Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮

বহুজাতিক কোম্পানিতে নেতৃত্ব বাড়ছে বাংলাদেশিদের

ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রতিষ্ঠিত মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান হিসেবে নেতৃত্বদানে বাংলাদেশির সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এক সময় এসকল পদে বিদেশিদের আধিপত্য ছিল। বিগত দুই দশকের মধ্যে এটির পরিবর্তন হয়েছে।

বিশেষ করে দেশের ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি, তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের অর্ধশত বহুজাতিক কোম্পানির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বাংলাদেশিরা।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- গ্রামীনফোন, রবি, ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টস, এইচএসবিসি, মাস্টারকার্ড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ল্যাকোস্টে, স্ন্যাপচ্যাট, ইন্টেলসহ বিভিন্ন নামীদামী প্রতিষ্ঠান।

এ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দানকারী হিসেবে বাংলাদেশিদের উঠে আসার পেছনে অভ্যন্তরীণ বাজার চাহিদায় বিদেশিদের চেয়ে বাংলাদেশিদের জানা-শোনা বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু তাই নয়, যোগ্যতার প্রশ্নে যারা সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন শুধুমাত্র তাদেরকেই এসব বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী (সিইও) বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে জানান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালি চৌধুরী।

রুপালি চৌধুরী ২০০৮ সাল থেকে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী (সিইও) বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে মূলত প্রার্থীর অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাজার সম্পর্কে জ্ঞানের পরিধি যাচাই করা হয়। এছাড়াও তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদে কাজ করেছেন, সেখানে তার পারফর্মেন্স, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং কেমন ছিল তাও যাচাই-বাছাই করা হয়।

এই যোগ্যতাসম্পন্ন ইয়াং প্রফেশনালদের মধ্যে যারা বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বড় পদে কাজ করছেন তাদের একটি বড় অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট (আইবিএ) এর শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক এবং আইবিএর শিক্ষক মো. আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিডারশীপ তৈরি লক্ষ্য নিয়েই ৫৫ বছর আগে আইবিএ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সে লক্ষ্য অর্জনে এই দীর্ঘ সময় ধরে ইন্সটিটিউটটি শিক্ষার্থীদের যাচাই বাছাই করে আসছে এবং পাঠ্যসূচি সেভাবেই সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই নেতৃত্বগুণ শেখানো হয়েছে বলেই, কর্মক্ষেত্রে এখন এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশে বহুজাতিক পেশাদার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস (পিডব্লিউসি)’র ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের বিকাশের ফলে সম্প্রতি অধিক হারে শিক্ষার্থীরা বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ পাচ্ছেন।

নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাদেরকে বাংলাদেশে কাজ করানোর পাশাপাশি বিদেশেও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের কর্মকর্তাদের বিদেশেও কাজে নিয়োজিত করছে যাতে তারা বহির্বিশ্বে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে পারে।

দেশে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশিদের নিয়োগ দিলে স্থানীয় বাজার সম্পর্কে তাদের ধারণা নিতে এবং পরিবেশ ও সংস্কৃতি সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেক সময় চলে যায়। কিন্তু এ খাতে যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো বাংলাদেশিকে নিয়োগ দিলে তার পেছনে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয় না। শুরু থেকেই দেশের বাজার, ভোক্তাদের চাহিদা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় স্থানীয় নিয়ন্ত্রকদের সাথে যোগাযোগ করা ও নেটওয়ার্কিং করা বাংলাদেশিদের পক্ষে সহজ হয়।

এছাড়া বিদেশিদের নিয়োগ দিতে গেলে তাদের নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গিয়ে কাজ করার জন্য বেতনের পাশাপাশি বাড়তি ভাতা দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশি কাউকে নিয়োগ দেয়া হলে এমন কোনো বরাদ্দ লাগে না। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেই খাত বাবদ বিপুল পরিমাণ খরচ কমাতে পারে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রতিটি সূচকে কয়েক ধাপ এগিয়েছে।

রুপালি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। ফলে এ খাতে যোগ্যতাসম্পন্নরা নিজ দেশেই শীর্ষ পদে ভবিষ্যত গড়তে আগ্রহী। কারণ নিজের দেশে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার একটি সুবিধা আছে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এক সময় এমন চিত্র ছিল। তারাও এখন বিদেশিদের সরিয়ে নিজ দেশের কোম্পানিগুলোর উঁচু পদে নিজেদের নাগরিকদের নিয়োগ দেয়া শুরু করেছে।

এ বিষয়ে রুপালি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষ পদে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্থানীয় মেধাবীদের প্রমোট করতে হবে, উৎসাহ দিতে হবে, সুযোগ দিতে হবে। তারা নিজ যোগ্যতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করেই এ পর্যন্ত এসেছে। সেই মাপকাঠিতে তাদের নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।

বিদেশিদের কমে যাওয়ার পিছনে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে আনেন পিডব্লিউসি'র ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ। সিটিব্যাংক এনএ, স্ট্যান্ডার্ড চ্যাটার্ড ব্যাংকসহ মোট চারটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে তার ৩০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা আছে।

তিনি জানান, যেসব বিদেশি কোম্পানির প্রধান হংকং, দুবাই, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে কাজ করতেন। ঢাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর তারা বাংলাদেশ থেকে চলে যান।

এছাড়া কোভিড মহামারি চলাকালে আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সিইও যারা বিদেশ থেকে এসে কাজ করতেন, কিন্তু করোনাকালে তারা আর আসতে পারছেন না। এছাড়া যে সমস্ত বাংলাদেশি ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় কাজ করেছেন, অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এখন তাদেরকে অফার দেয়া হচ্ছে নিজের দেশে কাজ করতে। তাদের মধ্যে অনেকেই দেশে ফিরে মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

জেএইচ/এম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS