পরিবেশ রক্ষায় একদিন পর পর মলত্যাগ করতে বললেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ | ১৩ আগস্ট ২০১৯, ২২:৩১ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৬:১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি জেইর বলসোনারো

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো এই গ্রহকে বাঁচানোর উপায় হিসাবে মানুষকে একদিন পর পর মলত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ওই সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কিভাবে পরিবেশকে রক্ষা করে কৃষির উন্নয়ন করা যায়।

অ্যামাজনে বন উজাড় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারি তথ্যে উঠে আসার পর বলসোনারো সম্প্রতি তোপের মুখে পড়েন। এরপর তিনি সেই সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন- যিনি এই বন উজাড় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। বলসোনারোর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি সমস্যার পরিধি সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে।

এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই সাংবাদিক বলেন, এই গ্রহে গ্রিনহাউজ প্রভাবের এক চতুর্থাংশের জন্য দায়ী বন উজাড় ও কৃষিক্ষেত্র। তার প্রতিক্রিয়ায় বলসোনারো ওই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, খানিকটা কম খাওয়া এক্ষেত্রে যথেষ্ট। আপনি পরিবেশ দূষণের বিষয়ে কথা বলছেন তো? সেক্ষেত্রে একদিন পর পর মলত্যাগ করলেই হবে। এটি পুরো বিশ্বের জন্যই ভালো হবে।

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : হংকং আন্দোলনে ধস নেমেছে অর্থনীতিতে
---------------------------------------------------------------------

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বলসোনারো জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অ্যামাজন ক্রমান্বয়ে ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। কারণ তার সরকার যে নীতি নিয়েছে সেগুলোতে পরিবেশ সংরক্ষণের চাইতে উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বেশি।

ব্রাজিলের মহাকাশ সংস্থার তথ্য থেকে দেখা গেছে, গত বছরের জুনে অ্যামাজনে যে পরিমাণ বনভূমি ধ্বংস করা হতো, এ বছরের জুনে - অর্থাৎ পুরো এক বছরের মাথায় - এই বন উজাড়ের হার ৮৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট হিসাবে অ্যামাজন একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্বনের ক্ষেত্রে যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি কমাতে সাহায্য করে।

সরকারি পরিসংখ্যানগুলো বলছে, অ্যামাজনে গাছ কাটার সবচেয়ে বড় কারণ গবাদি পশুর জন্য নতুন চারণভূমি তৈরি করা।

বিগত দশ বছর ধরে যেসব সরকার ক্ষমতা ছিল, তারা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এবং জরিমানার ব্যবস্থা করে বন উজাড় কমাতে সক্ষম হয়েছিল।  তবে বলসোনারো এবং তার মন্ত্রীরা এই শাস্তির সমালোচনা করেছেন।

তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর কাঠ বাজেয়াপ্তকরণ এবং পরিবেশগত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

ডি/