জ্যোতিষশাস্ত্র মতে মুক্তার উপকারিতা

প্রকাশ | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:৪০ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:৫৭

জ্যোতিষ শাস্ত্রী ফকির ইয়াসির আরাফাত
মুক্তা

মুক্তা বা মতি চকচকে অস্বচ্ছ রত্ন। আরবীতে লুলু বলা হয়। মুক্তা বর্ণের দিক থেকে সাদা, হরিদ্রাভ,কৃষ্ণাভাযুক্ত, গোলাপী বা রুপালী বর্ণের হয়ে থাকে। নানা জাতের মুক্তা পাওয়া যায়, ঝিনুকের মুক্তা, শঙ্খ মুক্তা, গজমতি, মৎস মুক্তা। আজকাল বিভিন্ন দেশে ও এখন বাংলাদেশেও ঝিনুকের মুক্তা চাষ করা হয়।

উপাদান:  মুক্তার ৯২ ভাগই ক্যালসিয়াম, ২ ভাগ পানি ও ৬ ভাগ অজৈব খনিজ উপাদান। ক্যালসিয়াম কার্বনেটই এর মূল।

আপেক্ষিক গুরুত্ব: ২.৬০-২.৭৮।

প্রতিসরণাঙ্ক : ১.৫২-১.৬৭।

প্রাপ্তি স্থান: বাংলাদেশ, মায়ানমার, জাপান, শ্রীলঙ্কা, পারস্য উপসাগর, চীন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে মুক্তা প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়।

মুক্তা সততা, বিশ্বাস, প্রেম ভালোবাসা, মায়া-মমতা ও আনন্দের কারক। দেহের সৌন্দর্য রূপ লাবণ্য ও মানসিক শান্তি বজায় রাখতে এর জুরি মেলা ভার। উপমহাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় মুক্তা ভস্ম ব্যবহার হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মুক্তাকে রতিশক্তির বৃদ্ধি কারক বলা হয়।

জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্র হলো মনের কারক গ্রহ। এটি স্ত্রী কারক ও মাতৃ কারক। মানুষের ভাবাবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক রোগের চিকিৎসায় মুক্তা অব্যর্থভাবে কার্যকর। চিকিৎসা জ্যোতিষে অনেক গুণী জ্যোতিষী এটিকে ক্ষুধা মন্দা ও দুরারোগ্য কর্কট ব্যাধির চিকিৎসাতেও ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

নারীদের বিভিন্ন স্ত্রী রোগে শ্বেত মুক্তা খুব চমৎকার ঔষধি হিসেবে কাজ করে। ফলে বৈদিক যুগ থেকেই প্রাচীন মুণী ঋষীগণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিবাহিত নারীদেরকে মুক্তার বিকল্প হিসেবে শঙ্খের শাখা পরিধান বাধ্যতামূলক করেছেন। অকারণ দুশ্চিন্তা, মানসিক বিকার, আকাশ কুসুম কল্পনা, অথবা প্রেম ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে নেশার জগতে বুদ হয়ে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ন্যাচারাল মুক্তা মহৌষধী। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে অশুভ শনির গোচরে মানুষ অস্থিরতায় ভোগে ও নানা রকম জটিলতায় জড়িয়ে পড়ে। শুধু মাত্র ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করার শক্তি লুপ্ত না হলে সে এমন ঘোর বিপদে পতিত হতো না। তাই এ সময়ে শনির প্রতিকারের পাশাপাশি চন্দ্রর প্রতিকারে মুক্তা খুব কার্যকর। বক্ষব্যাধি, যক্ষ্মা, হৃদরোগে বা শ্বাসকষ্টের রোগে অথবা জলে ডুবে মরার আতঙ্কে ভোগা রুগীদের মুক্তা দেওয়া উত্তম।

আজকালকার মায়েদের প্রায়শই দেখা যায় একটি অভিযোগ করতে আর তা হলো তার সন্তান খুব অস্থির চঞ্চল, খুব দুষ্টুমি করে। ঠিক মতো খেতে চায় না। সম্ভব হলে আপনার সন্তানের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সময়ে তাকে ন্যাচারালভাবে হওয়া শ্বেত মুক্তা শরীরের ওজন বিবেচনায় লকেট করে পরিয়ে দিন। দেখবেন তার ক্ষুধা মন্দা কেটে যাবে ও দুষ্টুমি কমে যাবে। সন্তানের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ হবে তরাম্বিত।

সকলের মঙ্গল কামনায় আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি আপনাদের জ্যোতিষ। যোগাযোগ ০১৭১৬-৬০৮০৮২।

এম