এভারেস্টে মাত্রাতিরিক্ত পর্বতারোহীর ধাক্কাধাক্কিতে নিহত ২

প্রকাশ | ২৪ মে ২০১৯, ২৩:০৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএন

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে যাওয়া মাত্রাতিরিক্ত পর্বতারোহীর ধাক্কাধাক্কিতে দুজন পড়ে গিয়ে নিহত হয়েছেন।

ভারতীয় আরোহী অঞ্জলি কুলকার্নি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতটির চূড়ায় উঠতে গিয়ে ফিরে আসার পথে মারা যান বলে তার ছেলে শান্তনু কুলকার্নি যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন।

শুক্রবার এক প্রতিবেদন গণমাধ্যমটি জানায়, এই ৫৫ বছর বয়সী নারী চূড়ায় ওঠার একেবারে শেষধাপ ক্যাম্প ফোরে ধাক্কাধাক্কির শিকার হন। প্রায় আট হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই ক্যাম্প ফোর।

এদিকে আমেরিকান পর্বতারোহী ডোনাল্ড লিন ক্যাশ বুধবার চূড়াটি থেকে নামতে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালি অভিযান কোম্পানি পাইওনিয়ার অ্যাডভেঞ্চার প্রাইভেট লিমিটেড।

পর্বতারোহী নির্মল পুরজা বুধবার ইনস্টাগ্রামে এই পর্বতে মানুষের ভিড়ের একটি ছবি পোস্ট করেন। এই ছবিতে দেখা যায় চূড়ায় ওঠার পথে পর্বতারোহীরা গাদাগাদি করে এগিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি লেখেন, ‘ডেথ জোন’ হিসেবে পরিচিত পর্বতটির শীর্ষস্থানের এই সারিতে ৩২০ জন কোনোরকমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

পর্বতারোহীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে মানতে নারাজ নেপালের ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল ডান্ডুরাজ ঘিমিরে। তিনি এই ধরনের দাবি ভিত্তিহীন বলে মনে করেন।

ভূপৃষ্ঠ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা আট হাজার ৮৪৮ মিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠে এক নিশ্বাসে যে পরিমাণ অক্সিজেন পাওয়া যায়, এই উচ্চতায় তার এক-তৃতীয়াংশ থাকে।

এমন উচ্চতায় মানুষের শরীর দ্রুত হালকা হতে থাকে। এর মানে হলো অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়া এখানে কয়েক মিনিট টিকে থাকা অসহনীয় হয়ে ওঠে বেশির ভাগ মানুষের জন্য।

ঘিমিরে বলেন, এখন সার্বিক পরিস্থিতি সবসময় সুবিধাজনক থাকছে না। তাই যখনই পরিস্থিতি অনুকূলে থাকছে, তখনই রওনা হচ্ছেন পর্বতারোহীরা।

তিনি বলেন, কয়েকদিনের খারাপ আবহাওয়ার পর গত ২২ মে সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় দুই শতাধিক পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের উদ্দেশে রওনা হন।

এই মৌসুমে এভারেস্টে পর্বতারোহীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ অধিক উচ্চতায় তাদের অসুস্থ হয়ে যাওয়া বলে উল্লেখ করেন নেপালের ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল।

শান্তনু কুলকার্নির মতে, তার মায়ের ২৫ বছর ধরে দীর্ঘপথে চলাচলের অভিজ্ঞতা ছিল এবং গত ছয় বছর মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

তিনি এর আগে দক্ষিণ রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রুস এবং তাঞ্জানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোতে আরোহণ করেছেন। এতেই স্পষ্ট যে তিনি সহ্যশক্তির পরীক্ষায় বেশ ভালোভাবেই উত্তীর্ণদের একজন।

অঞ্জলি কুলকার্নি ও তার স্বামীর একটি অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি ছিল কিন্তু তারা তাদের মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অবসরে যান বলে জানান শান্তনু।

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের ৫৫ বছরের ক্যাশ আট হাজার ৭৭০ মিটার উঁচুতে পৌঁছানোর পর পড়ে যান বলে জানিয়েছে পাইওনিয়ার অ্যাডভেঞ্চার।

কোম্পানিটি জানায়, আমাদের পক্ষ থেকে তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হয়। সবচেয়ে ভালো নির্দেশনা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ এবং চিকিৎসা সহায়তার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।

ক্যাশের ছেলে ট্যানার ক্যাশ সিএনএনের শাখা কেএসএল-টিভিকে জানান, তিনি প্রতিটি মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় আরোহণের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর মারা গেছেন। শেষ বার্তাটি তিনি তাকে পাঠান।

এতে তিনি বলেন, গত ৪০ বছর ধরে আমি যে পর্বত সম্পর্কে পড়েছি, সেটির ওপরে আরোহণ করে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।

ক্যাশের মরদেহ সম্ভবত এভারেস্টেই থাকবে। ১৯২২ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় মারা গেছেন।

প্রথমবারের মতো ১৯২২ সালে বিশ্বের এই সর্বোচ্চ পর্বতে আরোহীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাদের বেশির ভাগের মরদেহ হিমবাহে ভেসে বা বরফের নিচে চাপা পড়ে গেছে বলে মনে করা হয়।

কে/পি