Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

ডা. মৌসুমি আফরিন ইভা

  ১৯ জুলাই ২০২১, ২২:২৯
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ২৩:৪৭

ঈদে কি খেলে সুস্থ থাকবেন, কি খেলে অসুস্থ, জেনে রাখুন

ঈদে কি খাবেন, কি খাবেন না, জেনে রাখুন
ঈদুল আজহার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার

একদিকে কোরবানির ঈদ আর অন্যদিকে বেড়ে চলেছে করোনার ভয়াবহতা। তাই এবার সর্বজনীন ঈদের আনন্দধারা কিছুটা হলেও বিঘ্ন ঘটবে। ঈদুল আজহা হলো আনন্দের উপলক্ষ আর এর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার; যার মূল আয়োজনে থাকে কোরবানির গরুর বিভিন্ন রকমের মাংসের পদ। সেই সঙ্গে আয়োজন করা হয় নানারকম মুখরোচক উচ্চক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার।

ঈদ উৎসবে সবার অধিকার আছে মজার মজার খাবার খাওয়ার। দুই–একদিন বেশি খেলে ক্ষতি নেই। তবে খাওয়া উচিত একটু রয়ে সয়ে।। ঈদের দিন তৈলাক্ত খাবার, পোলাও, বিরিয়ানি, কাবাব, রেজালা, বোরহানি, চটপটিসহ আরও অনেক খাবার খাওয়া হয়। তবে সকালে এসব দিয়ে দিন শুরু না করে, সেমাই বা ফিরনি দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। সকালে হালকা নাশতার পর ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরে অল্প পানি পান করে মসজিদ থেকে নামাজ সেরে আসুন।

ঈদে অনেকেই মাংস ও ভারী খাবার খাওয়ার পর কোমল পানীয়র দিকে ঝুঁকে পরেন। মনে রাখবেন আপনি যত মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন, এ জাতীয় খাবারের প্রতি আপনার আগ্রহ আরও দ্বিগুণভাবে বেড়ে যাবে। তাই ঈদ উপলক্ষে পরিমিত পরিমাণে কোমল পানীয় পান করতে পারেন। তবে, এর পরিবর্তে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবুর শরবত বা টক দই দিয়ে বানানো হালকা মসলাযুক্ত বোরহানি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো।

অনেকেই আছেন, যারা প্রচুর পরিমাণে মাংস খেয়ে ফেলছেন। কিন্তু আঁশযুক্ত খাবার যেমন সালাদ বা শাক সবজির দিকে নজর দিচ্ছেন না অথবা শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করছেন না। যে কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে যারা পাইলস জাতীয় রোগে ভুগছেন, তাদের পায়ুপথ ফেটে রক্তক্ষরণ পর্যন্ত হতে পারে।

যাদের আলসারের সমস্যা আছে তারা বেশি গরম, শক্ত, ঝাল এবং তেল, চর্বি ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে উৎসবের এই দিনে এতসব মুখরোচক খাবারের পাশাপাশি হাই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন সালাদ, শসার রায়তা, সিজনাল ফ্রুট জুস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রক্ষা পেতে ইসুবগুলের ভুসি খেতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের ব্যথা বেড়ে গেলে অমিডন, অ্যান্টাসিড, ওমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন।

যাদের আই বি এস আছে, তারা দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। অতিমাত্রায় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। যাদের ওজন বেশি তারা এখন থেকে ঘরে তৈরি কম ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও কায়িক পরিশ্রম বাড়িয়ে দিন। যাতে ঈদের দুই–একদিন খাবারের হের ফের হলে ও ওজন ঠিক রাখা যায়।

যারা উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, গাউট বা কিডনি রোগে আক্রান্ত, তাদের অবশ্যই একটু নিয়ম মেনে খাবার গ্রহণ করা উচিত। মধ্যবয়স্ক অনেকেই একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হজম করতে পারেন না। এ থেকে পেটে গ্যাস, জ্বালাপোড়া ও পেট খারাপসহ নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

যারা হৃদ্রোগ বা উচ্চরক্তচাপজনিত রোগে ভুগছেন, তাদের খাবার সম্পর্কে সচেতনতা থাকাটা একটু বেশি জরুরি। পাশাপাশি যাদের কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক বেশি, যারা ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত, তারা অবশ্যই তৈলাক্ত খাবার ও লাল মাংস পরিমিত পরিমাণে খাবেন। সুস্থতার কথা মাথায় রেখে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলে দিন শেষে আপনি ভালো থাকবেন।

ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীরা মিষ্টি জাতীয় খাবার যে একদমই খেতে পারবেন না, তা কিন্তু নয়। যারা কিডনি রোগে ভুগছেন, তাদেরকে অবশ্যই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার পরিমিত খেতে হবে। পাশাপাশি যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি, তাদের ক্ষেত্রেও লাল মাংস খাবার ব্যাপারে নিষেধ আছে।

ডায়াবেটিস রোগীদেরও পরবর্তীতে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে রোগ ও শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা গুছিয়ে আজ থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলুন।

যাদের বয়স কম, শারীরিক সমস্যা নেই, তারা নিজের মতো সবই খেতে পারবেন। বিশেষ করে করোনাসময়ে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো।

লেখক : কনসালটেন্ট, ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, নিউট্রিশনিস্ট

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS