• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে অষ্টম বিস্ফোরণের পর কারফিউ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৩৪ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২৪
আজ রোববার সকালে এই সেন্ট অ্যান্থনি চার্চও বোমা হামলার শিকার হয়
শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোয় অষ্টম দফায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। তিনটি গির্জা, তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও একটি ইন-এ হামলার পর অষ্টম দফার এই হামলার ঘটনা ঘটলো। অষ্টম বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর আরটি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডের।

whirpool
শ্রীলঙ্কার পুলিশের বরাত দিয়ে অষ্টম দফার এই বিস্ফোরণের খবর ছেপেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তবে কোন স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বা কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা।

এর আগে সকাল থেকে সিরিজ বোমা হামলায় ৩৫ বিদেশিসহ কমপক্ষে ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে ইস্টার সানডের দিন তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে একযোগে চালানো এই হামলায় আরও চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যেসব স্থানে হামলা চালানো হয়েছে, এসব স্থানে পর্যটকদের বেশ আনাগোনা ছিল। হাসপাতালের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, নিহত বিদেশিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, কলম্বোর উত্তরে কাটুওয়াপিটিয়ার সেন্ট সেবাসটিয়ান চার্চে ৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই চার্চের কিছু ছবিতে দেখা গেছে, মাটিতে মৃতদেহ পড়ে রয়েছে, বিভিন্ন স্থানে রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং ছাদ ধসে পড়েছে।

গণমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় বাট্টিকালোয়া প্রদেশের একটি চার্চে হামলায় ২৫ জন নিহত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এরই মধ্যে একটি জরুরি বৈঠক করেছেন এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ২০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ ওই হামলার পর শ্রীলঙ্কার সব স্কুল দুই দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

হামলার পর শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, আমার দেশের জনগণের ওপর এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এই শোকের সময় আমি সব শ্রীলঙ্কান ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে এই হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল বা কারা এই হামলা হামলা চালিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

এর আগে পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারা জানান, ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলাবস্থায় স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি চার্চ, পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর নেগোমবোর সেন্ট সেবাসটিয়ান চার্চ এবং পূর্বাঞ্চলীয় বাট্টিকালোয়া শহরের একটি চার্চ ওই হামলার শিকার হয়েছে।

এছাড়া তিনটি পাঁচ তারকা হোটেল- সাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবারি হোটেলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, সাধারণত ইস্টার সানডের সময় শ্রীলঙ্কার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়