logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ৪ মাঘ ১৪২৭

আমাকে তুমিই বলবেন, শেখ হাসিনাকে মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৭ | আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ১০:০০
শেখ হাসিনা ও মমতা ব্যানার্জি
ছবি সংগৃহীত
কখনও ‘আপনি’, কখনও ‘তুমি’ বলছেন দেখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বিনীত আবদারে বলে ফেললেন, আমাকে আপনি বলবেন না। ইংরেজিতে তো শুধু ‘ইউ’। আমাদের বাংলায় আপনি, তুমি দুটো শব্দই আছে। তুমিটা অনেক আপন। আমাকে তুমিই বলবেন। শেখ হাসিনা মৃদু হেসে কাছে টেনে নিলেন মমতাকে। খবর আনন্দবাজারের।

গোলাপি বলে ভারত-বাংলাদেশের টেস্টের উদ্বোধনী দিনে গতকাল ইডেন উদ্যানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানানোর পর থেকে গৃহকত্রীর মতোই সারাদিন আন্তরিক আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। ম্যাচ দেখতে আসা ক্রিকেটের তাবড় তারকা, অভ্যাগতদের সঙ্গে কথায়, আলাপে সকলের ‘দিদি’ হয়ে মধ্যমণিও থাকলেন তিনিই।

শেখ হাসিনা পৌঁছনোর বেশ খানিকক্ষণ আগেই শুক্রবার দুপুরে ইডেনে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। বি সি রায় ক্লাব হাউসের লাউঞ্জে বসেছিলেন বেশ কিছুক্ষণ। তার পরেই এসে পৌঁছান বিসিসিআই-এর সচিব জয় শাহ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর পুত্র। সৌরভ গাঙ্গুলী দুজনের আলাপ করিয়ে দেয়ার পরে ঘরোয়া মেজাজে হাসি, মজা, হাল্কা গল্পে বেশ কিছুক্ষণ কাটান মমতা-জয়। খুব সচেতনভাবেই রাজনীতির কথা এড়িয়ে মমতা খোঁজ নেন অমিত শাহর শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে। ইডেনে চলে আসেন শচীন টেন্ডুলকারও। লাউঞ্জে বেশ খানিকক্ষণ জয়, শচীনদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা, খোশগল্প চলে মমতার।

শেখ হাসিনা চলে এসেছেন শুনে বি সি রায় ক্লাবহাউসের গেটে চলে যান মমতা। পাশে সৌরভ। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হতেই দুজনে দুজনকে বলছেন, ‘কেমন আছেন?’ এর পরে গেট পেরিয়ে ড্রেসিংরুমের মধ্য দিয়ে মাঠে ঢোকার পথে র‌্যাম্পে হঠাৎই পা পিছলে যায় শেখ হাসিনার। হুড়মুড়িয়ে সামনের দিকে পড়ে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। চকিতে শেখ হাসিনাকে ধরে ফেলেন মমতা। পাশে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও সামলে নেন শেখ হাসিনাকে। বড় কোনও অঘটন ঘটেনি।

এরপর শেখ হাসিনা-মমতা মাঠে ঢুকতেই শুরু হয় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত। বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেরই জাতীয় সঙ্গীতে মমতা গলা মেলালেন দেখে হাসিনা বলেন, ‘একই কবি।’ মমতার প্রত্যুত্তর, ‘একই রবি।’ কথা বলতে বলতেই এরপর শেখ হাসিনাকে নিয়ে মমতা চলে যান ক্লাব হাউসে নিজেদের নির্দিষ্ট আসনে। বাংলাদেশের একের পর এক উইকেট পড়ছে দেখে কিঞ্চিৎ বিমর্ষ লাগে শেখ হাসিনাকে।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: ​বলিভিয়ার লিথিয়াম হাতিয়ে নিতেই অভ্যুত্থান: মোরালেস
---------------------------------------------------------------

মমতা ফিরে যান লাউঞ্জে। মমতা লাউঞ্জে রয়েছেন শুনে দেখা করতে আসেন ভারতের অতীত ক্রিকেট তারকা কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত, সুনীল গাভাস্কারসহ আরও অনেক ক্রিকেটার ও অতিথি। দিদির খোঁজ করতে করতে মমতার পাশে সোফায় বসে আপ্লুত শ্রীকান্ত বলেন, দিদিকে খুব শ্রদ্ধা করি, ভালবাসি।

খেলা চলতে চলতেই মধ্যাহ্নভোজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। গাভাস্কার, শ্রীকান্তের মতো তারকা, অভ্যাগতরা ঠিকমতো খাচ্ছেন কিনা, নিজে গিয়ে বারবার তদারক করে আসেন মমতা। দ্রুত চলে যান শেখ হাসিনার কাছে। ‘বেলা হয়ে যাচ্ছে, এখন খেয়ে নিন’। হাসিনাকে নিয়ে খাওয়ার জায়গায় নিয়ে আসেন মমতা। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হাসিনা ও তাঁর সঙ্গীদের আপ্যায়ন করেন মমতা।

মধ্যাহ্নভোজ শেষে বেলা তখন প্রায় আড়াইটা। মাঠ ছেড়ে হাসিনা রওনা দেন তাজ বেঙ্গলের পথে। মমতা নবান্নে। গৃহকত্রীর মতো অতিথিদের সামলাচ্ছেন দেখে হাসতেই হাসতেই শেখ হাসিনা বলে যান, মমতা তো এক মুহূর্ত বসে থাকতে পারে না! সবসময় ছুটে বেড়াচ্ছে! মমতাও সলজ্জ মাথা নাড়েন— সব সময়ই মনে হয় কিছু কাজ করি। এক জায়গায় বসে থাকতে পারি না!

সন্ধ্যায় বৈঠকের জন্য তাজে চলে আসেন মমতা। শেখ হাসিনাকে বালুচরি স্বর্ণচরি শাড়ি, দুটো শাল উপহার দেন মমতা। বৈঠক সেরে ফের দুজনেই ইডেনে। শেখ হাসিনা মমতাকে বলেন, চলো একসঙ্গে গাড়িতে যাই। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রোটোকলের মধ্যে মমতা ঢুকতে চাননি। তাই হাসিনার সৌজন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে মমতার বিনীত অনুরোধ, না আমি বরং আগে যাই। আপনি আপনার মতোই আসুন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ
  • আন্তর্জাতিক এর পাঠক প্রিয়