Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮

নতুন বিপদের সম্মুখীন মিয়ানমারের নারীরা 

নতুন বিপদের সম্মুখীন মিয়ানমারের নারীরা 
ছবি: আল-জাজিরা থেকে

খাইন থু। জুন মাসে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম সাগাইং অঞ্চলে তার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি। সৈন্যরা তার গ্রামে হামলা চালালে, তিনি জঙ্গলে আশ্রয় নেন। তিনি এখন পর্যন্ত কতবার পালিয়েছেন এর তার হিসাব নেই। তবে তিনি অনুমান করে বলেন, এখন পর্যন্ত ১৫ বার পালিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার

খাইন থু বলেন, সৈন্যদের আসার কথা শুনলেই আমরা দৌড়ে জঙ্গলে পালাই। সৈন্যরা চলে গেলে, আবার গ্রামে ফিরে আসি।

কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এরপর বিভিন্ন স্থানে তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। সেই প্রতিরোধ সামলাতে অনেক গ্রামে ঢুকে হামলা চালায় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হয় সাগাইং অঞ্চল। এপ্রিল থেকে সেখানে অভিযান শুরু করে সৈন্যরা।

১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় মিয়ানমারের ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই থেকে এই অঞ্চলে মোট ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দিপাইন ও কানি শহরের রয়েছেন ৭৩ জন। জুলাইয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যম গণহত্যার এই হিসাব তুলে ধরা হয়।

চলতি মাসে ক্যানিসহ সাগাইং অঞ্চলের ১০টি শহরের ইন্টারনেটসেবা বন্ধ করে দেয় সেনাবাহিনী। এরপর সেখানে তারা অভিযান ও হামলা চালায়।

দিপাইন শহরের সাতপায়ারকাইনের খাইন থুর গ্রামে সহিংসতা শুরু হয় ১৪ জুন। সেখানে সেনাবাহিনী নিযুক্ত প্রশাসকের দুই মেয়েকে কাছের একটি গ্রামে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর ওই দিনই সৈন্যরা গুলি করে একজনকে হত্যা করে। এরপর ২ জুলাই সৈন্যরা আবার সেখানে ফিরে আসে।

এনইউজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বিচারে গোলাবর্ষণ এবং ছোট অস্ত্রের গুলিতে সেখানে কমপক্ষে ৩২ জন স্থানীয় বাসিন্দা মারা যান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমান নাউ জানিয়েছে, এখন ১১টি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের বেশিরভাগই নারী। তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

জেএইচ/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS