভাবে কাটানো যেতে পারে

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছেই। আর এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সব মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক। এই অবস্থায় অনেকেই একধরনের মানসিক চাপে ভুগছেন। 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সারা দেশে সব মানুষই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। এছাড়া অনেককে এখনও প্রতিদিন বাড়ীর বাইরে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে হয়তো সবাই প্রায় সচেতনায়ও থাকছেন কিন্তু তারপরও  এক ধরনের ভীতি রয়েই যাচ্ছে। অনেকেই বাইরে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আবার যারা বাসায় থাকছেন, তারাও সারাক্ষণ চিন্তায় থাকছেন কাজের জন্য বাইরে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে।

এদিকে, টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী অনেক দেশে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। সবসময় আতঙ্ক, ভয়ে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছে না। কারও কারও ব্লাড প্রেসারও বেড়ে যাচ্ছে। এই ভয়ে, আতঙ্কে আর মানসিক চাপ এভাবেই বেড়ে চলেছে জনমনে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার বলেছেন, মানসিক চাপের বিষয়টি একেক জনের ভেতর একেকরকমভাবে কাজ করে। যখন কোনও সংকটের মধ্যে আমরা পড়ি, তাতে একেকজন মানুষ একেকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

তিনি বলেন, অনেকেই দেখবেন কোনও চাপ বোধ করছে না, তারা হয়তো একটা ডিনায়ালের মধ্যে আছে। তারা মনে করছে, অন্যের হবে, আমার হবে না। আবার অনেকে স্বাভাবিক উদ্বিগ্নতা বোধ করছে। আবার অনেকের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ, একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে।   

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। খানিকটা উদ্বিগ্নতার উপকারও আছে। সেটা আমাদের সচেতন হতে সহায়তা করে, নিজেদের রক্ষা করতে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।

কিন্তু উদ্বিগ্নতা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, মানুষ যখন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদের মধ্যে নানা ধরণের শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সেটা তার বর্তমান সময়কে মোকাবেলা করতে দুরূহ করে তোলে। তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন মানসিক সমস্যার তৈরি হচ্ছে?

অধ্যাপক মেখলা সরকার জানান, অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলে বা মানসিক চাপে ভুগলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে। যখন তখন রেগে উঠে। অল্প কিছুতেই তারা অনেক বেশি উত্তেজনা প্রকাশ করে।

কিছু মানুষের মধ্যে শারীরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন বুক ধড়ফড় করতে পারে, মাথা ব্যথা করতে পারে, শ্বাসে সমস্যা হতে পারে। শারীরিক আরও কিছু সমস্যা হতে পারে। এর সাথে অনেকের ঘুমের সমস্যা হতে পারে। 

মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠার জন্য বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন মনোরোগবিদ অধ্যাপক মেখলা সরকার। মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠতে পরামর্শগুলো দেখে নিন।

. প্রথমেই সমস্যা বা সংকটটিকে মেনে নিতে হবে।
. সামাজিক মাধ্যমের সব তথ্যই বিশ্বাস করা যাবে না, নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য গ্রহণ  করতে হবে।  
. শারীরিক দূরত্ব গড়ে তুলুন, তবে মানসিকভাবে কাছে থাকুন। 
. বাসায় থাকতে বাধ্য হলেও, পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 
. বই পড়া মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
 

অধ্যাপক মেখলা সরকার জানান, বিশ্বজুড়ে চলা বড় একটি সংকটের মধ্যে আমরা যে আছি, প্রথমেই সেটা মেনে নিতে হবে। সেই সঙ্গে ভাবতে হবে, শুধু আমি একা নই, প্রতিটা মানুষ এই সমস্যার ভেতর রয়েছে।

ভাবতে হবে, এই খারাপ সময়টা কোনও অবস্থাতেই স্থায়ী নয়। সবাইকে শুধু অপেক্ষা করতে হবে কখন এই সমস্যাটি কাটবে এবং নিশ্চিতভাবে একসময়ে সমস্যাটি কেটে যাবে। ভীত বা বিহ্বল না হয়ে বরং নিজের ওপর আস্থা রাখুন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে মেখলা সরকার বলেছেন, শারীরিকভাবে অবশ্যই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে কিন্তু মানসিকভাবে নয়। সবার সঙ্গে টেলিফোনে, ম্যাসেঞ্জারে নিয়মিত কথা বলতে হবে, পরস্পরের প্রতি খোঁজখবর নিতে হবে। তাকে প্রতি আন্তরিকতার বিষয়টি প্রকাশ করতে হবে। তাহলে একা থাকলেও, বিচ্ছিন্ন থাকলেও সেটি মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে না। অন্যদের মধ্যেও একটা আস্থা তৈরি হবে যে, আমার পাশে কেউ রয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটান
ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সঙ্গে অনেকের ঠিকমতো সময় কাটানো হয় না। এখন বাধ্য হয়ে বাড়িতে থাকতে হলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সময় কাটান।

অধ্যাপক সরকার বলছেন, শুধুমাত্র মোবাইলে বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করুন, সময় দিন। সামাজিক মাধ্যম থেকে বেরিয়ে পরিবারের সঙ্গে বাস্তব সময় কাটান। সবাইকে বুঝতে দিন যে, সবাই মিলে একটা সংকট মোকাবেলা করছেন।

সবসময় করোনাভাইরাস নিয়ে চিন্তা না করা, এসব তথ্যের পেছনে ঘুরে না বেড়ানোই ভালো। বরং নিজেকে করোনাভাইরাসের চিন্তা থেকে, খবর থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য গ্রহণ করুন
সংকটের সময়, উদ্বেগের সময় অনেক রকম গুজব ছড়িয়ে পড়তে দেয়া যায়। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে নানাধরনের তথ্য ঘুরে বেড়ায়। এক্ষেত্রে সবার সব ধরণের তথ্য বিশ্বাস করা উচিত হবে না। যাচাই করে সঠিক সংবাদ বিশ্বাস করতে হবে। গুজব বা অচেনা সূত্রের তথ্য বিশ্বাস না করে নির্ভরযোগ্য সূত্র বা মাধ্যমের তথ্য গ্রহণ করতে হবে। ফেসবুকে বা সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো তথ্য আসলেই সেটা বিশ্বাস করা যাবে না, শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য বিশ্বাস করতে হবে।

মেখলা সরকার বলেন, সারাক্ষণ এসব তথ্যের পেছনে ছুটে না বেরিয়ে নির্দিষ্ট একটা ঠিক করে নিয়ে তখন এসব তথ্যের খোঁজ করা যেতে পারে।

ফেলে রাখা কাজ গুছিয়ে ফেলুন

অধ্যাপক মেখলা সরকার বলেন, বাসায় থাকতে বাধ্য হলে বা কোয়ারেন্টিনে থাকলে সময়টা ফেলে রাখা কাজের পেছনে লাগানো যেতে পারে। আপনি ভালো কয়েকটা বই পড়তে পারেন, সিনেমা দেখতে পারেন। বাসায় বাগান থাকলে বাগানের পরিচর্যা করতে পারেন। ঘরের সাজসজ্জা করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইনডোর গেমস খেলা যেতে পারে। এসব কাজের মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজেকে ব্যস্ত রাখা যাবে, তেমনি পজিটিভ কাজের স্মৃতি তৈরি হবে। পরিবারের সঙ্গেও সম্পৃক্ততা বাড়বে।

প্রতিদিন কিছুক্ষণ মেডিটেশন করুন
প্রতিদিন কিছুক্ষণ মেডিটেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন মেখলা সরকার। যারা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করে থাকেন, তাদের নিয়মিতভাবে সেগুলো করারও পরামর্শ দিয়েছেন। এরফলে শারীরিক ও মানসিক যত্ন হবে। ফলে মানসিকভাবে ভালো থাকা হবে, সেই সঙ্গে সময়টাও ভালো কাটবে।  সূত্র: বিবিসি

এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • লাইফস্টাইল এর সর্বশেষ
  • লাইফস্টাইল এর পাঠক প্রিয়