Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

করোনায় কাজ হারিয়ে কিডনি বিক্রি করছে গ্রামবাসী!

করোনায় কাজ হারিয়ে কিডনি বিক্রি করছে গ্রামবাসী!
সংগৃহীত

গত দেড় বছর ধরে করোনাভাইরাস মহামারি ধাক্কা। তার সঙ্গে লকডাউন‌ের জেরে রোজগারশূন্য হয়ে পড়েছেন অনেক। তাই দুই বেলা দুই মুঠো খাবার জোগাড় করাটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তার এক চরম উদাহরণ ভারতের আসামের ধরমতুল গ্রাম। ইতোমধ্যেই এই গ্রামে অন্তত ১২ জনের সন্ধান মিলেছে, যারা দারিদ্রের ছোবল থেকে বাঁচতে তাদের কিডনি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

মানুষজনের দারিদ্র্য কাজে লাগালে জুটেছে দালালের দলও। পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই তারা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে একজন নারীও। জানা গেছে, ওই নারী ও তার ছেলে বিভিন্ন পরিবারের কাছে গিয়ে কিডনি বিক্রি করতে উসকানি দিতো। পুলিশ দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে। চক্রের মূলহোতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

৩৭ বছরের সুমন্ত দাস পেশায় রাজমিস্ত্রি। লকডাউনের পর থেকে আর কাজই পাননি সেভাবে। এদিকে তার ছেলের হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র। অপারেশন করাতেই হবে। অন্যদিকে ছোট সংস্থার থেকে নেয়া ঋণের বোঝাও রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ৫ লাখ রুপির জন্য নিজের কিডনি বিক্রি করে দেন তিনি। কিন্তু দালালরা তাকে দেড় লাখ রুপির বেশি দেননি। ওই টাকায় ছেলের অপারেশন হয়নি। এদিকে কিডনি হারিয়ে তিনিও হয়ে গিয়েছেন শক্তিহীন। জীবনে আর ভারী কাজ করতে পারবেন না।

গুয়াহাটি থেকে ৮৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই গ্রামে সুমন্তর মতো হতভাগ্য আরও অন‌েকই রয়েছেন। কৃষ্ণা দাস নামে এক নারী, যার স্বামী বিশেষভাবে সক্ষম, তিনিও একইভাবে দালালদের টোপে পা দিয়েছেন। কিডনি বেচে সাড়ে চার লাখ রুপি দেয়ার কথা বলা হলেও পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ রুপি। এদিকে মাথার উপরে ঝুলছে ৭০ হাজার রুপির ঋণের বোঝা। এখন এই চক্রকে নির্মূল করতে সচেষ্ট হয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে তদন্তও শুরু করেছে তারা।

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS