Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

ক্ষমতায় তালেবান, দাঁও মারছেন ইমরান

ফাইল ছবি।

পাকিস্তান পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ায় আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান। দেশটিতে দ্রুত এই ক্ষমতার পট পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় মুহূর্তেই শক্তিশালী হয়ে গেল ইসলামাবাদের হাত। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

সেই প্রতিবেদনে লেখা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সরাসরি মদতপ্রাপ্ত তালেবান গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ পোক্ত হয়ে উঠবে আফগানিস্তানে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পাকিস্তানের গুরুত্ব বাড়ছে। আফগানিস্তানে ক্ষমতার দখল এখন তালেবানের হাতে। সেখানকার রাস্তা-ঘাট, বাজার-দোকান থেকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ— এখন সর্বত্র বন্দুক হাতে সামনে তারা। কিন্তু পেছন থেকে অনেকাংশেই কলকাঠি নাড়ছে পাকিস্তান।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তালেবান নেতৃত্ব যে কাঠামোতেই আফগানিস্তানে সরকার গঠন করুক বা দেশের নাম বদলে দিক, সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের ওপর তাদের নির্ভরতা অদূর ভবিষ্যতে বাড়বেই। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার জন্য ইসলামাবাদকে কাজে লাগানো শুরুও করে দিয়েছে তারা। বাণিজ্য (বিশেষত জরুরি পণ্য আমদানি), পণ্য চলাচল সমেত বিভিন্ন কাজে উন্মুক্ত পাক সীমান্ত ও ওই প্রতিবেশী দেশের বন্দর শহরগুলো তাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। তালেবান জানে, তারা ক্ষমতা দখল করেছে সামরিক শক্তি প্রয়োগে। তারা কূটনীতিতে অচ্ছুত। তাই তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রতি পদে দরকার হবে পাকিস্তানের মতো একটি দেশকে। ভৌগোলিক অবস্থানের প্রশ্নে যার গুরুত্ব আফগানিস্তানের কাছে সব থেকে বেশি। যারা বন্ধুভাবাপন্ন অথচ যেখানে এখনও ভোটে জিতে আসা সরকার রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা চীনের সঙ্গে যে দেশের সম্পর্ক মধুর।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের যে গভীর জাল ছড়ানো রয়েছে, তা ‘কেনার’ চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন। তারা ঘরোয়া রাজনৈতিক কারণে এখন অন্তত এটুকু নিশ্চিত করতে চাইবে যে, তালেবানি সন্ত্রাসের ঢেউ যেন কোনোভাবে আমেরিকার বুকে আছড়ে না পড়ে। আর এই আশ্বাসের বিনিময়ে চড়া দাম নেবে ইসলামাবাদ। এটি অবশ্য তারা আমেরিকার কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে নিয়ে এসেছে গত দেড় দশক। তা সে ইসলামাবাদের ওপর থেকে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ওঠানোই হোক বা এফএটিএফের নজরদারি থেকে মুক্তি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসলামাবাদের এই সম্ভাব্য বাড়বাড়ন্তে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন দিল্লি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকে শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে এই সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আফগান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সেখানে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই অগ্রাধিকার। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল প্রমুখ। বৈঠকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন সেদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রুদ্রেন্দ্র টন্ডন। তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের মুখে যাকে সদ্য দেশে ফিরিয়ে এনেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে এও উল্লেখ্য করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাবুলের পতন নিয়ে ফোনেও কথা বলেছেন জয়শঙ্কর। এছাড়া আফগানিস্তানে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নতুন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা কৌশল তৈরি নিয়ে সক্রিয়তা চরমে। তালেবানদের অস্ত্রঝঙ্কারের পেছনে যে প্রধান ইন্ধন, সেই ইসলামাবাদের গুরুত্ব বৃদ্ধিই প্রধান উদ্বেগ নয়াদিল্লির।

আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে পরিমার্জিত।

এম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS