• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের কাছে ক্ষমা চাইলো অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৫৫ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০৪
পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন শিশু বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের কাছে জাতীয় ক্ষমা চেয়েছেন। সোমবার মরিসন যখন পার্লামেন্টে এ নিয়ে আবেগী বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন ক্যানবেরায় শত শত মানুষ হাজির হয়। খবর বিবিসির।

শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে পাঁচ বছর ধরে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শিশু নির্যাতিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মরিসন বলেন, আজ, অবশেষে আমরা স্বীকার করছি এবং আমাদের শিশুদের হারিয়ে যাওয়া চিৎকারের মুখোমুখি হচ্ছি। তিনি বলেন, যাদের ভুলে যাওয়া হয়েছে তাদের সামনে আমাদের বিনীত হতে হবে এবং তাদের কাছে আমাদের ক্ষমা চাইতে হবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে ওই তদন্ত শেষ হয়। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান- যেমন চার্চ, স্কুল ও স্পোর্টস ক্লাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আট হাজারের বেশি ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য নেয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কাঁপা স্বরে বক্তৃতা দেয়ার সময় ভুক্তভোগীদের দুর্দশার কথা স্বীকার করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, কেন ওই শিশুদের কান্না ও তাদের বাবা-মায়েদের কথা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল? কেন আমাদের বিচার ব্যবস্থা অন্যায়ের কাছে চোখ বন্ধ করেছিল? কেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এতো সময় লাগলো?

পার্লামেন্টে বিরোধী নেতা বিল শর্টেন বলেন, এই অন্যায়গুলোকে শুধরানো যাবে না। কিন্তু আজ জেনে রাখুন, অস্ট্রেলিয়া ক্ষমা চাইছে।

উভয় নেতার বক্তব্যের পর পার্লামেন্টে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।

এদিকে সাপোর্ট গ্রুপগুলো জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ও তাদের সমর্থকরা জাতির উদ্দেশ্যে ক্ষমার কথা শুনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্যানবেরায় ছুটে এসেছেন।

কেয়ার লিভারস অস্ট্রালাসিয়া নেটওয়ার্ক (ক্লান)-র প্রধান নির্বাহী লিওনি শিডি বলেন, তারা ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে হাজির হয়েছেন। এটা খুব দারুণ ব্যাপার যে আমাদের দেশ ক্ষমা চাইছে, কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকি।

আরও পড়ুন : 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়