logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শীতের সময় চাই চুলের আলাদা যত্ন

লাইফস্টাইল, আরটিভিঅনলাইন
|  ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৪৩ | আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৭
শীতের সময় চাই চুলের আলাদা যত্ন

শীত এখনও জেঁকে বসেনি কিন্তু তারপরও শীতের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। শীতে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেয়া উচিত। ঠিক মতো যত্ন না নিলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়। এই সময়ে নিজেকে সুন্দর রাখতে রূপচর্চায় একটি প্রয়োজনীয় অংশ চুল। চুলের মসৃণতা ধরে রাখতে শীতের শুরু থেকেই চাই বিশেষ পরিচর্যা। নয়তো শীতের রুক্ষ প্রকৃতি আমাদের চুলকেও করে তুলবে রুক্ষ।

শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকার কারণে আমাদের চুলও শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। পাশাপাশি বাইরের ধুলাবালির প্রভাবও পড়ে চুলের ওপর। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই শরীরেও নানা পরিবর্তন আসে। আর তার প্রথম ছাপটা পড়ে আমাদের ত্বকে আর চুলে। শীতকালে ত্বকের শুকনোভাব সামাল দেয়ার জন্য ময়শ্চারাইজ়ার, নানারকম ফেস ক্রিম রয়েছে।

শীতকাল মানেই বেশ উৎসব উৎসব একটা ব্যাপার। পার্টি, টুকটাক ঘুরতে যাওয়া, বিয়েবাড়ি লেগেই থাকে এই মৌসুমে। বাইরে বের না হয়ে উপায় নেই। 

অন্যদিকে, সাজগোজের জন্যও একেবারে আদর্শ সময় এখন।আর তাই চুলকে এই শীতে মসৃণ ও ঝলমলে রাখতে চাই বিশেষ যত্ন। দেখে নিনি কিভাবে যত্ন করবেন আপনার চুলের।

তৈলাক্ত চুলের যত্ন

সাধারণভাবে তৈলাক্ত চুলে ধুলাবালি বেশি আটকায়। এ ধরনের তৈলাক্ত চুলে শ্যাম্পু প্রায় প্রতিদিনই করতে হয়। শীতের সময় শ্যাম্পু করলেও তৈলাক্ত চুল নির্জীব দেখায়। শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য বেকিং পাউডার মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল দেখাবে সজীব। এ ধরনের চুলে মাথার ত্বকে তেল থাকলেও আগার দিকে রুক্ষ হয় বেশি। অন্য সময়ের চেয়ে চুল পড়ার পরিমাণটাও বেড়ে যায়।

শুকনো রিঠা, শিকাকাই ও আমলকী সারা রাত ভিজিয়ে পরদিন ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। তরল মিশ্রণটি শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে নিশ্চিন্তে। এ ছাড়া সপ্তাহে দুই দিন বাড়িতে তৈরি প্যাক লাগালে চুল থাকবে ঝলমলে। ২ চা-চামচ নিমপাতা গুঁড়া, ২ চা-চামচ মেথিগুঁড়া, ২ চা-চামচ আমলা, ২ চা-চামচ টক দই, ১টি ডিমের সাদা অংশ, আধা কাপ উষ্ণ গরম পানি দিয়ে মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

শুষ্ক চুলের যত্ন

চুলের উজ্জ্বল ও মসৃণ ভাব ফিরিয়ে আনতে আধা মগ পানিতে লেবুর রস ও চায়ের লিকার মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করলে চুলের উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা ফিরে আসবে। কনকনে ঠান্ডা আপনার চুলের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। শীতে শুষ্ক চুলের যত্ন নিতে জবা ফুলবাটা, ২ চা-চামচ মধু, ২ চা-চামচ আমলকীর রস, টক দই, ডিমের কুসুম, মেথিগুঁড়া ও ২ চা-চামচ ক্যাস্টর অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। পুরো চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে ঘণ্টাখানেক। শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

স্বাভাবিক চুলের যত্ন

সব ধরনের চুলের মধ্যে সবচেয়ে ঝামেলামুক্ত চুল স্বাভাবিক চুল। এ ধরনের চুলের জন্য স্বাভাবিক পরিচর্যাই যথেষ্ট। হট অয়েল ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে সপ্তাহে দুই দিন। নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরি। ন্যাচারাল কন্ডিশনিংয়ের জন্য চুলে তেল দিলেই যথেষ্ট। দিনে কয়েকবার মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াতে পারলে ভালো। তাহলে চুলে যেমন জট হবে না, তেমনি মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালনও ভালো থাকবে।

চুলে রং করাকে না বলুন  

শীতের সময়ে একেবারেই চুলে রং করা বা স্ট্রেট বা স্মুদিং করবেন না। এর ফলে, খুশকি ও চুল পড়ার সমস্যাতে ভুগতে পারেন আপনি। 

পর্যাপ্ত পানি পান 

দেহে ঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন হওয়া খুব প্রয়োজন। আর তার জন্য অবশ্যই বেশি করে পানি পান করা দরকার। শীতকালে হাইড্রেটেড থাকলে স্ক্যাল্পেও আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টকে না বলুন

চুলেরসমস্যা এড়াতে অনেকেই বিউটি পার্লার থেকে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করে থাকেন।এ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করতে নিষেধ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টে চুলের সাময়িক সৌন্দর্য বাড়লেও, তা স্থায়ী হয় না। 

আবার আপনি যদি চুল বড় করতে চান তাহলে আপনাকে একটু কষ্ট করতে হবে। যেমন: 

প্রতিদিন শ্যাম্পু-কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না, ট্রিম নিয়মিত করবেন, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধোয়া যাবে না, চুল আঁচরানোর সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। 

এস/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • লাইফস্টাইল এর সর্বশেষ
  • লাইফস্টাইল এর পাঠক প্রিয়