logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘নিরাপত্তা ইস্যু’ দেখিয়ে তিন মুসলিম পরিবারকে নিউ ইয়র্কে ফেরিতে উঠতে বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৫৩ | আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২৩:৩৭
নিউ ইয়র্ক ফেরি
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি ফেরিতে তিনটি মুসলিম পরিবারকে উঠতে দেয়া হয়নি। ওই তিন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আটজন শিশুও রয়েছে। পরিবার তিনটির পক্ষে নিউ ইয়র্ক সিটি কমিশন অন হিউম্যান রাইটসে দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, ‘নিরাপত্তা ইস্যু’ দেখিয়ে তাদের ফেরিতে উঠতে বাধা দেয়া হয়। খবর সিএনএনের।

ওই তিন পরিবারের পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর)। এইচএনওয়াই ফেরি, এলএলসি, নিউ ইয়র্ক সিটি ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন, সিটি অব নিউ ইয়র্ক এবং জন ডো-১ ও জেন ডো-১ নামে দুজন কর্মীর বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

নিরাপত্তা উদ্বেগের ‘মিথ্যা অজুহাত’ দিয়ে ওই তিন পরিবারের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগ আনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা, আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা ও ‘অপমান, বিব্রত করা এবং তীব্র মানসিক কষ্টের’ জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর এই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় ওই তিন পরিবারকে। দিনটি তিন নারী এবং তাদের দুই মাস থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হওয়ার কথা ছিল। কারণ তিন পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার পাকিস্তান যাওয়ার কথা ছিল। ওই তিন নারীর মধ্যে দুজন হিজাব পরিহিত ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ওই দিন পরিবার তিনটি গভর্নর আইল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু তাদের ব্রুকলিনের বাসা থেকে ওয়াল স্ট্রিটের প্রথম ফেরিতে ওঠার পর তারা বুঝতে পারেন, এভাবে গেলে তাদের দেরি হবে। তাই তারা তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ব্রুকলিনের পিয়ার সিক্সে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাদের ফেরিতে উঠতে দেয়ার পরিবর্তে এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং পরে উঠতে বলা হয়।

তবে যখন তাদের ফেরিতে ওঠার সময় আসে তখন ফেরির ওই দুই কর্মী নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাদের বাধা দেয়। কিন্তু ওই দুই কর্মী যখন পরিবার তিনটিকে নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যায় তখনও তিনি বুঝতে পারেননি কেন তাদের সেখানে আনা হয়েছে।

পরে তাদের ছাড়াই ওই ফেরি ছেড়ে যায় বলে অভিযোগ করে ওই তিনটি পরিবার।

তখন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তারা আলোচনা করছিল। এসময় এইচএনওয়াই ফেরির আরেকজন কর্মী উচ্চস্বরে জানায়, ওই তিনটি পরিবারকে ফেরিতে উঠতে দেয়া হয়নি কারণ ব্রুকলিন থেকে যখন তারা ফেরিতে উঠেছিল তখন সিটের ওপর দাঁড়িয়েছিল ওই শিশুরা। তবে ওই পরিবার তিনটি যখন ব্রুকলিনে একজন ফেরি কর্মীর সঙ্গে কথা বলে তখন তিনি জানান, ওই শিশুরা এমন কিছু করেছে বলে তার মনে পড়ছে না।

এ ঘটনায় ‘মিথ্যা অজুহাতে’ তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে এবং সেবা দিতে অস্বীকার করা হয়েছে বলে ওই অভিযোগ দায়ের করে পরিবার তিনটি। এ বিষয়ে কথা বলতে এইচএনওয়াই ফেরির সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনএন কিন্তু তারা কোনও মন্তব্য করেনি।

এছাড়া ফেরিটি পরিচালনাকারী কোম্পানি হর্নব্লোয়ারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সিএনএন। নিউ ইয়র্ক সিটি ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ও নিউ ইয়র্ক মেয়রের অফিস জানিয়েছে, তারা এ ঘটনার তদন্ত করবে।

নিউ ইয়র্ক সিটি ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমাদের শহরে বৈষম্যের কোনও স্থান নেই। সিটি এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে এবং যদি এগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল দে ব্লাসিও এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, যেখানেই (শহরের) বৈষম্য ঘটুক তা সব নিউ ইয়র্কবাসী জন্য অপমানের। আমার টিম এ ঘটনা খতিয়ে দেখছে। এই শহরে গোঁড়ামির কোনও স্থান নেই। আমরা এটির মোকাবিলা করবো এবং জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবো।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: ইউরোপের ৭৫০ কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের
--------------------------------------------------------------- 

অভিযোগে বলা হয়, ওই তিন নারী ও তাদের শিশুরা ‘বিব্রত ও অপমানিত’ বোধ করেছে। যখন তাদের ফেরিতে উঠতে বাধা দেয়া হয় তখন অন্যান্য যাত্রীরা দাঁড়িয়ে দেখছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের ফেরিতে উঠতে না দেয়ায় শিশুদের মধ্যে কয়েকজন কেঁদে দেয় এবং দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে। কেন তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে তা শিশুদের বোঝাতে ওই নারীদের বেগ পেতে হয় বলেও জানানো হয় ওই অভিযোগে।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের একজন আইনজীবী আহমেদ মোহামেদ এ ঘটনাকে ‘বৈষম্যমূলক আচরণকে অজুহাত’ দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

পরে দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর ওই পরিবার তিনটিকে ফেরিতে উঠতে অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু তারা তাদের পরিকল্পনা বাতিল করে ব্রুকলিন ফিরে যান। এছাড়া নিউ ইয়র্ক সিটি ফেরির কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর তারা এটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে মন্তব্য করে এবং ভাড়া ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দেয়।

এ/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ
  • আন্তর্জাতিক এর পাঠক প্রিয়