ইথিওপিয়ার যে পবিত্র শহরে মসজিদ নিষিদ্ধ

প্রকাশ | ২৬ জুন ২০১৯, ১৬:০২ | আপডেট: ২৬ জুন ২০১৯, ১৭:১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মসজিদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন একদল মুসলিম

একদল মুসলিম ইথিওপিয়ার আকসুম শহরে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। যা সেখানকার খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, এর চেয়ে বরং মৃত্যুই তাদের কাছ শ্রেয়। সিনিয়র একজন ধর্মীয় নেতা গডেফা মেরহা বলেন, আকসুম আমাদের মক্কা।

তিনি বলেন, ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে যেমন গির্জা নিষিদ্ধ; তেমনি আকসুমেও কোনও মসজিদ থাকতে পারে না। খবর বিবিসি বাংলার।

গডেফা বলেন, আকসুম একটি পবিত্র স্থান। সিটি অব মনেস্ট্রি। এখানে কেউ যদি মসজিদ নির্মাণ করতে আসেন তাহলে আমরা মরবো। কখনই এটা মেনে নেয়া হবে না। আমাদের জীবদ্দশায় এটা আমরা অনুমোদন করবো না। যদিও ‘জাস্টিস ফর আকসুম মুসলিম’ ব্যানার নিয়ে একদল মুসলিম ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।

তারা বলছেন, মসজিদ নির্মাণ ও প্রার্থনার সুযোগ পাওয়া তাদের অধিকার। আর মুসলিমদের এ তৎপরতায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে সেখানকার অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা।

যদিও সেখানকার অনেকে বিশ্বাস করেন যে এ বিতর্ক অর্থহীন কারণ প্রাচীন এ শহরটি অনাদিকাল থেকেই ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য সুপরিচিত। ধর্ম দুটির অনুসারীদের মতে, ইসলামের সূচনালগ্নে মক্কায় অমুসলিম শাসকদের অত্যাচারে পালিয়ে প্রথম মুসলিমরা এসেছিল এই শহরে।

তখনকার খ্রিস্টান রাজা তখন তাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। আর মূলত আরব উপত্যকার বাইরে এটাই ছিল মুসলিমদের প্রথম কোনও উপস্থিতি। এখন আকসুমের ৭৩ হাজার অধিবাসীর ১০ শতাংশই মুসলিম। আর ৮৫ ভাগ হলো অর্থোডক্স খ্রিস্টান। আর পাঁচ শতাংশ খ্রিস্টান ধর্মের অন্য ধারার অনুসারী।

বাইরে প্রার্থনায় বাধ্য হচ্ছে মুসলিমরা

শহরের মুসলিমদের একজন ৪০ বছর বয়সী আব্দু মোহাম্মেদ আলী। তিনি বলছেন, খ্রিস্টানদের একটি বাড়িই তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে প্রার্থনার জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের ১৩টি অস্থায়ী মসজিদ আছে। শুক্রবারে আমরা যদি মাইক ব্যবহার করি তাহলে তারা বলে যে আমরা সেইন্ট ম্যারিকে অসম্মান করছি।

চিকিৎসক আজিজ মোহাম্মেদ প্রায় ২০ বছর ধরে আকসুমে বাস করছেন। তিনি বলছেন, মসজিদ না থাকায় অনেক মুসলিম খোলা জায়গায় প্রার্থনা করতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, এখানে আমরা মুসলিম ও খ্রিস্টানরা একসঙ্গেই বাস করি। খ্রিস্টানরা বাধা দেয় না কিন্তু বহু বছর ধরেই আমরা রাস্তায় প্রার্থনা করছি। আমাদের একটি মসজিদ দরকার।

আমাদের শান্তিতে থাকতে হবে

প্রায় ৫০ বছর আগে যখন ইথিওপিয়ায় সম্রাট হাইল সেলেসি ক্ষমতায় ছিলেন তখন আকসুমেও একই রকম মতপার্থক্য দেখা দেয়। রাজপরিবারের সদস্য, যিনি শহরের তখনকার নেতা ছিলেন তিনি একটি সমঝোতা করে দেন। যার ফলে মুসলমানরা ভুকিরো-মারে শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল।

ওই শহরে মুসলিমদের জন্য রান্নার কাজ করেন কেরিয়া মেসুদ। তিনি বলছেন, মসজিদের জন্য আমরা জোর করতে পারি না। আমাদের শান্তিতে থাকতে হবে।

গডেফা মেরহা অবশ্য বলছেন, উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে এবং উভয়ের মধ্যে ইব্রাহীম (আ.)  সম্পর্কীয় কিছু একই বিশ্বাস কাজ করে। তিনি বলেন, তার বেস্টফ্রেন্ড হলো একজন মুসলিম এবং তারা এক সঙ্গেই বিয়ে, শেষকৃত্যের মতো অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দেন।

তার বিশ্বাস ইথিওপিয়ার অন্য অঞ্চলের মুসলমানরা আকসুমে মসজিদ বানানোর এই প্রচারণার পেছনে আছে। কিন্তু অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা আকসুমের পবিত্রতা রক্ষায় সেটি হতে দেবে না। তবে অনেকেই আশা করছেন, সম্রাট হেইলি সেলাসিসের সরকার একটি সমঝোতা তৈরি করতে পারবেন।

এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবিই আহমেদের বাবা একজন মুসলিম ছিলেন আর মা খ্রিস্টান। রিজিওনাল কাউন্সিল অব মুসলিম বলছে, তারা খ্রিস্টানদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কাউন্সিল কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাহসে বলেন, আমরা আশা করি খ্রিস্টানরা মসজিদ নির্মাণে সহায়তাই করবেন।