logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীর কিডনি বিক্রি!

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৪৪ | আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৫৪
ভারতীয় উপমহাদেশে যৌতুক একটি অভিশাপ। যৌতুকের কারণে কত নারী ও পরিবার ধ্বংস হয়েছে, তার কোনও ইয়ত্তা নেই। এই অভিশপ্ত প্রথার বলি হয়েছে বহু নারী। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীর কিডনি বিক্রি করে দিয়েছেন তার স্বামী। এমন অভিযোগ করেছেন রীতা সরকার নামের ওই নারী। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

ফরাক্কার বিন্দুগ্রামের বাসিন্দা রীতার পরিবার যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, সোনার গয়না, আসবাবপত্র সবই দিয়েছিল। কিন্তু তারপরও আশ মেটেনি স্বামী বিশ্বজিৎ সরকারের। তিনি আরও দুই লাখ টাকা চেয়েছিলেন। আর সেই টাকা দিতে না পারায় স্বামী কিডনি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে শুক্রবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রীতা।

ফরাক্কা থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলছেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কলকাতার একটি নার্সিংহোমে ওই নারীর অ্যাপেনডিক্স অস্ত্রোপচারের নামে কিডনি কেটে পাচার হয়েছে। বিশ্বজিতের খোঁজে তল্লাশি চলছে। কলকাতার কোন নার্সিংহোমে এ কাজ হয়েছে, কারা জড়িত, তাও দেখা হচ্ছে।

তবে পুলিশ বিশ্বজিৎকে খুঁজে না পেলেও ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্টো বিশ্বজিতের দাবি, শ্বশুর ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছেন। তিনি আমার সম্পত্তিই হাতানোর জন্য এ কাজ করেছেন। তা হলে রীতার কিডনি? বিশ্বজিৎ বলছেন, আমার স্ত্রী তো স্বেচ্ছায় কিডনি দান করে দিয়েছে।

২০০৫ সালে লালগোলার কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী বিশ্বজিতের সঙ্গে বিয়ে হয় রীতার। তাদের ১১ বছরের এক ছেলেও রয়েছে। রীতার অভিযোগ, গত ১৩ বছর ধরে যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়িতে তাকে অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। আড়াই বছর আগে পেটের কারণে স্বামী বিশ্বজিৎ তাকে কলকাতার একটি নার্সিংহোমে নিয়ে চিকিৎসা করান।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় সাদ্দামের মেয়ের নাম
--------------------------------------------------------

রীতা বলেন, আমাকে বলা হয় অ্যাপেনডিক্স বাদ দিতে হয়েছে। তবে বিশ্বজিৎ বলেছিল, আমি যেন এই অপারেশনের কথা কাউকে না জানাই। কিন্তু তারপর থেকে আমি কাহিল হয়ে পড়ি। মাথা ঘুরতো। কিন্তু ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যেত না স্বামী।

রীতার বাবা মহাদেব হালদার বলছেন, মাস তিনেক আগে মেয়ে শিলিগুড়িতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসোনোগ্রাফি করানোর পরে জানা যায়, রীতার ডান দিকের কিডনি নেই। প্রথমে সেই রিপোর্টে বিশ্বাস হয়নি। ফের মালদহের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। সেখানেও একই রিপোর্ট মিলেছে। যৌতুকের আরও দুই লাখ টাকা দিতে পারিনি বলে জামাই যে মেয়ের এত বড় সর্বনাশ করে দেবে, তা ভাবতেই পারছি না।

আরও পড়ুন: 

এ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়