logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:৪০

সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় পিতা-মাতার করণীয়

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক এই যুগে সন্তান জন্মের আগেই পিতা-মাতা ঠিক করেন তার নাম কী রাখবেন, কোন স্কুলে ভর্তি করাবেন ইত্যাদি। স্কুলে ভর্তির পর নতুন যুদ্ধ পরীক্ষায় কেমন করছে, ক্লাসের টপার হচ্ছে কিনা- এসব নিয়ে পিতা-মাতার নানা তদারকি চলে। কিন্তু সন্তান টিনেজার (১৩-১৯)-এর দিকে যাওয়ার সময় অভিভাবকদের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব শুরু হতে থাকে। সন্তানের মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদেরও মন-মানসিকতায় কিছু পরিবর্তন আনা উচিত। কিন্তু এই সময় সন্তানের সঙ্গে পিতা-মাতার কঠোর আচার-ব্যবহার সন্তানকে আরও অবাধ্য করে তুলে।

এই সময় সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার না করায় সন্তানের সঙ্গে এক দূরত্বের সৃষ্টি হয়। সন্তান অবাধ্য হয়ে যান। সম্পর্ক আরও খারাপ হতে থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের এই সম্পর্ক নিয়ে কী বলছেন, চলুন জেনে নেয়া যাক তাহলে-

* বয়ঃসন্ধির সময় প্রতিটি মানুষের জীবনেই প্রেম নামক ফুল ফুটে থাকে। অভিভাবক হিসেবে আপনিও কিন্তু এর ব্যতিক্রম নয়। এমনও হতে পারে সেই প্রেম থেকেই ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী করে নিয়েছেন আপনি। তাই নিজ সন্তান যখন টিনেজে পা রাখে তখন তাকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন জাগলে খোলামনে আলোচনা করুন। কখনো এড়িয়ে যাবেন না বা তাকে মানসিক নির্যাতন করবেন না। আপনার দুর্ব্যবহারের ফলে সন্তান কিন্তু যে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

* কখনোই সন্তানের হাতে বড় অংকের টাকা দিবেন না। হিসাব করে প্রয়োজনের বাইরে তাকে হাত খরচের জন্য সামান্য কিছু টাকা দেবেন। বন্ধুদের সঙ্গে অসামাজিক বা অনৈতিক কোনো পার্টিতে তাকে যে যেতে দেয়া হবে না সেটাও বুঝিয়ে বলুন। অচেনা কারও সঙ্গে মেলামেশা করলে নজর রাখুন।

* সর্বদা সন্তানের পেছন পেছন ঘুরঘুর করবেন না। তাকে কিছুটা সময় একা একা বাইরে বের হতে দিন। মাঝে মাঝে টিউশনেও একা একা যেতে দিন। তবে টিচার কাছ থেকে তার সম্পর্কে খোঁজ নিবেন।

* সন্তানের হাতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দিলে তা এমন জায়গায় থেকে ব্যবহার করতে দিন যেখান থেকে আপনি তার প্রতি খেয়াল রাখতে পারেন। মাঝে মাঝে তার মোবাইল দেখুন। ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখুন নিজের হাতে।

* এই সময়ে লেখা-পড়া, ক্লাস সব কিছুই অনলাইনে হচ্ছে। তাই কখন কী করছে খেয়াল রাখুন। পড়াশোনা ব্যতীত অন্য কিছু করলে যেমন অতিরিক্ত সাজগোজ, উল্টা-পাল্টা ভাবনা দেখলে সতর্ক হতে হবে। কারণ খোঁজার চেষ্টা করুন। তবে মারধর করা ছাড়া তাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে বন্ধুর মতো ব্যবহার করুন। যেভাবেই হোক তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনুন।

* সন্তান যদি কারও প্রেমে জড়িয়ে পড়ে তাহলে খোঁজ-খবর নিন। বিপরীত মানুষটি যদি ভালো ও ভালো পরিবারের হয় তাহলে সন্তানকে বুঝান যে, পড়াশোনা ও প্রেম-ভালোবাসা দুটো দুই বিষয়। প্রয়োজনে রুটিন করে দিন। তবে হ্যা, এই পবিত্র প্রেম-ভালোবাসাকে যেন তারা অশ্লীলতায় না নিয়ে যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। সন্তান পরিপক্ব হলে তাদের দু’জনের সম্পর্ককে স্বীকৃত জানান। আর যদি বিপরীত মানুষটি খারাপ হয় তাহলে সন্তানকে বুঝিয়ে সম্পর্ক থেকে বের করে আনুন। সন্তান ভেঙে পড়লে বন্ধুরমত ব্যবহার করে তাকে আবার আগেরমত নতুন করে গুছিয়ে তুলুন।

* সন্তানকে নিয়ে বেশি চিন্তা-ভাবনা করবেন না। তাকে অবিশ্বাসও করবেন না। এতে করে সন্তানের মনোভাব ভিন্ন আঙ্গিকে চলে যাবে আপনাদের সম্পর্কে। ক্ষোভ বাড়বে। তখন নিজের ইচ্ছামত কাজ করবে, তাকে মারধর করেও বুঝাতে পারবেন না।

সূত্র : এই সময়

এসআর/এম

RTV Drama
RTVPLUS